• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:৪৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

রাজধানীতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১, ১৪:২২ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকা অফিস।। 

রাজধানীর উত্তরার স্কুলের ছাত্রাবাসে আবির হোসেন খান (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার গলায় কালো দাগ রয়েছে। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। সে শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরেই ছাত্রাবাসে উঠেছিল।

শনিবার দিবাগত রাতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ স্থানীয় আধুনিক হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

টাঙাইলের ঘাটাইল উপজেলার হোসেন নগর গ্রামের ফজলুর রহমান খান ও আবেদা সুলতানা খান দম্পতির একমাত্র সন্তান আবির। পরিবারটি বর্তমানে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আমতলী এলাকায় থাকে। ফজলুর গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও মা আবেদা পল্লি বিদ্যুতের বিলিং সহকারী হিসেবে নবাবগঞ্জে কর্মরত।
 
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়া উল্লেখ করেন, আবির মোবাইলে গেমস খেলায় আসক্ত ছিল। গতকাল দুপুরে তার বাবা তাকে স্কুলের ছাত্র হোস্টেলে দিয়ে আসেন। এরপর বিকেলে হোস্টেলের কাজের বুয়ার কাছে সে ফোন চায় বাড়িতে কথা বলবে বলে। তবে বুয়া ফোন না দিলে সে বুয়াকে বলে, ফোন যেহেতু দিবেন না তাহলে আমার বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেন আমার লাশ নিয়ে যেতে।
 
সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিক তদন্তে আরো উল্লেখ করা হয়, এরপর ওই কাজের বুয়া দৌঁড়ে নিচে গিয়ে শিক্ষকদের জানালে পরে তারা সপ্তম তলার ৭০১ নম্বর রুমে গিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেচিয়ে খাটের উপর অচেতন অবস্থায় কাত হয়ে বসা অবস্থায় দেখতে পায় বলে দাবি করেছে। তখন তারা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির কালো দাগ রয়েছে। এছাড়া মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
 
ঢাকা মেডিকেল মর্গে আবিরের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান খান বলেন, শনিবার আমিই তাকে হোস্টেলে পৌঁছে দিয়ে আসি। সন্ধ্যায় আবার হোস্টেল থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় আবিরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তিনি রাত সাড়ে নয়টার দিকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে গিয়ে ছেলের লাশ দেখতে পান। ছেলের মৃত্যুটি অস্বাভাবিক বলে দাবি করেন তিনি।
 
আবিরের মা আবিদা বলেন, বাসায় থেকে চলে আসার সময়ও সব কিছু ভালোই ছিলো তার। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ করে বাসায় রেখে বাবার সাথে চলে আসল। সে যে আত্মহত্যা করবে সে রকমও তো কিছুই মনে হয় না। সে আত্মহত্যা করার মত ছেলেও না।
 
এদিকে হাসপাতাল মর্গে শাহীন স্কুল এন্ড কলেজের শাখা পরিচালক মো. বকুল মিয়া বলেন, শনিবার দুপুরে সে বাবার সাথে হোস্টেলে আসে। এরপর তার বাবা চলে যায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হোস্টেল থেকে তাকে খবর দেয়া হয় সপ্তম তলায় ৭০১ নম্বর রুমে গলায় গামছা পেছানো অবস্থায় জানালার গ্রিলের সাথে কাত হয়ে অচেতন অবস্থায় বসে আছে আবির। পরে কাজের বুয়া তাকে দেখতে পেয়ে সবাইকে খবর দিলে আবিরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

Sharing is caring!