• ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৪:৪০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

মেহগনির জৈব বালাইনাশক এখন জনপ্রিয়

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত অক্টোবর ৪, ২০২১, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
মেহগনির জৈব বালাইনাশক এখন জনপ্রিয়

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট ।।
কৃষিতে ফসল চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলছে। মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটি, পানি, বায়ু দূষিত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ও প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
এ সংকট উত্তরণে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা দেশীয় পদ্ধতিতে নিম, মেহগনির ফল, বাকল ও পাতা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে নিজ হাতে তৈরি করছেন জৈব বালাইনাশক। এই ভেষজগুনকে কাজে লাগিয়ে তারা সফলতাও পাচ্ছেন।
এই জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে সবজির পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি ধান ক্ষেতের মাজরা পোকা ও পাতা মোড়া পোকা দমনে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে এ ভোষজ। কীটনাশকের পরিবর্তে এর ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ রোধের পাশাপাশি সাশ্রয় হচ্ছে কৃষকের বাড়তি খরচ।
সবার জন্য সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিরাপদ খাদ্য-এই লক্ষ্যে ক্ষতিকর কীটনাশক বিকল্প উদ্ভাবনী কৌশল তৈরি করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার তুষার কান্তি রায়।
তার সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকগণ বাড়িতে মেহগনি ও নিম ফল দ্বারা তৈরি করছেন জৈব বালাইনাশক। কৃষকরা জমিতে প্রয়োগ করে এর সুফল পাচ্ছেন। তিনি এর ব্যাপকতা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন ব্লকে কৃষকদের নিয়ে করছেন উঠান বৈঠক। শেখানো হচ্ছে এর তৈরি প্রক্রিয়া।
কৃষকগণও এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
তিনি এর প্রস্তত প্রণালী সম্পর্কে জানান, মেহগনির ফল, বাকল ও পাতার নির্যাস দুইভাবে প্রস্তুত করা যায়। প্রথমত- ৩ দশমিক ৩৫০ কেজি মেহগনির ফল, বাকল ও পাতা ভালোভাবে পিষে গুড়া করে নিতে হবে। তারপর ১০ লিটার পানিতে গুড়া গুলোকে নেড়ে দিয়ে ৪-৫ দিন জাগ দিয়ে রেখে এরপর মিশ্রনটিকে ছাঁকনি দিয়ে নিয়ে ২০ গ্রাম সাবানের গুড়া মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত- ২ থেকে ৩ কেজি মেহগনির ফল, বাকল ও পাতা অথবা ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ফল বা পাতার গুড়া ৫ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে তাতে ১০ গ্রাম তুঁত, ৫ গ্রাম সোহাগা মিশ্রিত করে ২০ মিনিট উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নেয়ার পর ঠান্ডা করে ছেঁকে নিয়ে ২০ গ্রাম সাবানের গুড়া মিশিয়ে মিশ্রনে ৫ গুন পরিমান পানি মিশাতে হবে। প্রস্ততকৃত জৈব বালাইনাশক ২-৩ দিনের মধ্যে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, এটি ৭ দিন পর পর ৩ বার প্রয়োগ করলে ধানসহ ফুলকপি, বাধাকপি, ভুট্টা, টমেটো, শিম ও বরবটি ক্ষেতে প্রয়োগ করে লেদাপোকা ও ইঁদুর দমন করা যায়। বালাইনাশক তৈরির পর উচ্ছিষ্টাংশ জমিতে সার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এতে মাটির স্বাস্থ্যও ভালা থাকে। ওই জৈব বালাইনাশক তিতার কারণে পোকা নাশক হিসাবে কাজ করে। এবং স্প্রে কারী ব্যক্তির কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে না।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পুটিমারী কালিকাপুর গ্রামের নাজমুল ইসলাম ১ বিঘা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রমের আতাউর রহমান ১ বিঘা জমিতে নিজ হাতের প্রস্ততকৃত মেহগনির বালাইনাশক স্প্রে করে ধানের মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা দমনে সফলতা পেয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন,নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এই জৈব বালাইনাশকের বিকল্প নেই। প্রাকৃতিকভাবে তৈরী  জৈব বালাইনাশক বিকর্ষণ হিসাবে কাজ করে। ধানসহ অন্যান্য ফসলে স্প্রে করলে পোকা মাকড়ের জন্য স্বাধ যুক্ত না হওয়ায় ওই ফসলে পোকা আক্রমন করতে পারে না।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Sharing is caring!