• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:১৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

শরণখোলায় করোনায় ভবোঘুরে জীবন-যাপন করছে শিক্ষার্থীরা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ১৯, ২০২১, ১৭:৪৬ অপরাহ্ণ
শরণখোলায় করোনায় ভবোঘুরে জীবন-যাপন করছে শিক্ষার্থীরা

 শেখ নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ।।

বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারনে ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

সেই থেকেই লেখাপড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা অলস সময় কাটাতে থাকে খেলা-ধুলা ও আড্ডা দিয়ে। শহরের শিক্ষার্থীরা, অনলাইন ও প্রাইভেট শিক্ষার মাধ্যমে লেখাপড়ার চর্চা কিছুটা হলেও চালিয়ে যেতে পারছে  কিন্তু সমস্যা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থী ক্ষেত্রে। অনলাইনের ক্লাশ সমুহে তারা অংশ নিতে পারছেনা। দরিদ্র অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ছেলে মেয়েরকে লেখা- পড়ার চাপও দেয়া হচ্ছেনা। যে যার মতো ভবঘুরে জীবন যাপন করে। অনেক দরিদ্র অভিভাবক তাদের ছোট ছোট ছেলেদেরকে কাজে যুক্ত করে দিচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার সাউথখালী,রায়েন্দা, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের সহাস্রাধীক শিশু শিক্ষার্থী জীবনের ঝুকি নিয়ে বলেশ্বর নদে চিংড়ি মাছের পোনা ধরছে। এ সব শিশুরা যে কোন সময় সাপ- কুমির দারা আক্রান্ত হতে পারে। আবার অনেক মাধ্যমিক- উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা  ফেজবুকে গেম সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্ম-কান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্র অভিভাবকরা স্কুল বন্ধ থাকার অজুহাতে তাদের কম বয়সী মেয়েদের বিবাহ দিয়ে দিচ্ছে। অলস সময় কাটাতে গিয়ে অনেকেই অনৈতিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তায় অনেকটা সঙ্কিত। উপজেলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের বাসিন্দা,  আসাদুল হাওলাদার,  কালাম শেখ, নজরুল ইসলাম হাওলাদার ,  মোশারেফ হোসেন হাওলাদার জানান, করোনার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে ছেলে- মেয়েরা বিপদগামী হয়ে পড়েছে। লেখা- পড়া সব ভুলতে বসেছে। মোবাইল ফোন নিয়ে মেতে আছে সারাক্ষন।

উপজেলা সদর রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে না পারলে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবে তারা।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খাতুনে জান্নাত জানান, করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারী রোগ। এটি অত্যান্ত ছোয়াছে প্রকৃতির। আমরা জানি শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। তবুও করার কিছু করার নেই। সরকার আপ্রান চেষ্টা চালাচ্ছে কোভিট-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

Sharing is caring!