সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সরকার খালেদাকে কেন জেলে রাখল –ব্যাখ্যা এমপি রুমি ‘র

ঢাকা ব্যুরো ।।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একমাত্র বাধা বলে মনে করে। তিনি বলেন, মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রেখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ মামলার মেরিট, তার বয়স, শারীরিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, জেন্ডার- যে কোনো বিবেচনায় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জামিন তার অধিকার। তিনি যাতে সহজেই মুক্তি না পান তাই একটির পর একটি মামলা, নতুন নতুন মামলা, মিথ্যা মামলা তার সামনে আনা হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের সময়ে মামলা হয়েছে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো তুলে নিয়েছে। একদিকে পুরনো মামলায় বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এক লাখ মামলা। নতুন করে মামলার নামে এক অদ্ভুত মামলা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে মৃত ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তি, ঘটনা ঘটার আগেই মামলা- এই ধরনের অদ্ভুত সব মামলা করা হয়েছে গায়েবি মামলার অধীনে।
আইনের শাসন আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই। সরকার নিম্ন আদালতকে কব্জা করে এখন হাত বাড়িয়েছে উচ্চ আদালতের দিকে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সেই রায়ে তিনি বলেছিলেন, ডুবন্ত বিচার বিভাগ কোন রকমের নাক উঁচু করে টিকে আছে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে যে বিচারক নিম্ন আদালতে খালাস দিয়েছিলেন তাকে পরে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগ এখনও কার্যত সরকারের অধীনেই রয়ে গেছে। সেপারেশন অব পাওয়ার অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে তো রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ তৈরি করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশকে সোনার বাংলা করা -শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি

সরকার খালেদাকে কেন জেলে রাখল –ব্যাখ্যা এমপি রুমি ‘র

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০১৯

ঢাকা ব্যুরো ।।

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতা প্রলম্বিত করার লক্ষ্যে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একমাত্র বাধা বলে মনে করে। তিনি বলেন, মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে কারাগারে আটকে রেখে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ মামলার মেরিট, তার বয়স, শারীরিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, জেন্ডার- যে কোনো বিবেচনায় বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জামিন তার অধিকার। তিনি যাতে সহজেই মুক্তি না পান তাই একটির পর একটি মামলা, নতুন নতুন মামলা, মিথ্যা মামলা তার সামনে আনা হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এ সময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ১/১১ সরকারের সময়ে মামলা হয়েছে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো তুলে নিয়েছে। একদিকে পুরনো মামলায় বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে এক লাখ মামলা। নতুন করে মামলার নামে এক অদ্ভুত মামলা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে মৃত ব্যক্তি, বিদেশে থাকা ব্যক্তি, ঘটনা ঘটার আগেই মামলা- এই ধরনের অদ্ভুত সব মামলা করা হয়েছে গায়েবি মামলার অধীনে।
আইনের শাসন আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, দেশে আইনের শাসন নেই। সরকার নিম্ন আদালতকে কব্জা করে এখন হাত বাড়িয়েছে উচ্চ আদালতের দিকে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারণে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সেই রায়ে তিনি বলেছিলেন, ডুবন্ত বিচার বিভাগ কোন রকমের নাক উঁচু করে টিকে আছে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে যে বিচারক নিম্ন আদালতে খালাস দিয়েছিলেন তাকে পরে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগ এখনও কার্যত সরকারের অধীনেই রয়ে গেছে। সেপারেশন অব পাওয়ার অনেকটা সোনার পাথর বাটির মতো। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে তো রাষ্ট্রের জন্য সমূহ বিপদ তৈরি করবে।