• ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

মণিরাপুরে রিকশাচালকের স্ত্রী উদ্বোধন করলেন রাস্তা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২১, ১৯:৫৩ অপরাহ্ণ
মণিরাপুরে রিকশাচালকের স্ত্রী উদ্বোধন করলেন রাস্তা
যশোর ব্যুরো।। 
যশোরের মণিরাপুরের জলকর রোহিতায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার হওয়া ৫০০ ফুটের একটি ইটের রাস্তা উদ্বোধন করেছেন স্বপ্না খাতুন নামে এক গৃহিণী। তিনি রিকশাচালক রবিউল ইসলামের স্ত্রী।
শুক্রবার (১ অক্টোবর) বিকালে মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানমের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে রাস্তা উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা হাসেম আলী, আলতাফ হোসেন, শেখ রাশেদ আলী, ইউপি সদস্য মহিতুল হোসেন, মাস্টার দেবাশীষ বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিতি ছিলেন।
এর আগে, ৯ আগস্ট কর্দমাক্ত রাস্তায় এক নারীর রিকশা ঠেলার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায়, কাদার মধ্য দিয়ে রিকশা টেনে নিচ্ছেন চালক রবিউল ইসলাম। পেছন থেকে ঠেলছেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। ভাইরাল ছবিটি দেখে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম রাস্তাটি পরিদর্শনে যান। তখন তিনি রাস্তাটি সলিং করার উদ্যোগ নেন। শুক্রবার নিজে উপস্থিত থেকে সেই রিকশাচালকের স্ত্রীকে দিয়ে ফিতা কাটিয়ে রাস্তাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করান।
রিকশা নিয়ে কাদা রাস্তা পার হাতে স্বামীকে সহায়তা করেন স্বপ্না, ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘ফেসবুকে ছবিটি দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। একজন নারী তার স্বামীর রিকশা ঠেলে মূল রাস্তায় তুলে দেয় নিয়মিত। বিষয়টি আমাকে নাড়া দেয়। এরপরই এডিবির অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে রাস্তাটি করে দিয়েছি। ভেবেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে সড়কটির উদ্বোধন করবো। কিন্তু অনেক প্রোগ্রাম থাকায় সেদিন সম্ভব হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি উদ্বোধন ওই নারীই করেছেন। কেননা এটি সংস্কারে তার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।
উল্লেখ্য, জলকর রোহিতা দক্ষিণপাড়ায় পাকা সড়কের পাশে একটি কাদার রাস্তা ছিল। বর্ষায় রাস্তাটিতে হাঁটু পরিমাণ কাদা হতো। ওই রাস্তার ধারে ২০-৩০টি বাড়ি রয়েছে। এগুলোর বাসিন্দারা অধিকাংশই রিকশা বা ভ্যানচালক। কাদায় ভ্যান-রিকশা নিয়ে যাতায়াতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। ওই কাদা মাড়িয়ে নিয়মিত রিকশা আনা-নেওয়া করতে হতো রবিউল ইসলামকে। তিনি হার্টের রোগী হওয়ায় কাদায় রিকশা টানতে কষ্ট হতো। তখন স্বপ্না বেগম রিকশা ঠেলে স্বামীকে সাহায্য করতেন।

Sharing is caring!