• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৫১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

শার্শার নাভারণে ১০ টাকায় দোকান পেলেন ৩৫ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ৯, ২০২১, ১৭:২৮ অপরাহ্ণ
শার্শার নাভারণে ১০ টাকায় দোকান পেলেন ৩৫ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

যশোর প্রতিনিধি।।

ফুটপাতের মাসিক মাত্র ১০ টাকা খাজনায় দোকান বরাদ্দ পেলেন ৩৫ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। যশোরের নাভারন বাজারের মধ্যে ছিল ময়লার ভাগাড়। সেই ভাগাড়ের ময়লার স্তূপ সরিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৩৫টি দোকান।
দোকান পেয়ে হাসি ফুটেছে ওই ব্যবসায়ীদের পরিবারের মুখে। পাল্টে গেছে তাদের জীবনচিত্র। ফুটপাতও হয়েছে হকারমুক্ত।৩৫ দোকানের একটি পেয়েছেন নাভারন রেলবাজারের হকার রুহুল আমীন। তিনি বলেন, আগে ফুটপাতে ছিলাম, এখন ঘর পেয়েছি। এই ব্যবসার আয় দিয়ে আটজনের সংসার চলে। এখন প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার টাকা বেচাকেনা হয়।
ত্রিমোহিনী শ্যামলাগাছি গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, আগে ফুটপাতে দোকানদারি করতাম। তখন অনেক ঝামেলা হতো। হাইওয়ে পুলিশ এসে তুলে দিতো। এখন অনেক ভাল আছি। কেউ ঝামেলা করে না।
ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর গ্রামের নুর ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে ফুটপাতে বিক্রি করতাম। ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে চেয়ারম্যান আমাদের বসার জায়গা করে দিয়েছেন। ঘর ভাড়া দিতে হচ্ছে না। মাসে মাত্র ১০ টাকা খাজনা দিই। বিক্রি মোটামুটি ভালো। এক ছেলে, এক মেয়ে আর বউ নিয়ে চারজনের সংসার। এখন খুব ভাল আছি।
নাভারন বাজারের ব্যবসায়ী নেতা মুরাদ হোসেন বলেন, বাজারটি শার্শা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। এটিকে সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের পরিকল্পনা ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জুর সহায়তায় এ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। ফুটপাত হকারমুক্ত করতে তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।
নাভারন চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সম্পাদক সালেহ আহম্মেদ মিন্টু বলেন, নাভারন বাজারের মাঝেই রয়েছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক। সড়কের দুই ধারের ফুটপাত সব সময় থাকতো হকারদের দখলে। তাদের মহাসড়কের পাশ থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ায় যানজটমুক্ত হয়েছে নাভারন বাজার।
শার্শা সদর ইউপির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, নাভারন বাজারের ইজারাদারসহ ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের ময়লার ভাগাড় পরিষ্কার করে সেখানে দোকান তৈরি করে দিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ ও আমার ব্যক্তিগত অনুদান থেকেই কাজটি করা হয়েছে। দোকান বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। মাসে মাত্র ১০ টাকা খাজনা দিতে হচ্ছে তাদের। দোকান পেয়ে তারা খুব খুশি।

 বার্তাকণ্ঠ/এন

Sharing is caring!