শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় কিছু ঘরোয়া টিপস, জেনে রাখুন

নাজমা খাতুন ।। 

বর্ষার সময় কিছু উপায় জানা থাকলে ছোটখাটো অনেক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। উপায় জানালেন নাহার সুলতানা

বর্ষায় ঘর সহজেই নোংরা হতে পারে। তাই মেঝেতে উপযুক্ত ম্যাট ব্যবহার করুন। বাড়ির সামনের দরজায় ও প্রতিটি ঘরে ঢোকার মুখে ওয়াশেবল রবার ম্যাট রাখুন। বাথরুমের সামনে অ্যান্টি স্কিড ম্যাট পেতে দিন। জানালা বা দরজা দিয়ে বর্ষার পানি ভেতরে ঢোকার আশঙ্কা থাকলে সুতির পুরনো কাপড় বা চট বৃষ্টির সময়টাতে বিছিয়ে রাখতে পারেন। পানি শুষে নেমে। বৃষ্টি থেমে গেলে জায়গাটা শুকনো করে মুছে নিন।

বর্ষার সময় আলমারিতে ড্যাম্পের ভ্যাপসা গন্ধ হয়। আলমারিতে ন্যাপথলিন বল, রুম ফ্রেশনার বার ইত্যাদি রাখুন। এছাড়া শুকনো খোলায় সামান্য লবঙ্গ, নিমপাতা সেঁকে নিয়ে কাগজে মুড়ে আলমারির কোণে রাখতে পারেন। ভ্যাপসা গন্ধ দূর হবে।

আলমারিতে পোকার উপদ্রব থাকলে আলমারির এক কোণে শুকনো লঙ্কা রাখুন। ভালো শাড়ির সঙ্গে কাপড়ের পুঁটলিতে মুড়ে কয়েকটি লবঙ্গ রাখুন। পোকামাকড় হবে না। ভেজাভাব দূর করতে আলমারির ভেতর চকের ছোট টুকরো রাখুন।

বর্ষায় কাঠের আসবাবের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই সময় অন্তত একবার নিমতেল স্প্রে করুন। আসবাবে যাতে ময়েশ্চার না বসে তার জন্য নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। ভিজে কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব মুছবেন না। এতে ময়েশ্চার হতে পারে। বর্ষাকালে অনেকেই রাবারের জুতো পরেন। এসব জুতা আবার ভিজে গেলে শক্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে জুতা এক টুকরো মোম দিয়ে ঘষে নিন। এরপর নরম সুতির কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। জুতা নরম থাকবে।

বর্ষায় বিছানা বালিশে পোকামাকড়ের উপদ্রব এড়াতে বালিশের মধ্যে সামান্য কর্পূর ভরে রাখুন। বিছানার তোশকের তলায় শুকনো নিমপাতা বিছিয়ে রাখুন। পোকামাকড় কম হবে। বর্ষার সময় যেদিন রোদ উঠবে জানালা দরজা সব খুলে দিন। ঘরের ভ্যাপসা ও গুমোট ভাব কেটে যাবে।

বর্ষাকালে কিচেন স্যাঁতসেঁতে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সিঙ্কের এক কোণে লিক্যুইড সোপ রাখুন এবং সব সময় হাত ধুয়ে নিয়ে খাবার জিনিসে হাত দিন। রান্নাঘরে টাওয়েল রাখুন এবং সবসময় শুকনো রাখতে চেষ্টা করুন।

রান্নাঘরের ডাস্টবিনে সরাসরি ময়লা না ফেলে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলুন। ডাস্টবিনে এক চামচ লবণ ফেলে রাখুন। দুর্গন্ধ কম হবে। প্রতিদিন রাতে রান্নাঘরের বেসিনে অল্প গরম পানি ঢালুন। আরশোলার উপদ্রব হবে না।

বর্ষায় লবণ গলে যাওয়ার সমস্যা হয়। তাই লবণ ঝরঝরে রাখতে লবণের কৌটায় কয়েকটা লবঙ্গ দিয়ে রাখুন। সুজি, বেসন ও ডালে ফাঙ্গাস  সৃষ্টি হতে পারে।  অল্প তাপে শুকনো খোলায় কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। অথবা মাইক্রোওয়েভে ২-৩ মিনিট গরম করে এরপর এয়ার টাইট কন্টেইনারে রেখে দিন।

বিস্কিট বা মুড়ির কৌটায় ব্লটিং পেপার রাখুন। মুচমুচে থাকবে। অল্প পরিমাণে বিট লবণ মসলিনের কাপড়ের মধ্যে পেঁচিয়ে বেঁধে ফেলুন। বিস্কুটের কৌটার মধ্যে এই পুঁটলি রাখুন। বিস্কুট মচমচে থাকবে। একইরকমভাবে পাঁপড়ও ভালো থাকবে।

দেশলাই এয়ার টাইট কন্টেইনারে রাখুন। সহজেই জ্বলবে। গোলমরিচ, এলাচ, জিরা, ধনে ইত্যাদির সঙ্গে শুকনো তেজপাতা রেখে দিন। মসলা ভালো থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

