• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:০৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

মৃত্যুঝুঁকিতে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হতদরিদ্র শিশু

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ২০:১৪ অপরাহ্ণ
মো: ইদ্রিস আলী।। 
যশোরের মণিরামপুরে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের হতদরিদ্র এক শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে। বর্তমানে সে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা নিতেও পারছে না সে। মণিরামপুর উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কিবরিয়া তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। এ ঘটনাটি যশোরের সর্বত্র আলোচিত হলেও ওই কিশোরীর পাশে নারী সংগঠনগুলোকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক নিলুফার ইয়াসমিন জানান, গর্ভবতী মেয়েটি নিজেই এখনও শিশু। একারণে তার অবস্থা বেশ জটিল। এজন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে স্বজনরা তাকে নিতে পারছেন না। আগামী ১৭ অক্টোবর ডেলিভারির ডেট রয়েছে। এর আগেও হতে পারে। তবে কিশোরী হওয়ার কারণে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

মেয়েটির বাবা জানান, মণিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা। তিনি মণিরামপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। কিশোরীর মায়ের সঙ্গে তার তালাক হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি যশোরে নানাবাড়ি থাকতো। গত বছর তার মেয়েকে বাসায় কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করাবেন বলে যশোর থেকে মণিরামপুরে নিয়ে যান কিবরিয়া। মেয়েটি তাকে নানা বলে ডাকতো। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ফাঁকা থাকায় কিবরিয়া তার মেয়েকে প্রথম ধর্ষণ করতে যায়। মেয়েটি বাধা দিলে তার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি পরে কিবরিয়ার স্ত্রী রওশন আরাকে জানালে তিনি বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শাসায়। এরপর কয়েকদফা তাকে ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আবারো তাকে ধর্ষণ করা হয়। মাসতিনেক আগে মেয়েটির শরীর খারাপ করলে তাকে যশোরে একজন পল্লী চিকিৎসককে দেখানো হয়। প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক জানান, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আল্ট্রাসনো করে দেখা যায় সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ১ জুলাই মেয়েটির বাবা মণিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন।

মণিরামপুর থানার এসআই এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৌমেন বিশ্বাস শুক্রবার বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি যশোর জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মেয়েটি ৩৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সে ও তার গর্ভের শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গর্ভের শিশুটির গ্রোথ তেমন নয়। সেকারণে ডাক্তাররা তাকে খুলনায় রেফার করেছেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার যেতে চাচ্ছে না। তিনি বলেন, অভিযুক্ত কিবরিয়াকে ১ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিলা নূরিয়া জানান, একটি শিশু আরেকটি শিশুকে ধারণ করেছে। এখনো তার প্রসবের সময় হয়নি। তবে, সে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে গর্ভবতী ও তার গর্ভস্থ সন্তান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একদিকে অর্থের অভাব; অন্যদিকে অনাগতের পিতার পরিচয় আর সমাজের তিরস্কার শান্তি কেড়ে নিয়েছে পরিবারটির। এমন পরিস্থিতিতে সুবিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা। তবে পরিবার ও কিশোরীর পাশে দাঁড়ায়নি কোনো নারী সংগঠন। এ ব্যাপারে যশোর মহিলা পরিষদের অর্থ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার রিনি জানান, আমরা বৃহস্পতিবার সংগঠনে কয়েকজন আলোচনা করে হাসপাতালে যেতেও চেয়েছিলাম। পরে শুনি খুলনায় চলে গেছে তাই যাওয়া হয়নি। আর সংগঠনের সভাপতি আফরোজা শিরিন জানান, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। আমরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করব।

Sharing is caring!