• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৪৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

২১০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
২১০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ।।

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ২ হাজার ১০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ফলে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের। পাশাপাশি বসতবাড়ির ক্ষতি না হলেও পানিবন্দী রয়েছে বারুহাস, সগুনা ও মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রাস্তাঘাট ডুবে আছে। ফলে চলাচলে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলায়র মাগুড়া বিনোদ, সগুনা ও বারুহাস, তাড়াশ, দেশীগ্রাম, নওগাঁ ও মাধাইনগর ইউনিয়নের উঁচু জমিতে এবার প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার হেক্টর আমন ধান রোপণ ও বপন করা হয়েছিল। গত দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ফসলি মাঠে রোপা আমন ধান লাগানো ছিল। সেই ফসলি মাঠে পানিতে ধানগুলো প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বারুহাসের কুসুম্বী, বিনসাড়া, সগুনা ইউনিয়নের পতিরামপুর, ধাপ তেঁতুলিয়া, সান্দুরিয়া, ভেটুয়া, কুন্দইল, কুশাবাড়ি, মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া, তরণীপুর, আমবাড়িয়া, শ্যামপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সবগুলো সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকায় চড়ে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া গোচারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক তাদের গচ্ছিত বোরো ধান নৌকা ছাড়া হাটবাজারে নিতে পারছেন না।

উপজেলার পৌর এলাকার ভাদাস এলাকার কৃষক আরিফুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে। এখন দ্রুত পানি সরে না গেলে কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। উপজেলার সেরাজপুর গ্রামের কৃষক ফজলু মুন্সি জানান, ভাদ্র মাসের শুরুতে তাড়াশে ১২-১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার পানি বৃদ্ধি, ভারি বর্ষণ ও বিভিন্ন গ্রামের ফসলি মাঠে অবৈধভাবে পুকুর খননের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কৃষকের স্বপ্ন সবুজ ধান ডুবে গেছে এবং আরও ডুবছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা আরটিভি নিউজকে বলেন, উপজেলার ৮ ইউনিয়নের নিচু জমিগুলো সামান্য বৃষ্টি বা পানিতে তলিয়ে যায়। আর উঁচু জমিগুলোতে ধান প্লাবিত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই। আশা করছি পানি দ্রুত নেমে গেলে ধানের কোন ক্ষতি হবে না। আবারও কৃষক এসব জমিতে আমনের আবাদ করতে পারবেন।

Sharing is caring!