• ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:০৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

মিয়ানমারের হাতে রাসায়নিক অস্ত্র মজুত থাকার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

bmahedi
প্রকাশিত নভেম্বর ২৬, ২০১৯, ১৮:২৫ অপরাহ্ণ
রোকনুজ্জামান রিপন :=

মিয়ানমারের হাতে নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ থাকতে পারে। একই সঙ্গে তারা রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ বিষয়ক বৈশ্বিক কনভেনশন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল উইপনস (ওপিসিডব্লিউ)-এর বার্ষিক সভায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি থমাস ডি নান্নো এমন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির ‘ঐতিহাসিক’ একটি স্থাপনায় এখনও অস্ত্র থাকতে পারে। ওই স্থাপনা থেকে প্রস্তুত করা হতো বিষাক্ত মাস্টার্ড গ্যাস। এমন রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, মজুদ ও ব্যবহার বন্ধ বিষয়ক কেমিকেল উইপনস কনভেনশনে (সিডব্লিউসি) স্বাক্ষরকারী দেশ মিয়ানমার। তবে থমাস ডি নান্নো বলেছেন, ওয়াশিংটনের হাতে তথ্য রয়েছে যে, ১৯৮০র দশকে মিয়ানমারে রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক কর্মসুচি ছিল। এর মধ্যে ছিল সালফার সমৃদ্ধ মাস্টার্ড গ্যাস তৈরি বিষয়ক কর্মসুচি এবং রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন বিষয়ক স্থাপনা। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সার্টিফাই করে যে, সিডব্লিউসির বিষয়ে অসম্মতি রয়েছে মিয়ানমারের। কারণ, তারা তাদের অতীতের রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক কর্মসূচি ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক স্থাপনা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে এমন অস্ত্র মজুত করা এবং ব্যবহার করার অভিযোগ আছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে।২০১৩ সালের পার্লামেন্টারি একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগের বছর একটি কপার বা তামার খনিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফসফরাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। এতে বহু মানুষের দেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ৫ জন সাংবাদিককে ১০ বছরের কঠোর সশ্রম জেল দেয় মিয়ানমার। অভিযোগ, তারা সেনাবাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে রিপোর্ট করেছিলেন। পরের বছর মিয়ানমার সরকার দেশটির উত্তরাঞ্চলে কাচিন সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওইসব কাচিন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে। কিন্তু সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতসব কিছুর পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এসব ইস্যুতে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন। তাদের ওইসব অস্ত্র ধ্বংস করতে মিয়ানমারকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত এমনটা জানিয়ে দিয়েছে।

Sharing is caring!