• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর আজ

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২১, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর আজ

স্টাফ রিপোর্টার।। 

জেএমবির সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলার ১৬ বছর পরও দেশ থেকে জঙ্গি হামলার আতঙ্ক যায়নি। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে ভয়ংকর জঙ্গি সদস্য। অনলাইন মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের প্রচারণা ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনলাইনেই তারা জঙ্গি হামলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা হামলার কৌশল রপ্ত করছে।

গত ১০ আগস্ট রাতে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান জাহিদ হাসান রাজু ওরফে ইসমাঈল হাসান ওরফে ফোরকানসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক পদার্থ, ঢাকনাযুক্ত জিআই পাইপ, রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, লোহার বল, সাংগঠনিক কাজে ব্যবহূত তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ট্যাব উদ্ধার করে। এর আগে নব্য জেএমবির এই চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

সম্প্রতি তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশে আবারও জঙ্গি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তালেবানের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে দেশ থেকে অনেক জঙ্গি সদস্য আফগানিস্তানে যেতে পারেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমনই তথ্য রয়েছে।

সিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১০ জন জঙ্গি আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে চলে গেছেন। হেঁটে আফগানিস্তান যাওয়ার পথে ভারতে দুই জন গ্রেফতার হয়েছেন। আফগানিস্তানে যেতে ইচ্ছুক এমন চার জনকে সিটিটিসি গ্রেফতার করে। বাকি দুই জনের হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, র্যাবের অভিযানেই জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্ল­­াহ, আবদুল আউয়াল, আসাদুল ইসলাম আরিফসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা গ্রেফতার হয়। তাদের বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। তাদের ফাঁসির রায়ও সরকার কার্যকর করেছে। জঙ্গিরা এখন সাইবার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। জাতিগতভাবে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। এ কারণে আমরা খুব অল্প সময়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তাই বলে এটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। সাম্প্রতিক তালেবান ইস্যুতে রাষ্ট্রের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে খোঁজ খবর ও নজরদারি করছি। এটা নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।

২০০০ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বোমা হামলার মধ্যদিয়ে জেএমবি কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ, রাজশাহীতে প্রকাশ্যে জঙ্গি কার্যক্রম, গাজীপুরে আদালত প্রাঙ্গণে বোমা হামলা, ঝালকাঠিতে বিচারকদের ওপর বোমা হামলা, নেত্রকোনায় উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলাসহ ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আলোচনা বিষয় স্থান করে নেয় জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রম। জেএমবির কার্যক্রম যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের তথ্য মিলেছে। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জেএমবির বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান জানান দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরু এলাকা থেকে জেএমবির দুর্ধর্ষ পলাতক জঙ্গি বোমারু মিজানকে গ্রেফতার করে ঐ দেশের এনআইয়ে টিম। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর গুলিস্তানে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর বোমা হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঐ বছরের ২৭ মে মালিবাগে পুলিশ ভ্যানে বোমা হামলায় একজন পথচারী আহত হয়। একই বছরের ২৩ জুলাই রাতে খামারবাড়ী ও পল্টন পুলিশ বক্সে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুইটি শক্তিশালী বোমা ফেলে রেখে যায়।

Sharing is caring!