• ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:৪৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

হকের বিজয় সুনিশ্চিত

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১, ১৭:৪৯ অপরাহ্ণ
হকের বিজয় সুনিশ্চিত

হাফেজ মাওলানা, মেহেদী হাসান।।

পবিত্র কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَدًا رَابِيًا وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِثْلُهُ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُففَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ

তিনি (আল্লাহ) আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, ফলে নদীনালা আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী প্লাবিত হয়েছে, তারপর পানির ধারা স্ফীত ফেনাসমূহ উপরিভাগে তুলে এনেছে। এ রকমের ফেনা সেই সময়ও ওঠে, যখন লোকে অলংকার বা পাত্র তৈরির উদ্দেশ্যে আগুনে ধাতু উত্তপ্ত করে। আল্লাহ এভাবেই সত্য ও মিথ্যার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছে যে, (উভয় প্রকারে) যা ফেনা, তা তো বাইরে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে থেকে যায়। এ রকমেরই দৃষ্টান্ত আল্লাহ বর্ণনা করে থাকেন। [সূরা রা‘দ;আয়াত ১৭]

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা দুটি দৃষ্টান্ত বা উপমা পেশ করেছেন। উল্লেখিত দৃষ্টান্তদ্বয়ের দুটি দিক রয়েছে। একটি হচ্ছে বাহ্যিক দিক, আর অপরটি হচ্ছে অভ্যন্তরীন দিক। অধিকাংশ মুফাসসিরীনে কেরাম উল্লেখিত উপমাদ্বয়ের তত্ত্ব, রহস্য ও এর অভ্যন্তরীন দিকটিকে গ্রহণ করেছেন। মুফতী আজম মুফতী শফী সাহেব রহ. তার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন’-এ [সূরা রা‘দ; আয়াত ১৭] সম্পর্কে বলেন-

اصل دونوں مثالوں کا یہ ہے کہ جیسا کہ ان مثالوں میں میل کچیل برائے چندے اصلی چیز کے اوپر نظر آتا ہے لیکن انجام کار وہ پھینک دیا جاتا ہے اور اصلی چیز رہ جاتی ہے،اسی طرح گو چند روز حق کے اوپر غالب نظر آئے لیکن آخر کار باطل محو اور مغلوب ہو جاتا ہے اور حق باقی اور ثابت رہتا ہے

এ বক্তব্যের সারমর্ম হলো, আলোচ্য দু‘আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা হক ও বাতিলের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ ময়লা-আবর্জনা ও ফেনা সাময়িক সময়ের জন্য মূল জিনিসের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে, কিন্তু পরিণামে সেগুলো সমূলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং প্রকৃত উপকারী বস্তুটিই অবশিষ্ট থাকে, অনুরূপভাবে মিথ্যা ও বাতিলকে যদিও কখনো সত্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে দেখা যায়, কিন্তু হকপন্থীগণ হকের মেহনত ও দাওয়াত নিয়ে অগ্রসর হলেই আল্লাহর কুদরতী শক্তির ধাক্কায় মিথ্যা ও বাতিল অল্প সময় পরই পরাস্ত ও বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং হক ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। [ বিস্তারিত; তাফসীরে ইবনে কাসীর; সূরা রা‘দ; আয়াত ১৭, তাফসীরে রুহুল মাআনী; সূরা রা‘দ; আয়াত ১৭]

আলোচ্য আয়াতে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য রয়েছে খুশির সংবাদ। বর্তমানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও মুসলিম শাসক কর্তৃক তারা হচ্ছে নির্যাতিত। তাদের জান-মাল, ইযযত-আবরূ এমনকি জীবনের অমূল্য সম্পদ ঈমান-আকীদার হেফাযতের নিরাপত্তাটুকুও তারা পাচ্ছে না। তাদের মুসলিম শাসকরা ক্ষমতার মোহে নিজেদের গৌরবময় অতীত ও সোনালী ইতিহাসকে সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হয়ে সম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। তারা ইয়াহুদী-খৃষ্ট যৌথ চক্রের ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ হয়ে পাশ্চাত্য ভাবধারণায় কুফরী মতবাদের দ্বারা শাসনকার্য পরিচালনা করছে। অথচ আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে এ মর্মে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেনঃ  وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা জালিম। [সূরা মায়িদা; আয়াত ৪৫]

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ

যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা কাফির। [সূরা মায়িদা; আয়াত : ৪৪]

কিন্তু মহান আল্লাহ তা‘আলার এ সতর্কবাণী দ্বারা মুসলিম শাসকবৃন্দ নিজেদের মাঝে কোন প্রকার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। তারা পূর্ববর্তী মানব রচিত আইন দ্বারা দেশ পরিচালনা করে চলেছে। ফলে অশান্তি-বিশৃংখলা, হানাহানি-মারামারি আরো কত কী! এরূপ অশান্ত পরিবেশ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির ফলে মুসলমানরা ক্রমশ নিরাশ হয়ে পড়ছে। নৈরাশ্যের কালো ছায়া তাদেরকে আবদ্ধ করে ফেলছে। অনেকে তো একেবারে হাল ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে পড়েছে। এমনি মুহূর্তে নিমোক্ত এ আয়াত আশার সঞ্চার করেছে। ইরশাদ হচ্ছে: فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الْأَرْضِ

(উভয় প্রকারে) যা ফেনা, তা তো বাইরে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিতে থেকে যায়।

উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ মুসলমানদের নৈরাশ্য বিদূরীত করে আত্মবলে বলীয়ান হয়ে তাদের হৃত গৌরব ও হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের জন্য ইসলামের মশাল নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন। তারা যদি অগ্রসর হয়, তাহলে সকল কুফরী শক্তি বিতাড়িত হতে বাধ্য। কেননা কুফরী ও বাতিল শক্তি হচ্ছে রঙ্গিন চাকচিক্যময় ফানুসের মত, যা অচিরেই ছিদ্রকৃত বেলুনের ন্যায় চুপসে যেতে বাধ্য। আলোর অবর্তমানে অন্ধকারের প্রাধান্য থাকে বটে, কিন্তু রঙ্গিন আভা বিস্তার করে পূর্বাকাশে যখন সূর্য উঁকি দেয় , তখন অন্ধকার বিলুপ্ত হতে বাধ্য হয়। হে মুমিন মুসলমান যে মালিক আমাদের হায়াত দান করেছেন, তিনি সব কিছুই করতে পারেন। রক্ত রাঙ্গা আকাশ দেখে ভয় পেওনা –

Sharing is caring!