• ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ২:০১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

হনুমানের থানা ঘেরাও

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১৯:২৯ অপরাহ্ণ
যশোর ব্যুরো ।। যশোরের কেশবপুরে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান অধিকার আদায়ের জন্য আবারও প্রতিবাদ করে নজির স্থাপন করেছে।একটি হনুমান শাবককে কে বা কারা পিটিয়ে আহত করায় হনুমানের দল সোমবার থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা প্রায় এক ঘণ্টা থানার গেটের সামনে অবস্থান করে অবরোধ করে রাখে। বিলুপ্তপ্রায় এসব হনুমানের থানা ঘেরাও করার কথা কেশবপুর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

কেশবপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, থানায় গেটের সামনে একদল হনুমান অবস্থান নেয়। আমি বাইরে গিয়ে দেখি, দুটো মেয়ে হনুমান দেয়ালের একপাশে আলাদা বসে আছে। তাদের একজনের কোলে একটি রক্তাক্ত আহত শাবক। তখন আমি বুঝতে পারি, বাচ্চাটিকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই হনুমানের দল থানায় এসেছে।

তিনি আরো জানান, ২০ থেকে ২৫টি হনুমান দলবদ্ধভাবে থানার গেটের সামনে ও ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান নেয়। আমি হনুমান দলের সামনে দাঁড়িয়ে বাচ্চা হনুমানের ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে দেখব বলে আশ্বাস দেই। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর কিছু খাবার দিলে খেয়ে তারা চলে যায়।

কেশবপুরের হনুমান অনেকটা মানুষে মতো আচরণ করে। প্রায়ই শহরে খোলা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে হনুমান মারা যায়। তখন ওই দলের সব হনুমান মৃত হনুমানের চারপাশে নীরবে বসে শোক প্রকাশ করে থাকে। ৫/৬ বছর আগে শহরের জনৈক ব্যক্তি একটি হনুমানকে গুলি করে হত্যা করে। সে সময় হনুমানের দল তার বাড়ির ছাদে গিয়ে লাফালাফি ও ঝাপাঝাপি করে গাছের ডাল ভাঙচুর করে। কয়েক বছর আগে অজ্ঞাত কেউ একটি হনুমানের লেজ কেটে দেয়। ওই সময়েও হনুমানরা দল বেঁধে থানা ঘেরাও করেছিল। ৪ বছর আগে নছিমনের ছাপায় একটি বাচ্চা হনুমান মারা গেলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মা হনুমানটি হাসপাতাল রোডে অবস্থান করে প্রতিটি চলন্ত নছিমনের ওপর হামলে পড়ে চাকা কাঁমড়াতে থাকে। এমন অনেক প্রতিবাদের নজির স্থাপন করেছে কেশবপুরের হনুমানরা।

আবহমান কাল থেকে কেশবপুরে হনুমানের বসবাস। চরম খাবার সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিরল প্রজাতির হনুমান দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণ খাবার সরকাবিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম হোসেন জানান, চারটি স্থানে হনুমানগুলোর জন‌্য প্রতিদিন ৩৫ কেজি কলা, ২ কেজি বাদাম ও ২ কেজি পাউরুটি দেয়া হয়।

Sharing is caring!