সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যশোরে শিশু হত্যার দায়ে সৎ বাবাসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

All-focus

রোকনুজ্জামান রিপন ।। 

যশোর সদর উপজেলার ঘোড়াগাছা গ্রামের শিশু ইমরান হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন স্পেশাল জজ আদালত। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিচারক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এ রায় দেন। দন্ডিতরা হলো, একইগ্রামের সবেদুল ও আব্দুল হাকিম।

মামলার অপর দুই আসামি একই গ্রামের ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

স্পেশাল জজ আদালতের পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল খুন হয় শিশু ইমরান (১২)। তার বাবার সাথে মা কহিনূর বেগমের বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামি সবদুলের সাথে তার মায়ের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে প্রথম ঘরের সন্তান ইমরানের সাথে কহিনূর বেগমের দ্বিতীয় স্বামী সবদুলের প্রায় ঝগড়া হতো। ঝগড়ার সময় সবদুল ইমরানকে হত্যার করার হুমকি দিতো। কহিনূর বেগম সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সবদুলের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়।

এতে ক্ষিপ্ত হয় সবদুল। বিচ্ছেদের প্রায় সাত মাস পর ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল ইমরান খেলা করতে বের হয়ে আর বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার পানের বরেজের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইমরানের নানা হায়াৎ আলী মল্লিক সবদুল, আব্দুল হাকিম, ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পিপি আরো জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সবদুল ও আব্দুল হাকিমকে মৃত্যুদন্ড ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এছাড়া ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেন।

রায় ঘোষণা শেষে দন্ডিত আব্দুল হাকিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সবদুল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

আট রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন

যশোরে শিশু হত্যার দায়ে সৎ বাবাসহ দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯

রোকনুজ্জামান রিপন ।। 

যশোর সদর উপজেলার ঘোড়াগাছা গ্রামের শিশু ইমরান হত্যা মামলায় দুই জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন স্পেশাল জজ আদালত। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিচারক মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এ রায় দেন। দন্ডিতরা হলো, একইগ্রামের সবেদুল ও আব্দুল হাকিম।

মামলার অপর দুই আসামি একই গ্রামের ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

স্পেশাল জজ আদালতের পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল খুন হয় শিশু ইমরান (১২)। তার বাবার সাথে মা কহিনূর বেগমের বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামি সবদুলের সাথে তার মায়ের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে প্রথম ঘরের সন্তান ইমরানের সাথে কহিনূর বেগমের দ্বিতীয় স্বামী সবদুলের প্রায় ঝগড়া হতো। ঝগড়ার সময় সবদুল ইমরানকে হত্যার করার হুমকি দিতো। কহিনূর বেগম সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সবদুলের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়।

এতে ক্ষিপ্ত হয় সবদুল। বিচ্ছেদের প্রায় সাত মাস পর ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল ইমরান খেলা করতে বের হয়ে আর বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার পানের বরেজের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইমরানের নানা হায়াৎ আলী মল্লিক সবদুল, আব্দুল হাকিম, ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পিপি আরো জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সবদুল ও আব্দুল হাকিমকে মৃত্যুদন্ড ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এছাড়া ইদ্রিস আলী ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেন।

রায় ঘোষণা শেষে দন্ডিত আব্দুল হাকিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সবদুল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।