• ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ২০:০৯ অপরাহ্ণ
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই
মো: হাফিজুর রহমান ।। 

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় যাবতীয় নথি হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। মামলায় ৪ আসামির তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি একজন রয়েছে অজ্ঞাত।

ভিকটিম প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন প্রধান অভিযুক্ত এসআই খায়রুলসহ তার সাথে থাকা সোর্সরা তাকে ধর্ষন করেছে।পরে দাবি করেছেন ভয়ে এসআই খায়রুলের নাম বলতে পারেননি। ফলে মামলার অজ্ঞাত আসামি সনাক্ত করায়ই এখন পিবিআই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে অপরাধী সনাক্তে ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতে আবেদনও করেছেন তিনি।

পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলার ডকুমেন্টস হাতে পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছি। অপরাধী সনাক্তে ডিএনএ টেস্টসহ যা যা করণীয় সব কিছুই করা হবে।

পিবিআই জানান, ২ সেপ্টেম্বর শার্শা উপজেলার লহ্মণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গভীর রাতে যায় এসআই খায়রুল সহ  ৪ সোর্স। তারা ওই গৃহবধূর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে যে তার স্বামীর কেস হালাকা করে দেয়ার জন্য। কিন্ত টাকা না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও কামরুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর ভিকটিম শার্শা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত একজনের নামে মামলা করেন।

মামলাটি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পিবিআই যশোর। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হচ্ছন, ইন্সপেক্টর শেখ মোনায়েম হোসেন। দায়িত্ব পেয়েই ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি ওই গৃহবধূর বাড়ি গিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোনায়েম হোসেন জানান, ভিকটিমের সোয়াপ সংগ্রহ করে ডিএনএ প্রোফাইলের জন্যে সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাওয়া ধর্ষণের আলামতের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত তিনজনের ডিএনএ টেস্ট করাতে আদালতে আবেদন করেছে পিবিআই।

প্রধান অভিযুক্ত এসআই খায়রুল আলম প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি তদন্তের বিষয়, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে আইন  অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেন, ভয়ে সেদিন রাতে এসআই খায়রুলের নাম বলতে পারেননি।

ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যেরও কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার  ডা. আরিফ আহমেদ জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে, তবে সেখানে কার কার বীর্য রয়েছে তা জানতে ডিএনএ টেস্ট প্রয়োজন। যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, তদন্ত কমিটি তিন কারয দিবসের মধ্যে অর্থাৎ রোববার প্রতিবেদন জমা দিবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Sharing is caring!