• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৫০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

সংখ্যালঘু হাজারাদের ওপর ‘নিষ্ঠুর নির্যাতন’ চালিয়েছে তালেবান : অ্যামনেস্টি

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২১, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
সংখ্যালঘু হাজারাদের ওপর ‘নিষ্ঠুর নির্যাতন’ চালিয়েছে তালেবান : অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। 

আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে নেয়ার এক মাস আগে দেশটির গজনি প্রদেশে হাজারা সংখ্যালঘুদের ওপর ‘হত্যাযজ্ঞ’ ও ‘নিষ্ঠুর নির্যাতন’ চালানোর অভিযোগ উঠেছে তালেবানের বিরুদ্ধে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই অভিযোগ করেছে।

অ্যামনেস্টির এক তদন্ত বলছে, তালেবান গত মাসে গজনি প্রদেশে সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের নয় ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এই ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে খুন করা হয়।

গত রবিবার (১৫ আগস্ট) কাবুল দখলের পর থেকে তালেবান বহির্বিশ্বের কাছে তার একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি তালে ধরার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর খবর এল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি সংবাদদাতা জিল ম্যাকগিভারিং বলেন, জুলাই মাসের শুরুতে তালেবান যখন গজনি দখলের অভিযান শুরু করে তখন গ্রামবাসীরা প্রাণভয়ে পার্বত্য এলাকায় পালিয়ে যায়। এরপর খাবার ও রসদপত্রের জন্য তারা ঘরে ফিরে এলে ওঁত পেতে থাকা তালেবানের হাতে ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাকি তিনজনকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়।

আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই শিয়া। এর আগে তারা ইসলামিক স্টেটসহ (আইএস) নানা সুন্নি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

 

তালেবানের হাতে হাজারাদের হত্যা ও নিপীড়ন নিয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ গজনির মালিস্তান জেলায় ৪ ও ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নয়জন হাজারাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই হত্যার ঘটনা নিয়ে সংগঠনটি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছে এবং ছবির তথ্যপ্রমাণও পর্যালোচনা করেছে।

অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেছেন, ঠান্ডা মাথায় খুন করার অতীত ইতিহাস তালেবানের রয়েছে। এই নৃশংসতা থেকে বোঝা যায় তালেবান কী করতে যাচ্ছে। এই টার্গেট হত্যাযজ্ঞ প্রমাণ করে আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা।

কাবুল দখলে নেয়ার পর তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিদেশি বাহিনীর হয়ে কাজ করা কোনো আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালাবে না তারা। শরিয়া আইনে মেনে নারীদের অধিকার সমুন্নত রাখারও কথা দিয়েছে তারা। তবে হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে তাবেলানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। -বিবিসি

Sharing is caring!