• ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:২৪
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

স্কুল-কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা থামাতে হবে এখনিই

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ১৫, ২০২১, ১৯:০১ অপরাহ্ণ
স্কুল-কলেজের বিদায় অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা থামাতে হবে এখনিই

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম।।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সমাপনি তথা বিদায় অনুষ্ঠানে অশ্লীল ও উশৃংখল কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। যা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনলাইনে এ নিয়ে নানা খবর ও ছবি প্রকাশ পেয়েছে। কয়েকটি টিভিচ্যানেলও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আমরা যখন স্কুল, কলেজের শিক্ষা শেষ করে সমাপনি তথা বিদায় অনুষ্ঠান করতাম তখন সকল শিক্ষার্থীর চোখেমুখে বিষাদ আর মনোকষ্ট লক্ষ্য করা যেত। অশ্রুসজল নয়নে বিদায়ের দিনটি পার করতাম। স্কুল ও কলেজ জীবনের দিনগুলো নিয়ে অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতাম। আজ আর সেই দিন নেই। এখন অশ্রুঝরা দূরে থাক নানাধরণের অশ্লীলতা ও উশৃংখল আচরণের মাধ্যমে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিনটি উদযাপন হচ্ছে বৈকি! এবার স্কুল, কলেজে সাদা টিশার্টে আজেবাজে কমেন্ট লিখে তা প্রদর্শনের মতো দৃষ্টিকটু ছবিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন শিক্ষা সমাপনিতে র‌্যাগ-ডে নিয়ে যা হয় তা রীতিমতো ভয়ংকর ও অশ্লীলতার চরম পর্যায়ের বহি:প্রকাশ। বিভিন্ন সময় এই র‌্যাগ-ডে’র কর্মকান্ড বিশেষ করে র‌্যাগিং এর শিকার হয়ে বহু ছাত্রছাত্রী নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাঝে মাঝে র‌্যাগ-ডে’তে সংঘটিত নানা অনৈতিক কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করে দৈনিকগুলোও। এগুলো আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নীতি-নৈতিকতাহীনতার দিকে ঠেলে দেবে নি:সন্দেহে।
এসব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। সবকিছুকে দড়িছেঁড়া উন্মত্ত পশুর ন্যায় ছেড়ে দিলে হবেনা। সমাজ ধ্বংস হওয়ার আগেই এসবের লাগাম টানতে হবে। প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষা সমাপনি/বিদায় অনুষ্ঠানে বাড়তে থাকা উশৃংখলতাকে থামাতে হবে। কারণ, আমাদের প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে গেলে এর দায় কেউ এড়াতে পারবেনা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে যেভাবেই হোক এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিলোপ সাধন করতে হবে।
পরিবারের মা-বাবাসহ অভিভাবক যারা রয়েছেন তাদেরকে তাদের সন্তানদের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যায়, কী করে এসবের তদারকি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর কিংবা কোমল হতে হবে।
সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা এবং তাদের জীবন গঠণের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় আনতে হবে মৌলিক ও গঠনমূলক পরিবর্তন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসময় কত অনুষ্ঠান হতো। এখনও হয়। কিন্তু তখনকার আর এখনকার অনুষ্ঠানের তফাৎ আকাশ-পাতাল। কেন এমন হবে? যুগ বদলাচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে অনেককিছুরই। আমদের আচার-আচরণে পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমাদের এই পরিবর্তন অনৈতিকতা বা উশৃংখলতার দিকে ধাবিত হবে কেন? কোনভাবেই এধরণের আচরণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা। কেবল সরকার নয়, এসব অশ্লীলতা ও উশৃংখলতা রোধে শিক্ষক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা চাইলে স্ব-উদ্যোগে এসব নিয়ন্ত্রনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। মোটকথা পরিবার, সমাজ, সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষকসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের সুন্দরভাবে গড়ে উঠার স্বার্থে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা সমাপনি তথা বিদায় অনুষ্ঠান হওয়া উচিত প্রকৃতই নিটোল আনন্দঘন পরিবেশে। ছাড় হবে ততক্ষণ যতক্ষণ আমাদের সন্তানেরা, শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রনরেখার মধ্যেই থাকবে। আসুন, আমরা ভাবি পরবর্তী প্রজন্মকে সুপথে রাখা কীসে হবে। সে অনুযায়ী নিতে হবে পদক্ষেপ।

★ লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট

Sharing is caring!