• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৩৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ দিনে রেকর্ড পরিমান পণ্য আমদানি : রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরন সম্ভব –  

bmahedi
প্রকাশিত জুন ১১, ২০১৯, ১৬:৩৯ অপরাহ্ণ
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ দিনে রেকর্ড পরিমান পণ্য আমদানি : রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরন সম্ভব –  

তানজীর মহসিন স্টাফ রিপোর্টার :

বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত তিন দিনে রেকর্ড পরিমান পন্য আমদানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুন বলে কাস্টম সুত্র জানায়। রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা পুরনে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ  দ্রুত শুল্কায়ন ও পণ্য খালাশে নতুন নির্দেশনা জারি করায়  বৃদ্ধি পেয়েছে আমদানি বানিজ্য।

গত রোববার বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী এ নির্দেশনা জারি করেন। নির্দেশনা জারির পরপরই পাল্টে যায় গোটা কাস্টমস ও বন্দরের কর্মতৎপরতা।

দিনের রাজস্ব দিনে আদায় করার শ্লোগানকে সামনে রেখে কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত  পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। ভারত -বাংলাদেশ যৌথভাবে আমদানি বানিজ্যকে  আরো  গতিশীল করতে  উচচ পর্যায়ের কাস্টমস কর্মকর্তারা গভীরভাবে কার্যক্রমগুলো মনিটরিং করছেন।

গত শনিবার বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বানিজ্য সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাংগুলী সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তরা ও ব্যবসায়ীরা।  উচ্চ শূল্কের পণ্য পরীক্ষন ও এসেসমেন্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে লোকবল বাড়ানো হয়েছে।

চলতি জুন মাস ব্যাপী  প্রতিটি কাস্টমস অফিসারকে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পান্ন করতে হচ্ছে। যে সব আমদানিকারকরা বিস্বস্ত ও সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই কেবলমাত্র তাদের পন্যই দ্রুত স্ক্যানিং করে ট্রাক- টু- ট্রাক খালাশের অনুমতি ও দেয়া হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের উপ- পরিচালক মামুনুর রহমান জানান, দ্রুত রাজস্ব আদায়ে কাস্টমস’র এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহন করায় গত ৩ দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে আমদানি বানিজ্য। রোববার আমদানি হয়েছে ৩৫৪  ট্রাক, সোমবার  ৪৪৫ ট্রাক ও মংগলবার আড়াইটা পর্যন্ত ৩৮২ ট্রাক মালামাল আমদানি হয়েছে। গতমাসে একই সময়ে যার পরিমান ছিল ২৫০ থেকে ২৭০  ট্রাক। রোববার রাজস্ব আদায়ের পরিমান ছিল ১১ কোটি, সোমবার ১২ কোটি ও আজ মংগলবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৮ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক  রকিবুল আলম জানান। তবে রাজস্ব ফাকি রোধে ব্যাপক কড়া কড়ি আরোপ করায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

চলতি অর্থ বছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা ৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আয়ও বাড়ছে ক্রমান্বয়ে। ফলে জুন মাসের মধ্যেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরন সম্ভব বলে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানান।তবে বেনাপোলের পাশ্ববর্তী ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পন্য আমদানির অনুমতি দেয়ায় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা ঐ বন্দরে চলে গেছে বলে বেনাপোলস্থ ব্যবসায়ী সংগঠন গুলো অভিযোগ করেছেন।

বেনাপোল সিএন্ড্ এফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সি: সহ -সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান জানান, কাস্টমস’র নতুন নির্দেশনা জারি করায় বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বানিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা পুরনের জন্য কাস্টমস কর্তৃপ ব্যাপক আইনী পরিবর্তন আনায় চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়’র লক্ষ্যমাত্রা  পুরন সম্ভব। তবে রাজস্ব ফাকি রোধে ব্যাপক কড়া কড়ি আরোপ করায় সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে চলে যাওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক প্রদশ কান্তি দাস জানান, কাস্টমস এর নতুন নির্দেশনা অনুয়ায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন আমদানিকৃত ৮’শ ট্রাক মালামাল আমরা বন্দরে প্রবেশ করাতে চাই। তবে ভারত চাহিদা মত ট্রাক দিতে ব্যার্থ হচ্ছে। বন্দরের বাই পাস সড়ক দিয়ে বেশ কিছু আইটেম চালু করায় যানজট নিরসন সম্ভব হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, আমদানি বানিজ্য ও রাজস্ব আদায় দ্রুত করতে বেশকিছু প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন আমদানি বেড়েছে তেমনি বেড়েছে রাজস্ব আদায়। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আশা করা যায় চলতি মাসেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরন সম্ভব হবে।

Sharing is caring!