• ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১:২৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

সিঙ্গাপুরে পালাতে চেয়েছিল খালেদ, ক্যাসিনো থেকে মাসিক আয় ৩ কোটি

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ২২:৪৮ অপরাহ্ণ
মো: হাফিজুর রহমান ।।
অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে যুবলীগ নেতা খালেদ হোসেন ভূঁইয়ার। অস্ত্র মামলায় চার দিন ও মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে অস্ত্র মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা ও মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন এই যুবলীগ নেতা, স্থানীয় প্রসাশন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে চলছিলো জুয়ার আসর। এজন্য চীন ও নেপাল থেকে আনা হয় অভিজ্ঞ নারী-পুরুষও। ওই ক্যাসিনো থেকে মাসিক প্রায় ৩ কোটি টাকা আয় ছিলো ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার। আর এই টাকার ভাগ পেতেন অনেকেই। খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ ক্যাসিনোগুলোর পেছনে থাকা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সর্ম্পকে নানা তথ্য ও টাকার ভাগ কারা কারা পেতেন জানতে পেরেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে তার দেওয়া তথ্য সঠিক কিনা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ক্লাবটিতে সব ধরনের জুয়া, মদ,ইয়াবা ও সুন্দরী নারীসহ সব ধরনের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা ছিলো।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, খালেদের নিয়ন্ত্রণাধীন আরো ক্যাসিনো আছে কিনা বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ক্যাসিনোর মতো অবৈধ ব্যবসা চালাতে গেলে অবশ্যই অর্থ ভাগাভাগির বিষয় থাকে। জুয়ার টাকার কারা কারা পেত তাদের নামও জানিয়েছে সে। বিদেশে খালেদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তাকে গ্রেপ্তারের পর অনেকেই গাঁ ঢাকা দিয়েছে। বুধবার বিদেশ যেতে চেয়েছিলো খালেদ ও তার সহযোগিরা। পরে বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসে।

ইয়ংমেন্স ক্লাবের ডিলার লিজা ও মেঘা বলেন, ক্যাসিনোতে দুই সিফটে জুয়া খেলা হয়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা এবং রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা। জুয়ার বোর্ডগুলো চীনা নাগরিকরা চালু করে। নেপালিরা বোর্ড পরিচালনা করে। তারা এগুলো অপারেট করতে দক্ষ। তারা মাসিক ও দিন হিসেবে এখানে চাকরি করে। প্রতি শিফটে ৭০-৮০ জন মানুষ খেলে। কখনও বেশিও আসে। তবে রাতের বেলায় বেশি মানুষ থাকে। ক্লাবটির মালিক খালেদের প্রতিদিন আয় ছিল ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

খালেদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ব্যাংককে একটি টু-স্টার মানের হোটেল ও পাতায়াতে ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে খালেদের। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অভিজাত সুপারমল প্যাভেলিয়নের উপরে ১১ কোটি টাকায় সম্পত্তি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন। স্কটল্যান্ডেও কিনেছেন বাড়ি। বর্তমান সরকারের আমলে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠে খালেদ। জুয়ার টাকার ভাগ পেত সংশ্লিষ্ট থানা, ডিসি,রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কমিশনার, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরাও। এছাড়া যুববলীগের তিন প্রভাবশালী ও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও ভাগ পেতেন।

র‌্যাবের মিডিয়া শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা যাবে না। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে।

প্রসংগ্ত বুধবার খালেদকে গ্রেপ্তারের আগে ফকিরাপুলের ইয়াংমেন ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র‌্যাব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

Sharing is caring!