• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:০৪
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরেক দফা বাড়ছে

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২১, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরেক দফা বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

প্রভাষক মামুনুর রশিদ ।।

দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সাধারণ ছুটি আরেক দফা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

করোনা সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের বেশি ও সংশ্লিষ্টদের টিকা দেয়া কার্যক্রম চলমান থাকায় আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চায় না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে পিছিয়ে পড়া পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শুরু হবে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের ছুটি আরো বাড়ছে এবং নভেম্বরে এসএসসি, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এইচএসসির সরাসরি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতিমধ্যে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজ। এ মাসের শেষে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার ঘোষণা দেয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

জানা গেছে, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলো আগে শেষ করার পরিকল্পনার রয়েছে। এরপর আটকে থাকা স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। এরপর কলেজ ও সবশেষে বিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রত্যাশিত হারে নেমে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। একইসাথে সংশ্লিষ্টদের টিকা দেয়া শেষ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা আসবে। কেননা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান উন্মুক্ত করতে সবাইকে টিকা দেয়ার কাজও শেষ করা প্রয়োজন। এ দুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে না এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য চলমান ছুটি আরো বাড়ানো হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলমান ছুটি আরো এক মাস বৃদ্ধি করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হতে পারে।

এদিকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ শিক্ষক উপস্থিত থাকবেন। অপরদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক খোলার উপযুক্ত রাখতে মাউশি থেকে আঞ্চলিক পরিচালকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইসাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্র বলছে, শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা দেয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর টিকা নেয়া হয়েছে। সেজন্যই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসা পর্যন্ত স্কুল পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি বিদ্যমান।

ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে দাবি সবচেয়ে বেশি জোরালো। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত খুলে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এখন কেবল সহনীয় পরিবেশ-পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে সংক্রমণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে না নামলে চলমান ছুটি আরো বাড়ানো হবে।

আমিনুল ইসলাম খান আরো বলেন, সংক্রমণ প্রত্যাশিতহারে নেমে আসতে বা টিকা দেয়ার কাজ শেষ করতে আর হয়তো ৫-৬ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা হয়তো কষ্টকর হবে না বলে মনে করি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং বিদ্যালয় খোলার সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছি। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খোলা যাবে। তাছাড়া আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাই রয়েছে। নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া ও তা নেয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পরীক্ষাগুলো বাতিল বা পিছিয়ে যাচ্ছে। করোনার এমন বাস্তবতায় বিকল্প উপায়ে টিভি, অনলাইন, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করছে।

Sharing is caring!