• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:২৪
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

সর্বোচ্চ আমদানি : তবুও কমছে না চালের দাম

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১, ২০:৩৯ অপরাহ্ণ
সর্বোচ্চ আমদানি : তবুও কমছে না চালের দাম
বাণিজ্য ডেস্ক।। 
একদিকে ধানের বাম্পার ফলন, অন্যদিকে দেশের ইতিহাসে চালের সর্বোচ্চ আমদানি। তবুও কমছে না চালের দাম। এখনো চড়া দেশের প্রধান এই খাদ্যপণ্যের দাম। চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা উদ্যোগ বিফলে গেলে, শেষ চেষ্টা হিসেবে ব্যাপকভাবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে ধারাবাহিকভাবে মোট ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক আমদানির শুল্কহারও কমানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমদানির চাল স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। এরপরও কেন চালের দাম কমছে না- এ প্রশ্ন সাধারণ ভোক্তাদের।
সূত্রমতে, বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশে চাল আমদানির পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি চাল আমদানির এলসি খোলার হারও অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরের তুলনায় চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে ৫ হাজার ৭৫৭ শতাংশ, যা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ওদিকে চাল আমদানি জোরদার করতে এলসি খোলার সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
ব্যাপকভাবে আমদানি শুরু হলেও এখনো অস্থির চালের বাজার। খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গরিবের মোটা চালের কেজি এখনো ৪৮ টাকার উপরে। আর সরু চাল কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা থেকে শুরু করে ৭০ টাকা পর্যন্ত। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র হিসাবেই গত বছরের তুলনায় সরু চালের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মাঝারি চালের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশের বেশি। আর মোটা চালে বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ওদিকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির ফলে সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুতও  বেড়েছে। গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, গত ৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে ১৮.২১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু চালের মজুত রয়েছে ১৬ লাখ টন। এ ছাড়া গমের মজুত ১.৬৪ লাখ এবং ধানের মজুত ০.৮৮ লাখ টন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চাল আমদানির জন্য ২ লাখ ৫৩ হাজার ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস শুধু জুলাইয়েই এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ডলারের। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে চাল আমদানির জন্য ৮৭ কোটি ৬২ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৩৩৫৬.৮৯ %। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে ৬ লাখ ৮ হাজার ডলারের চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের বছরের একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ হাজার ৮০ ডলারের।
এ ব্যাপারে কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যদি দেখা যায় যে, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে আমদানির খরচ মোটামুটি সঙ্গতিপূর্ণ বা লাভের পরিমাণ ততো বেশি নয় তখন কিন্তু দেখা যাবে চালের দাম কমবে না। যদিও এখন শুল্ক কমিয়ে আমদানির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি দেখা যায়, প্রাইজ প্লাস ট্যাক্স অনুযায়ী যে দাম আসে সেটা স্থানীয় বাজারের কাছাকাছি, তাহলে দাম কমবে না। এ অবস্থায় যদি চালের দাম কমাতে হয় তাহলে শুল্ক আরও কমাতে হবে। দেখতে হবে শুল্ক, ক্রয়মূল্য দুইটা মিলে আমদানিকারকদের কেমন খরচ পড়ছে। কথার কথা ধরুন, যদি দেখা যায় আমদানিকারকদের কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে ৪৫ কিংবা ৪৭ টাকা, তাহলে তো সে বিক্রি করবে ৫০ টাকা। আর বাজারমূল্য হয়ে যাবে ৫৫ টাকা। এখন সরকার যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের জন্য চালের দাম কমাতে চায়, তাহলে ওএমএসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকারের যেসব সামাজিক কর্মসূচি রয়েছে সেগুলোর মাধ্যমে পর্যাপ্ত চাল বিতরণ করতে হবে। এটি করা হলে যারা অতি মুনাফা করতে চায় তাদের পক্ষে চাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। তখন দামও কমবে। সেজন্য বিতরণ ব্যবস্থার জন্য সরকারের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে সেগুলোকে জোরদার করতে হবে।

Sharing is caring!