• ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ২:২৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ভ্যাকসিন হিরো শেখ হাসিনা

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
রোকনুজ্জামান রিপন।। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননা দিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেন জিএভিআই বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এনগোজি অকোনজো-আইয়েলা।

পুরস্কার গ্রহণের পর বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এ সম্মাননা উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ আমি যে পুরস্কার পেয়েছি এটি আমার নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের এবং আমি তাদের এই সম্মাননা উৎসর্গ করছি।’ লিখিত বক্তব্যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ‘সবার জন্য ভ্যাকসিন’ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন ড. এনগোজি অকোনজো। নাইজেরিয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এনগোজি অকোনজো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও টুইটারের অন্যতম বোর্ড সদস্য। তিনি বলেন, ‘যারা শিশুদের জীবন রক্ষায় জরুরি টিকাদানে উদ্যোগী হয়েছেন এবং কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিতে কাজ করেছেন তাদের জন্যই এ পুরস্কার। শুধু টিকাদানই নয়, শিশু অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নেও শেখ হাসিনা একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীর শিশুরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুস্বাস্থ্যের অধিকারী প্রজন্মের অত্যন্ত প্রয়োজন। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নতুন প্রজন্মই শুধু পারে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ থেকে পোলিও, কলেরাসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি দূর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে জিএভিআইর সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ অনুযায়ী সবার জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিপূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে রাখাইন রাজ্য থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে প্রবেশ করায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম এবং নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ইমিউনিটি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব রোহিঙ্গা মিয়ানমারে কোনো স্বাস্থ্যসেবা পায়নি।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সফলভাবে কলেরার টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, ডিপথেরিয়া ও হাম ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রথম ২০১৭ সালে টিকাদান ক্যাম্পেইনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য জিএভিআইর সমর্থিত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সকল জনগণের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি ইহসানুল করিম প্রমুখ। জিএভিআই সংস্থাটি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স নামেও পরিচিত। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দুনিয়াজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখছে সংস্থাটি। সূত্র : বাসস।

Sharing is caring!