যশোরে প্রচন্ড খরায় রেণুপোনা উৎপাদনে বিপর্যয়

62
যশোর ব্যুরো ## যশোরে গত কয়েক দিন ধরে চলছে তীব্র খরা। এতে করে চরম বিপাকের  মধ্যে রয়েছে রেণুপোনা উৎপাদনের সাথে জড়িতরা। কেননা প্রচন্ড খরায় রেণুপোনা উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে এই খাতের সাথে যারা জড়িত তাদের প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে জানান হ্যাচারি মালিকরা। এবার রেনুপোনা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা  ধরা হয়েছে দেড় লাখ কেজি। তারই ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে উৎপাদন। কিন্তু  লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও উৎপাদন হবে না বলে আশঙ্কা করছেন হ্যাচারি মালিকরা।

 

মার্চ মাস থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত রেণুপোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুম। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ রেণুপোনা যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। চাঁচড়া মৎস্য পল্লীর ৪২ টি হ্যাচারিতে গত বছর প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কেজি রেণুপোনা উৎপাদন করা হয়েছিল। রেণুপোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারি মালিকরা বলছেন, গত বছর করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমিক সংকট, পোনার দাম কমে যাওয়া এবং বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে হ্যাচারিগুলো বন্ধ করতে তারা বাধ্য হয়েছিলেন।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি  ও ফাতেমা হ্যাচারির সত্ত্বাধিকারী ফিরোজ খান জানান, যশোরে গত বছর আমরা দেড় লাখ কেজি রেণুপোনা উৎপাদন করেছিলাম। করোনায় অনেক হ্যাচারি বন্ধ রেখেছিল। চলতি  মৌসুমে পুরোদমে সবাই উৎপাদন  শুরু করলেও প্রচন্ড  খরায় তা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এবছর লক্ষ্য মাত্রার অর্ধেকে নেমে আসবে উৎপাদন। এতে হ্যাচারি মালিকদের প্রায় ৪০ কোটি টাকার অর্থিক ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আগে  আমরা বিদ্যুৎ বিল দিতাম কৃষিরেটে। এখন সেখানে দিতে হচ্ছে শিল্পরেটে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। জেলা মৎস  অফিস সূত্রে জানা গেছে বরাবরই রেণু পোনা উৎপাদনে যশোর গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা  পালন করে আসছে। এ জেলায় ৪২ টি হ্যাচারিতে রেণু পোনা উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে কার্প জাতীয় রেণু পোনা উৎপাদন ৬৪ দশমিক ৮৬ মেট্রিকটন। জেলায় রেণু পোনার চাহিদা ১৫ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন। উদ্বৃত ৪৯দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। তেলাপিয়া পোনা ১০১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন উৎপাদন হচ্ছে। জেলার চাহিদা রয়েছে ৯৮ দশমিক ৮৫ টন। তেলাপিয়ার উদ্বৃত ৬ দশমিক ৫৫ টন। পাঙ্গাস রেণু উৎপাদন ৩ দশমিক ৬২ মেট্রিকটন এবং শিং মাগুর, পাবদা. গুলসা রেণু উৎপাদন শূন্য দশমিক ৮৫ মেট্রিকটন।

এছাড়াও যশোরে মোট ৫১ টি বাঁওড় রয়েছে। যার আয়তন ১৮ হাজার ৮৪ হেক্টর। মূলত এসব বাঁওড় থেকেও মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত মাছ দেশের অর্ধেক চাহিদা মিটিয়ে থাকে। যশোরের হ্যাচারিগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, বিগহেড, থাইসরপুটি, মিনার কার্প, জাপনি, চিতল, আইড়, তেলাপিয়া, মনোসেক্র তেলাপিয়া, শিং, কৈ,পাঙ্গাস প্রভৃতি মাছের পোনা উৎপাদন করে থাকে।

হ্যাচারির পাশাপাশি যশোরে ৫/৬ হাজার নার্সারি রয়েছে। জেলার ২ লাখ লোক মাছ উৎপাদন, চাষ এবং এই সংশ্লিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার জানান সবসময় আমাদের প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে রেণুপোনা উৎপাদন করতে হয়। প্রচন্ড গরমে ব্যাহত হয় রেণুপোনার উৎপাদন। করোনার প্রভাবে ভরা মৌসুমে উৎপাদন করতে পারছি না এছাড়ও চলমান লকডাউনে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। বাহির থেকে রেণু পোনা কিনতে মৎস্য ব্যবসায়ীরা আসতে পারছে না। এছাড়াও এখাতের সাথে জড়িত  ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

মৎস্য চাষি বজলুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবের সাথে তীব্র খরায় রেণু পোনা উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস ও প্রচন্ড খরায় আমাদের মৎস্য  সেক্টরে পড়েছে। তীব্র খরায় রেণুপোনার উৎপাদন কম হয়ে হয়ে গেছে। যার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।