• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৪৪
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

যশোরে হাসপাতালে রশিদ ছাড়া নগদ টাকা নিয়ে প্যাথলজী পরীক্ষা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২১, ১৫:১১ অপরাহ্ণ
যশোরে হাসপাতালে রশিদ ছাড়া নগদ টাকা নিয়ে প্যাথলজী পরীক্ষা

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল

শহিদ জয়, যশোর ।।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষার করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্বরত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহর নির্দেশে প্রকাশ্যে এই অনিয়ম করা হচ্ছে। বর্তমানে ইলেক্টোরাইড পরীক্ষার কোন রাজস্ব জমা হচ্ছে না। আত্মসাত করা টাকার একটি অংশ পৌঁছে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্মকর্তার কাছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া করা পরীক্ষা- নিরীক্ষার নগদ টাকা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ দিনে ১৭ জনের ইলোক্টোরাইড পরীক্ষার টাকা গায়েব করার সত্যতা মিলেছে। এরমধ্যে ১৭ আগস্টের খাতার ৫ নম্বর সিরিয়ালে আখি, ১৪ নম্বর সিরিয়ালে নুরজাহান, ২৪ নম্বর সিরিয়ালে মোজাফ্ফর , ৩৫ নম্বর সিরিয়ালে হাওয়া, ১৮ আগস্টের খাতায় ৯৫ নম্বর সিরিয়ালে বিমল সরকার, ১৯ আগস্টের খাতায় ৫ নম্বর সিরিয়ালে রেজাউল ইসলাম, ৩০ নম্বর সিরিয়ালে জান্নাতি, ৩৭ নম্বর সিরিয়ালে গনি, ৬৫ নম্বর সিরিয়ালে রেজাউল, ৭৯ নম্বর সিরিয়ালে আকাশ, ৮২ নম্বর সিরিয়ালে নুরজাহান, ৮৮ নম্বর সিরিয়ালে হাবীব, ২১ আগস্টের খাতার সিরিয়ালে ১০ নম্বর সিরিয়ালে তৌহিদুর রহমান, ৬৭ নম্বর সিরিয়ালে শহিদুল ইসলাম, ২৩ আগস্টের ১৯ নম্বর সিরিয়ালে শহিদুল, ৩৩ নম্বর সিরিয়ালে জব্বার ও ৬৯ নম্বর সিরিয়ালে নুরজাহান। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া ইলেক্টোরাইড পরীক্ষা করতে আসা প্রতি জনের কাছ ২৫০ টাকা করে নেয়া হয়। এতো গেলো শুধু ইলেক্টোরাইড পরীক্ষার হিসেব। এছাড়া আরো অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়ম তো আছেই। সূত্র বলছে, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালে মে মাসে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হয়। কিন্তু ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়াই প্যাথলজি বিভাগে নগদ টাকা গ্রহণে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহর নির্দেশে এই অনিয়ম করা হচ্ছে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, প্যাথলজি বিভাগের আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা নয়। অথচ তা করা হচ্ছে না। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদের অর্থ ছাড়া আর কোন টাকা রাজস্ব খাতে জমা করা হয়না। প্যাথলজি বিভাগে প্রকাশ্যে নগদ টাকা গ্রহণ করে তা ভাগাভাগি হচ্ছে। এতে করে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া গ্রহণ করা টাকার একটি অংশ চলে যাচ্ছে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ আহমেদের কাছে। এই বিষয়ে প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা না বলে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করার পরামর্শ দেন। প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হাসান আব্দুল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য কয়েকবার তার দফতরে গেলে তিনি কাজে ব্যস্ততার অজুহাত দেখান। তার  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মিটিংয়ে আছি বলে নানা অজুহাত দেখান। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, প্যাথলজি বিভাগে আর্থিক দুর্নীতি দীর্ঘদিনের। ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া পরীক্ষা নিরীক্ষার হাজার হাজার টাকা লোপাট করা হয়। আল্টিমেটাম দিয়েও অনিয়ম বন্ধ করা যায়নি। যে কারণে ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া পরীক্ষার নিরীক্ষার কিছু টাকা তার কাছে জমা রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, ক্যাশ কাউন্টারের রশিদ ছাড়া কখনো পরীক্ষার নিরীক্ষার টাকা জমা নিতে পারেন না। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি অনেক পুরাতন। এই প্রথা পরিবর্তনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।তিনি জানান,অচিরেই এর স্বচ্ছতা আসবে।

Sharing is caring!