বর্ষায় কিছু ঘরোয়া টিপস, জেনে রাখুন

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯
নাজমা খাতুন ।। 

বর্ষার সময় কিছু উপায় জানা থাকলে ছোটখাটো অনেক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। উপায় জানালেন নাহার সুলতানা

বর্ষায় ঘর সহজেই নোংরা হতে পারে। তাই মেঝেতে উপযুক্ত ম্যাট ব্যবহার করুন। বাড়ির সামনের দরজায় ও প্রতিটি ঘরে ঢোকার মুখে ওয়াশেবল রবার ম্যাট রাখুন। বাথরুমের সামনে অ্যান্টি স্কিড ম্যাট পেতে দিন। জানালা বা দরজা দিয়ে বর্ষার পানি ভেতরে ঢোকার আশঙ্কা থাকলে সুতির পুরনো কাপড় বা চট বৃষ্টির সময়টাতে বিছিয়ে রাখতে পারেন। পানি শুষে নেমে। বৃষ্টি থেমে গেলে জায়গাটা শুকনো করে মুছে নিন।

বর্ষার সময় আলমারিতে ড্যাম্পের ভ্যাপসা গন্ধ হয়। আলমারিতে ন্যাপথলিন বল, রুম ফ্রেশনার বার ইত্যাদি রাখুন। এছাড়া শুকনো খোলায় সামান্য লবঙ্গ, নিমপাতা সেঁকে নিয়ে কাগজে মুড়ে আলমারির কোণে রাখতে পারেন। ভ্যাপসা গন্ধ দূর হবে।

আলমারিতে পোকার উপদ্রব থাকলে আলমারির এক কোণে শুকনো লঙ্কা রাখুন। ভালো শাড়ির সঙ্গে কাপড়ের পুঁটলিতে মুড়ে কয়েকটি লবঙ্গ রাখুন। পোকামাকড় হবে না। ভেজাভাব দূর করতে আলমারির ভেতর চকের ছোট টুকরো রাখুন।

বর্ষায় কাঠের আসবাবের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই সময় অন্তত একবার নিমতেল স্প্রে করুন। আসবাবে যাতে ময়েশ্চার না বসে তার জন্য নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। ভিজে কাপড় দিয়ে কাঠের আসবাব মুছবেন না। এতে ময়েশ্চার হতে পারে। বর্ষাকালে অনেকেই রাবারের জুতো পরেন। এসব জুতা আবার ভিজে গেলে শক্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে জুতা এক টুকরো মোম দিয়ে ঘষে নিন। এরপর নরম সুতির কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন। জুতা নরম থাকবে।

বর্ষায় বিছানা বালিশে পোকামাকড়ের উপদ্রব এড়াতে বালিশের মধ্যে সামান্য কর্পূর ভরে রাখুন। বিছানার তোশকের তলায় শুকনো নিমপাতা বিছিয়ে রাখুন। পোকামাকড় কম হবে। বর্ষার সময় যেদিন রোদ উঠবে জানালা দরজা সব খুলে দিন। ঘরের ভ্যাপসা ও গুমোট ভাব কেটে যাবে।

বর্ষাকালে কিচেন স্যাঁতসেঁতে হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সিঙ্কের এক কোণে লিক্যুইড সোপ রাখুন এবং সব সময় হাত ধুয়ে নিয়ে খাবার জিনিসে হাত দিন। রান্নাঘরে টাওয়েল রাখুন এবং সবসময় শুকনো রাখতে চেষ্টা করুন।

রান্নাঘরের ডাস্টবিনে সরাসরি ময়লা না ফেলে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলুন। ডাস্টবিনে এক চামচ লবণ ফেলে রাখুন। দুর্গন্ধ কম হবে। প্রতিদিন রাতে রান্নাঘরের বেসিনে অল্প গরম পানি ঢালুন। আরশোলার উপদ্রব হবে না।

বর্ষায় লবণ গলে যাওয়ার সমস্যা হয়। তাই লবণ ঝরঝরে রাখতে লবণের কৌটায় কয়েকটা লবঙ্গ দিয়ে রাখুন। সুজি, বেসন ও ডালে ফাঙ্গাস  সৃষ্টি হতে পারে।  অল্প তাপে শুকনো খোলায় কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। অথবা মাইক্রোওয়েভে ২-৩ মিনিট গরম করে এরপর এয়ার টাইট কন্টেইনারে রেখে দিন।

বিস্কিট বা মুড়ির কৌটায় ব্লটিং পেপার রাখুন। মুচমুচে থাকবে। অল্প পরিমাণে বিট লবণ মসলিনের কাপড়ের মধ্যে পেঁচিয়ে বেঁধে ফেলুন। বিস্কুটের কৌটার মধ্যে এই পুঁটলি রাখুন। বিস্কুট মচমচে থাকবে। একইরকমভাবে পাঁপড়ও ভালো থাকবে।

দেশলাই এয়ার টাইট কন্টেইনারে রাখুন। সহজেই জ্বলবে। গোলমরিচ, এলাচ, জিরা, ধনে ইত্যাদির সঙ্গে শুকনো তেজপাতা রেখে দিন। মসলা ভালো থাকবে।