• ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:০১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

রাস্তা নাকি খাল দেখে বোঝার উপায় নেই

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২১, ১৩:৩৪ অপরাহ্ণ
রাস্তা নাকি খাল দেখে বোঝার উপায় নেই

মুরাদ হাসান, রূপগঞ্জ।। 

নারায়নগঞ্জ রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকার রাস্তাটির বেহাল দশা, এটা রাস্তা নাকি খাল বোঝার উপায় নেই। স্বাধীনতার পর থেকে এ রাস্তার তেমন কোনো উন্নয়ন না হওয়াই এখন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে যায়। কাঁদাপানি একাকার হয়ে যায়। যে কেউ মনে করবে এটা ময়লার ড্রেন। স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদেও কাছে ধন্যা দিলেও লক্ষনীয় কোনো কাজ আজ অবধি চোখে পড়েনি। সবাই দেই দিচ্ছি বলেই দায়িত্ব শেষ।

ভোক্তভুগি কফিল উদ্দিন ভুইয়া বলেন, কপাল পোড়া এ রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে বেশ কিছুদিন আগে পা পিছলে পড়ে যাই। এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এখনও পুরোপুরি সুস্থ না। এমন আরো অনেকেই হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ রাস্তায় ভোগান্তির শেষ নেই। তবুও কেউ এটা চোখেই দেখে না।
স্থানীয় এক মহিলা বলেন, এখন নির্বাচন আইছে। সবাই কইব রাস্তা কইরা দিমু। ড্রেনেজ ব্যবস্থা কইরা দিমু। সবই কইরা দিমু। খালি আমারে ভোট দেন। পাস ফেল যাই করুক নির্বাচনের পরে আর কারো দেখা মিলে না এলাকায়। একটা সার্টিফিকেট, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ ওঠাতে মাসের পর মাস ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় ঘুরতে হয়। টাকা দিয়েও সময় মত পাওয়া যায় না। ভোগান্তি আর ভোগান্তি। এ যেন আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী।
“ এইডা কি রাস্তা নাকি কোনো খানা খন্দক বা খাল। এখান দিয়ে কি কোনো মানুষ যাতায়াত করতে পারে। দেশে কত উন্নয়ণ হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন হচ্ছে। নেতা আসছে , নেতা চলে যাচ্ছে। ভোটের সময় আমাদের কদর অনেক বেড়ে যায়। নেতারা জামাই আদর করে তখন। জোর করে চা পান খাওয়ায়, বুকে টেনে নেয়। মামা কাকা ভাই আরো কত কিছু বলে ডাকে। ভোট চলে গেলেই সব বেমালুম ভুলে যায়। বয়স তো আর কম হইল না।
৮০ বছর ধরে এ দুর্ভোগের রাস্তা দিয়েই চলছি। এখনও ভোগান্তির শেষ হল না। ভোটের সময় কত নেতা কইল রাস্তা করে দিমু। ভোট চলে গেলে আর কেউ কোনো খবর নেয় না।” এমনি করে মনের দুঃখে ক্ষোভে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার খামার পাড়া এলাকার ডা. আফতাব উদ্দিন আহমেদ।
তার মতো আরো অনেকেই এ রাস্তার ভোগান্তি নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিকে  বলেন। ভাই একটা কিছু করেন। আল্লাহ আপনাদের ভাল করবে। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ হাবিবুর রহমান বলেন, বাজান এ রাস্তা দিয়ে নামাজ পড়তে যেতে পারি না। বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে থাকে। কাঁদাপানি একাকার হয়ে থাকে। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছেন। কিন্তু তার পরও কারো কোনো নজর নাই এ রাস্তার দিকে। ভাল কইরা লিখেন বাজান যাতে এ অভিসপ্ত রাস্তাটার কিছু একটা হয়।
উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের খামারপাড়া এলাকার এ রাস্তাটা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা। মনে হয় এর কোনো অভিভাবক নেই। কোনো জনপ্রতিনিধির নজর পড়েনি এ রাস্তার উপর। চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ধন্যা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসীরা। হাজার হাজার লোক এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ২ টি মহিলা মাদ্রাসা, ১ টি মাদ্রাসা ও ২ টি স্কুলের অবস্থান রয়েছে এ এলাকায়। দুর দুরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরাসহ অভিভাবকরা অনেক কষ্টে এ রাস্তা দিয়েই আসা যাওয়া করে।
সম্প্রতি আখি আক্তার নামে একজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোমড় ভেঙ্গে যায়। আজও সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। আরো অনেকেই এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়েছেন। স্থানীয় মেম্বার মাছুম আহমেদ বলেন, বরাদ্ধ নেই, তাই কাজ করতে পারছি না। মাদ্রাসার মোহতামিম মাহমুদ মাওলানা বলেন, এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আসা যাওয়ায় অনেক কষ্ট হচ্ছে।
কেউ এ রাস্তা মেরামত করে দিলে এলাকাবাসীর অনেক উপকার হত। খামারপাড়া এলাকার এ রাস্তার ব্যাপারে কথা বললে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন জানান, এ রাস্তাটার বেহাল দশার কথা আমার জানা ছিল না। এটা তো ঢালাই থাকার কথা। তারপরও আমি দেখছি কি করা যায়।
রাস্তার ব্যাপারে কথা বলেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী আলী হোসেন। তিনি বলেন, কাজতো একবার হইছিল। ওই সময়েরর একজন জনপ্রতিনিধি  (মেম্বার) নাম প্রকাশ করতে চান না রাস্তার উপর শুধু বালুর আস্তর দিয়ে ছিল। যা কয়েক দিন পরই বৃষ্টির পানিতে ধুয়েমুছে যায়। এখন বেহাল অবস্থায়ই আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুশরাত জাহান বলেন, উপজেলায় অনেক কাজই হয়েছে। খুব দ্রুতই এটাও হবে ইনশাআল্লাহ।

Sharing is caring!