• ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

যুবলীগের নেতৃত্বে পরশ ও নিখিল

bmahedi
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০১৯, ১৭:০৭ অপরাহ্ণ
রোকনুজ্জামান রিপন :=

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবলীগের ৭ম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে এ ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই সংগঠনটির চেয়ারম্যান হিসেবে পরশের নাম প্রস্তাব করেন চয়ন ইসলাম, আর তাকে সমর্থন করেন সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। এরপর আর কোন নাম প্রস্তাব না আসায় শেখ ফজলে শামস পরশ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এরকিছুক্ষণ পর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাইনুল হোসেন খানের নাম ঘোষণা করা হয়।

ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে যুবলীগ। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটির ওপর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে। সেই অবস্থা থেকে সংগঠনটিকে পুনরুদ্ধার করতে ক্লিন ইমেজের নেতা উপহার দেয়ার কথা বলে আসছিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

নতুন চেয়ারম্যান পরশ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার দুই ছোট ভাই সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী)। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। অন্যদিকে লিটন চৌধুরী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক। চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে রয়েছেন। শেখ সেলিমও এক সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

শেখ সেলিমের ভগ্নিপতি অর্থাৎ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান পরশের ফুফা ওমর ফারুক চৌধুরী গেল মেয়াদে যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। নানান বিতর্কে জড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আজকের সম্মেলনেও আসতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে নতুন সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা-উত্তরকালে যুবকদের রাজনৈতিক শিক্ষায় সচেতন করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৪ সালে প্রথম যখন জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ৩৩ বছর বয়সী শেখ ফজলুল হক মনি। সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে নেতৃত্বের বয়সসীমা ৪০ বছর থাকলেও ১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় কংগ্রেসের পর বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়। দীর্ঘদিন যুবলীগ নেতৃত্বের বয়স নিয়ে সমালোচনার মুখে সপ্তম সম্মেলনে ৫৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

Sharing is caring!