• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:৪৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

হাতীবান্ধায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, থানায় অভিযোগ

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২১, ১৫:৪৬ অপরাহ্ণ
হাতীবান্ধায় বসতবাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ, থানায় অভিযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেড়ে হাবিবুর রহমান নামে এক পল্লী চিকিৎসকের বসত-বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় রোববার (২১ নভেবার) রাতে ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে  ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলায় সিংঙ্গমারী গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার সিংগীমারী গ্রামের রমজান আলী(২৫), নোকবার(৪৮), হামিদ(৫৭), নছমদ্দি(৫৫), মোস্তফা(৪৫) ও উপজেলার পূর্ব সাড়ডুবি এলাকার তৈয়ব আলী(৫০)। ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান উপজেলার সিংগীমারী গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান ২০০৪ সালে উপজেলার সিংঙ্গমারী গ্রামে ১০ শতক জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মান করে বসবাস করে আসছেন। ২০১৭ সালে ওই জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে বিরোধ বাধে। এছাড়া সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এরই মাঝে গত শনিবার দুপুরে অভিযুক্তরা হাবিবুর রহমানের বসত-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করেন। জমিতে লাগানো বিভিন্ন জাতের গাছ কর্তান করেন। এ সময় তারা ওই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে করে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়। এরপর প্রতি পক্ষের লোজ জন জমির অর্ধেক অংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিড়ে রেখে দখলে নেয়। এতে পল্লী চিকিৎক হাবিবুর রহমানের পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। গত দুই দিন ধরে অন্যর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
পল্লী চিকিৎক হাবিবুর রহমান(৪৫) বলেন, আমি সিংঙ্গীমার এলাকার ইদ্রিস আলী কাছে ১০ শতাংশ জমি কিনে বসতবাড়ি করে আসছি। এই বাড়ি ভিটে জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তারা কবে জমির রায় পেল আমার জানা নাই। কোন নোটিশ ছাড়া আদালত থেকে তিনজন ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে আমার বাড়ি ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ও গাছপালা কেটে তারা জমি দখলে নিয়েছে। ঘরের সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়েছে। এখন আমি পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে আছি। এ ঘটনায় আমি আইনের কাছে সঠিক বিচার চাই।
হাবিবুর রহমানের মেয়ে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী জেমি বলেন, বাড়িতে আগুন লাগার পর আমি ঘর থেকে একটা বইছাড়া কিছুই নিতে পারিনি। সামনে আমার পরিক্ষা আমি এখন কি করবো? বলেই হাউমাউ করে কেদে ফেলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রমজান আলী বলেন, ওই জমির অংশ আমার বাবা মৃত মকবুল হোসেনের তাই আমার মা রহিমা বেগম জমি ফিরত পেতে আদালতে মামলা করেছেন। ওই জমি রায় আমরা পেয়েছি তাই আদালত থেকে এ্যাডভোকেট ওমর আলী স্যার এসে আমাদের জমি দখলে দেন। এছাড়া আমরা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করিনি বলেও দাবী করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 বার্তাকণ্ঠ/এন

Sharing is caring!