• ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

মেরামতের পর ৬ ঘণ্টাও টেকেনি হরিশখালী বেড়িবাঁধ

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২১, ১৮:৪২ অপরাহ্ণ
মেরামতের পর ৬ ঘণ্টাও টেকেনি হরিশখালী বেড়িবাঁধ

সাতক্ষীরা ব্যুরো ##

সাতক্ষীরায় মেরামতের পর ছয় ঘণ্টাও টেকেনি আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হরিশখালী বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় স্থানীয় সহস্রাধিক গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে শুক্রবার (৪ জুন) দুপুরে হরিশখালী বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে।

মেরামতের কয়েক ঘণ্টা পর ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। হরিশখালীর বাঁধের দক্ষিণ-পশ্চিমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে পূর্বের ন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

স্থানীয় রহমত আলী জানান, স্থানীয় লোকজন পাউবোর সহযোগিতায় হরিশখালী ভাঙনকবলিত এলাকায় রিং বাঁধ দেওয়া শুরু করেন সপ্তাহখানেক আগে। শুক্রবার বেলা ১টার দিকে রিং বাঁধ দেওয়া শেষ হয়। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে জোয়ারে আবার বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে প্রতাপনগর, মান্দারবাড়িয়া ও কল্যাণপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছেন। হরিশখালী এলাকার বাসিন্দা আবু নাসিম বলেন, রিং বাঁধ দেওয়ার পর আবার যখন সন্ধ্যায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছিল, তখন মাইকিং করেও গ্রামের লোকজনকে বাঁধের কাছে আনা যায়নি। যে কারণে বাঁধটির ভাঙন আটকানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদ বলেন, চূড়ান্তভাবে বাঁধে বালুর বস্তা দেওয়ার পরে সেখানে ২০০ শ্রমিক রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। যদি সেখানে শ্রমিক রাখা হতো, তাহলে বাঁধ ভাঙার সময় তা রক্ষা করা সম্ভব হতো। এদিকে ঠিকাদারের পক্ষে তদারকির দায়িত্বে থাকা আফ্রিদি হোসেন বলেন, বাঁধটি বাঁধা যখন প্রায় শেষ ঠিক তখনই শ্রমিকরা কাজ অসম্পন্ন রেখে চলে যায়। আর মাত্র ৩০ মিনিট কাজ করলে বাঁধটি ভাঙত না। কিন্তু শত অনুনয় করেও শ্রমিকদের রাখা যায়নি।

প্রতাপনগর এলাকার বেড়িবাঁধ তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর শাখা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে হরিশখালীতে ১১০ মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। ঐ স্থানের পানি আটকাতে ৩১০ মিটার রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ২৫-২৬ মিটার আবার ভেঙে গেছে। যেসব মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন, যদি তারা আরো ৩০ মিনিট কাজ করতেন, তাহলে এই সমস্যা হতো না। বাঁধের ভাঙন পয়েন্ট মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!