• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:০৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

যৌতুক ও নেশার টাকার জন্য গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৭, ২০২১, ১৭:০১ অপরাহ্ণ
যৌতুক ও নেশার টাকার জন্য গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের, হেটিখাইন গ্রামের এক গৃহবধুকে কানের নিচের,হাতের রগ কেটে ও কোমরে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেছে এক মাদকাসক্ত, ইয়াবা ব্যবসায়ী স্বামী।
ঘটনার বিবরণে স্হানীয় এলাকাবাসী ভিকটিমের চাচাতো ভাই রফিক ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানাযায়,
শান্তা ইসলাম, পিতা মৃত আবুল কাশেম, মাতা রিজিয়া খাতুন, একই এলাকার গুজরা পাগলা বাড়ি, স্বামী শাকিল উদ্দিন পিতা কানা তাহের। মাস ছয়েক আগে পারিবারিকভাবে উভয়ের মাঝে বিবাহ সম্পন্ন হয়। করোনাকালীন সময় স্বামী শাকিল উদ্দিন আরব আমিরাত ২ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে কর্মহীন থাকা অবস্থায় এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবন সাথে জড়িয়ে পড়ে। একসময় নেশার টাকা যোগাড় করার জন্য স্ত্রী শান্তা ইসলাম কে যৌতুকের জন্য নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করতো। এসব বিষয়ে স্থানীয় সমাজপতিরা কয়েক দফা বৈঠক করার পরও নেশাগ্রস্ত শাকিল উদ্দিন সুস্থ জীবনে ফিরে না আসলে শান্তা ইসলাম নিকটস্থ তার বাপের বাড়িতে চলে যায়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের মুরুব্বিরা আবারো বৈঠকে ডাকলে শাকিল উদ্দিন তেমন সাড়া দেয়নি। ঘটনার দিন শ্বশুর বাড়ীতে কোন পুরুষ সদস্যরা না থাকা অবস্থায় কোমরে চুরি নিয়ে ২৫ শে আগস্ট বুধবার বিকেলে বেলায় শান্তা ইসলামের রুমে মাদকাসক্ত অবস্থায় ঢুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শান্তা ইসলাম এর কান ও হাতের রগ কেটে কোমরে ছুরিকাঘাত করে। এই সময় আশেপাশের মহিলারা আহত শান্তা ইসলাম কে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে ঘাতক মহিলাদেরকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মেরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ঘাতক সাকিল উদ্দিন। মহিলাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশেপাশের লোকজন এসে গুরুতর আহত অবস্থায় শান্তা ইসলাম কে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তাৎক্ষণিক এই ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, বঞ্চিত নারী অধিকার পরিষদ ও দুর্নীতিবিরোধী সচেতন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শারমিন সুলতানা মৌ তার টিম নিয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে আহত শান্তা ইসলামের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এ ব্যাপারে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা আশ্বাস দেন।
অপরদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান ঘাতক শাকিল উদ্দিন প্রবাস থেকে ফিরে এলাকায় মাদক ও যাবতীয় অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পরে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে।এই ব্যাপারে এলাকাবাসী ও স্হানীয় জন প্রতিনিধিরা বার বার উদ্যোগ নিয়ে ও কোন সুরাহা হয়নি। বর্তমানে এলাকাবাসী
এই নির্মম ঘটনার সাথে জড়িত ঘাতক সাকিল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। নির্যাতীতা শান্তা ইসলাম এখন চটগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘাতক স্বামী এখনও পলাতক, মামলার প্রস্তুতি চলছে। গুরুতর আহত শান্তা ইসলাম মেডিকেলের চতুর্থ তলায় ২০ নাম্বার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

Sharing is caring!