স্বাদে অনন্য সাদেকের সৃষ্টি ‘জামতলার মিষ্টি’

151
বার্তাকণ্ঠ ডেস্ক ## যে চেনে সে কেনে, সাদেকের সৃষ্টি জামতলার মিষ্টি। এই স্লোগান নিয়েই সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডারের পথ চলা।

 

১৯৫৫ সাল থেকে এই গোল্লার ঐতিহ্য বয়ে চলেছে। আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে যশোরের সাদেক গোল্লা। যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরা সড়কের জামতলা বাজারেই সাদেক মিষ্টান্ন ভান্ডারে পাওয়া যায়, এই সাদেক গোল্লা। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে সাদেক গোল্লার কদর।

সাদেক গোল্লা সৃষ্টিকারী শেখ সাদেক আলী বেঁচে এখন নেই। কিন্তু সাদেক গোল্লার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তার ছয় ছেলে। সুনামের সঙ্গে বাবার রেখে যাওয়া এ ব্যবসাটি আঁকড়ে ধরে আছেন তারা। প্রতিদিন দেড় থেকে দু’হাজার সাদেক গোল্লা তৈরি হয়। জামতলার শেখ সাদেক তার নামে বিশেষ রসগোল্লা তৈরি করেন গত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে। স্থানীয়ভাবে যা সাদেক গোল্লা নামে পরিচিত।

 

আরও পড়ুন >>> জীবনের কিছু বাস্তব কথা

 

দেশের প্রায় সব জায়গায় রসগোল্লা তৈরি করা হয়ে থাকে। তবে যশোরের জামতলার সাদেক গোল্লা গুণে, মানে ও স্বাদে অনন্য। এর স্বাদ দেশের আর কোনো রসগোল্লায় পাওয়া যায় না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ মিষ্টি তৈরি করা হলেও স্বাদের কারণে যশোরের সাদেক গোল্লাই সেরা। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত দেশি গরুর দুধ, উন্নতমানের চিনি আর জ্বালানি হিসেবে নির্দিষ্ট কাঠ এ মিষ্টি তৈরির মূল উপকরণ। হালকা মিষ্টি স্পঞ্জের এ রসগোল্লা দেখতে বাদামি রংয়ের।

সাদেক গোল্লার শুরুর ইতিহাস। ১৯৫৫ সালে শেখ সাদেক আলীর চায়ের দোকানে প্রতিদিন গোয়ালারা গরুর দুধ দিয়ে যেতেন। একদিন দুধের পরিমাণ বেশি হলে শেখ সাদেক দুধ কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা এক ব্যক্তি সাদেককে জানান যে এ দুধের মান খুবই ভালো। আপনি এই দুধ রেখে দিন। আমি এই দুধ দিয়ে আপনাকে মিষ্টি তৈরি করে দেব। সেই দুধ থেকেই মিষ্টি তৈরি শুরু।

কুমিল্লার সেই ব্যক্তির কাছ থেকে শিখে শেখ সাদেক, রসগোল্লা তৈরির কাজ শুরু করেন। মিষ্টির স্বাদের জন্য একপর্যায়ে সেই রসগোল্লার নাম হয় সাদেক গোল্লা। সেই ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাদেক নিজ হাতে মিষ্টি তৈরি করে এর সুনাম অক্ষুন্ন রাখেন। সাদেকের মৃত্যুর পর তার ছয় ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলমগীর, শাহিনুর, শাহজাহান, জাহাঙ্গীর ও নূরুজ্জামান ব্যবসায়ের হাল ধরেন। জামতলায় এখন সাদেক গোল্লার তিনটি দোকান রয়েছে। তার একটি রয়েছে যশোরের নাভারন বাজারের সাতক্ষীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। জামতলা বাসস্ট্যান্ডের বটতলায় রয়েছে, সাদেক আলীর প্রতিষ্ঠিত আদি ‘সাদেক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’। দোকানটিতে রসগোল্লা ছাড়াও প্রায় সব ধরনের মিষ্টি পাওয়া যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখান থেকেই জামতলার মিষ্টি সরবরাহ করা হয়। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় জামতলার সাদেক গোল্লা।

প্রতিদিন শত শত মিষ্টি বিক্রি হয় এখানে। প্রতি পিস ছোট সাইজের দাম ৫ টাকা ও বড় সাইজের দাম ১০ টাকা। পলিথিনের প্যাকেটে ৫ টাকা দামের ১০টি, আর ১০ টাকা দামের পাঁচটি মিষ্টি ৫০ টাকা দামে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করা হয়।

আমেরিকা, দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ভারত, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও জাপানে বসবাসরত প্রবাসীদের অনেকেই এখান থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে যান। সাদেক গোল্লা তৈরির কারীগরদের ভাষ্য, চুলা ও পাত্র অন্যত্র নিয়ে গেলে এই মিষ্টির স্বাদ হারিয়ে যাবে। তাই সরকারে সাহায্য-সহযোগিতা ও পৃষ্ঠ পোষকতা পেলে জামতলায় মিষ্টির ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তারা।