• ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের পর এবার চোখ রাঙ্গাচ্ছে হোয়াইট ফাঙ্গাস

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত জুন ১, ২০২১, ১৭:৩২ অপরাহ্ণ
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের পর এবার চোখ রাঙ্গাচ্ছে হোয়াইট ফাঙ্গাস

বার্তাকণ্ঠ ডেস্ক ##

কোভিড নেগেটিভ, অথচ উপসর্গগুলি কোভিড রোগীর মতই। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, তাও নয়। এবার তার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে সাদা ছত্রাক অর্থাৎ হোয়াইট ফাঙ্গাস। সম্প্রতি বিহারেই বেশ কয়েকজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যেই বিহারে ব্যাপকহারে থাবা ফেলেছে ব্লাক ফাঙ্গাস। সম্প্রতি ভয়ঙ্কর চেহারা নিচ্ছে। এদিকে, বিহারের রাজধানী পাটনায় চারজন এমন রোগীর সন্ধান মিলেছে, যাদের শরীরে আবার বাসা বেঁধেছে সাদা ছত্রাক অর্থাৎ হোয়াইট ফাঙ্গাস। সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে পাটনার এক বিখ্যাত চিকিৎসকও রয়েছেন। মে মাসে কলকাতার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় করোনায় আক্রান্ত মাঝ বয়সী পুরুষকে। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ভেন্টিলেশনে রাখেন। তার জীবন বাঁচাতে স্টেরয়েড দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেরয়েড মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

বেশ কয়েকদিন আইসিইউতে থাকার পর কলকাতার হাসপাতালের রেই রোগী করোনামুক্ত হন। তিনি বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ডাক্তাররা লক্ষ্য করলেন ওই রোগী প্রাণঘাতী এক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত। কোন ওষুধ এই ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না।

ক্যানিডিডা অরিস (সি অরিস) নামের এই ফাঙ্গাসটি আবিষ্কার হয়েছে মাত্র কয়েক দশক আগে। হাসপাতালে সৃ্ষ্ট এই মাইক্রোবস বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছত্রাক হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্বব্যাপী  হাসপাতালের ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে’ সৃষ্ট জীবাণু মানুষের রক্তে সংক্রমণ ঘটায়। এই জীবাণুর সংক্রমণে মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ।

ভারতের মুম্বাইভিত্তিক ছোঁয়াচে রোগ বিশেষজ্ঞ ড. ওম শ্রিভাস্তভ বলেছেন, ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় রোগীদের মধ্যে এই ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বেড়েছে।

যেসব জীবানু সংক্রমণ বাড়ছে:
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ যখন পুরো ভারতকে নাস্তানাবুদ করে ফেলেছে, আইসিইউতে রোগীর জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। সে সময়ে আইসিইউতে সৃষ্ট ভয়ঙ্কর জীবানু সংক্রমণ বাড়ছে। প্রথমে লক্ষ্য করা গেছে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। মানুষের নাক, চোখ এবং কখনো কখনো মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটায় এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। প্রায় ১২ হাজার মানুষ ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ২শ’র বেশী। চিকিৎসকরা এখন অন্যান্য ফাঙ্গাসের সংক্রমণের কথাও বলছেন। যেসব রোগী ৭-১০ দিন আইসিইউ তে থাকছেন তাদের মধ্যে এসব ফাঙ্গাসের সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ক্যানডিডা ফাঙ্গাসের দুইটি ধরন পাওয়া গেছে। একটি অরিস এবং অন্যটি আলবিকানস। এই জীবানু প্রাণঘাতি। এ ধরণের আরেকটি জীবানু অ্যাসপারগিলাস। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। এটাও প্রাণঘাতি। এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ৫০ লাখ জীবানুর মধ্যে ক্যানডিডা এবং অ্যাসপারগিলাস সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। যা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

ক্যানডিডা এমন একটি জীবাণু যেটা যেকোন কিছুর (সারফেস) উপর নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে। গোসলখানার পর্দা, কম্পিউটারের স্ক্রিন, চিকিৎসকের স্টেথোসস্কোপ ইত্যাদি যেকোন জায়গায় সে ঘাপটি মেরে থাকতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন সি অরিস খুব দ্রুত রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শ্বাসতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, অভ্যন্তরীণ অঙ্গ এমনকি ত্বকের মধ্যেও এটি সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

অ্যাসপারগিলাস ও পরিবেশে ভেসে থাকতে পারে। এই জীবাণু ‘হিটিং সিস্টেম’ ও শীতাতপ যন্ত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এসব জীবানুকে প্রতিহত করে। কিন্তু কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীরা সহসাই এসব জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে।

ফাঙ্গাস থেকে সংক্রমণের লক্ষণ
প্রাণঘাতি এসব জীবাণু সংক্রমণের লক্ষণগুলো বেশীরভাগ সময় করোনা সংক্রমণের লক্ষণের মতো। যেমন জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা এবং শ্বাস কষ্ট।

ক্যানডিডা সংক্রমণের লক্ষণের মধ্যে করোনা লক্ষণের পাশাপাশি রোগীর মুখের ভেতরে বা গলায় সাদা ক্ষতও দেখা যেতে পারে। রক্ত প্রবাহে এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, পেটে ব্যথা হতে পারে।

এসব জীবানু সংক্রমণের কারণ কী
করোনা আক্রান্ত রোগীদের ৫% খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হতে পারে। যেসব রোগীকে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা দিতে হয় তারা এসব জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।

ওষুধ এবং স্টেরয়েড এর অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও এসব জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত ওষুধ এবং স্টেরয়েড করোনা রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

এসব জীবাণু শনাক্ত করাও অনেক কঠিন। কারণ ফুসফুসের ভেতর থেকে নমুনা নিয়ে এর পরীক্ষা করতে হয়। শনাক্ত করা যেমন কঠিন তেমনি এর চিকিৎসাও অনেক জটিল। চিকিৎসকরা বলছেন, এসব জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করা হেরে যাওয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সমান।

Sharing is caring!