• ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ২:২৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

হাতীবান্ধায় লো ভোল্টেজে চা কারখানা বন্ধ, মুখথুবড়ে পরেছে চা শিল্প

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ২০:৪৫ অপরাহ্ণ
মোস্তাফিজুর রহমার(মোস্তফা)লালামনিরহাট প্রতিনিধি  :
লালমনিরহাট জেলার জমি চা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। জেলায় প্রতিনিয়ত চা চাষীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে জেলায় ৬৭ জন চা চাষী প্রায় ৩৪ হেক্টর জমিতে চা চাষাবাদ করছে। চলতি বছরে জেলায় এ পর্যন্ত ১ শত টন সবুজ চা পাতা উৎপাদন হয়েছে। চা চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার পুর্ব বিছনদই এলাকায় সোমা চা প্রসেসিং লিমিটেড নামে একটি কারখানাও গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিদ্যুৎতের লো ভোল্টেজের কথিত অযুহাতে চা প্রসেসিং কারখানাটি বন্ধ করে রাখেন ওই কারখানার পারিচালক ফেরদৌস আহম্মেদ। কারখানাটি বন্ধ থাকলেও ফেরদৌস আহম্মেদ চা শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়ন কর্মসুচীর নামে ১শত ভুয়া শ্রমিকের তালিকা তৈরী করে সরকারী বরাদ্দ সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা লুটপাট করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কারখানাটি চালু না হওয়ায় জেলায় নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরী হচ্ছে না।

লালমনিরহাট চা উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, জেলার ৫ উপজেলায় ১ শত হেক্টর জমিকে চা চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেয় বাংলাদেশ চা বোর্ড। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জেলার হাতীবান্ধায় একটি চা উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প অফিসও গড়ে উঠে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাতীবান্ধায় ৭ শত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরী হবে। চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জেলার এ পর্যন্ত ৬৭ জন চাষীকে চা চাষের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে জেলার ৩৪ হেক্টর জমিতে চা চাষাবাদ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত চা চাষী ও চা আবাদি জমির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু চাষীদের তাদের চা পাতা জেলা থেকে ২ শত কিলোমিটার দুরে গিয়ে পঞ্চগড় জেলায় চা প্রসেসিং কারখানায় বিক্রি করতে হয়। চাষীরা যাতে সহজে তার উৎপাদিত চা পাতা বিক্রি করতে পারে সেই লক্ষে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ চা উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের আর্থিক সহয়তা জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের পুর্ব বিছনদই এলাকায় সোমা চা প্রসেসিং লিমিটেড নামে একটি চা কারখানা গড়ে উঠে। কিন্তু বিদ্যুৎতের লো-ভোল্টেজের কথিত অযুহাতে ওই কারখানাটি আজো চালু করেনি মালিক পক্ষ। ফলে চাষীরা তাদের জমির চা পাতা চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অনেক কষ্টে পঞ্চগড় জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে। এতে অনেক সময় চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ফলে অনেকেই চা পাতা বিক্রয়ের ঝামেলার কারনে চা চাষাবাদে এগিয়ে আসছে না। এতে জেলায় নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরী হচ্ছে না। চা বোর্ড ৭ শত মানুষের যে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েছে তা ভেঙ্গে পড়েছে। বেশ কিছু দিন ধরে সোমা চা প্রসেসিং কারখানাটি বন্ধ করে রাখেন ওই কারখানার পরিচালক ফেরদৌস আহম্মেদ। সরকার যখন চা শ্রমিকদের সরকারী ভাবে প্রতি বছর অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক তখনি নড়ে চড়ে বসে সোমা চা প্রসোসিং কারখানাটির পরিচালক ফেরদৌস আহম্মেদ। ১ একর চা আবাদী জমিতে ৩ জন করে চা শ্রমিক থাকার নিয়ম রয়েছে। সেই অনুয়ায়ী তার সোমা চা বাগানে ৪ একর জমিতে ১২ জন শ্রমিক কর্মরত থাকার কথা। কিন্তু তিনি কাগজ কলমে ভুয়া ১ শত জন চা শ্রমিক কর্মরত দেখিয়ে ২ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা লুপপাটের ব্যবসা করেন। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ৫ টি চা বাগান থাকলেও ওই তালিকায় শুধু স্থান পেয়েছে সোমা চা বাগানের শ্রমিকরা। ফলে যারা সরকারী এ অনুদান পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই চা শ্রমিক নয় ।

হাতীবান্ধা সমাজ সেবা অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত বছরে ৫১ জন চা শ্রমিকের মাঝে জন প্রতি ৫ হাজার করে ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং চলতি বছরে ১ শত শ্রমিকের মাঝে জন প্রতি ৫ হাজার করে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে বিতরণ করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ওই সুবিধা ভোগী চা শ্রমিক তালিকার সবাই ফেরদৌস আহম্মেদের সোমা চা বাগানে কর্মরত। হাতীবান্ধা উপজেলায় আরো ৪ টি চা বাগান থাকলেও তাদের শ্রমিক ওই সুবিধা ভোগীদের তালিকায় স্থান পায়নি।
সোমা চা বাগানের পরিচালক ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে এ অঞ্চলের চা চাষাবাদ শুরু করেছি। বিদ্যুৎতের লো ভোল্টেজের কারণে আমার কারখানাটি চালু করতে পারছি না। তাই ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের কিছু সরকারী অনুদানের ব্যবস্থা করেছি। তবে অনুদান বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। হাতীবান্ধা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বলেন, আমি যেভাবে পত্র পেয়েছি সেই পত্রের আলোকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। হাতীবান্ধায় ৫ টি চা বাগান কিন্তু অনুদান পেলো একটি বাগানের কথিত ১ শত শ্রমিক এমন প্রশ্নের তেমন উওর দেয়নি ওই সমাজসেবা কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ চা উন্নয়ন বোর্ডের লালমনিরহাট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক আরিফ খান বলেন, আমি চা উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক হলেও হাতীবান্ধায় চা শ্রমিকদের সরকারী অনুদান দেয়া হয়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। ৪ একর জমি নিয়ে সোমা চা বাগান। সেই ক্ষেত্রে সরকারী নিয়মে ওই চা বাগানে ১২ জন শ্রমিক কর্মরত থাকবে এবং ওই ১২ জন সরকারী সুবিধা পাবেন। তারা ১ শত শ্রমিক কোথায় পেলেন তা আমি বলতে পারছি না। বিদ্যুৎতের লো ভোল্টেজের যে কথা বলা হচ্ছে সেটা একটা অযুহাত মাত্র। একটি ভোল্টেজ যন্ত্রের মাধ্যমে কারখানাটি চালু করা সম্ভব।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সেই কারণে সেভাবে দেখভাল করা সম্ভব হয়নি। তারপরও অনিয়ম হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!