সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যশোরে কৃষক মনিরুলের খুনের পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া

যশোর ব্যুরো ।।

যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামের মনিরুল ইসলাম মোল্যা ওরফে মিনারুল হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচদিন পর তার স্ত্রীকে আটক করায় নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরকীয়ার জের থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত কিছুই বলতে চাইছেনা।
যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামের মৃত সদর আলী মোল্যার ছোট ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারুলের বড় ভাইয়েরা থাকতেন পুরোনো বাড়িতে। আর মাকে নিয়ে নতুন বাড়িতে থাকতেন মিনারুল। মিনারুল কৃষি কাজ করতেন। মাঠেই কাটে তার সারাটা দিন। স্ত্রী সাথী খাতুন পৌনে তিন বছর বয়সের মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। আর এ সুযোগে মিনারুলের বন্ধু একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাবু মাঝে মধ্যে মিনারুলের বাড়িতে যাতায়াত করতো। এতেই সাথীর সাথে বাবুর সু-সম্পর্কের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা মনে করে। মিনারুল বিষয়টি নজরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে স্ত্রী সাথী খাতুনের তার উপরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিনারুল গরুর জন্য বিচালি কাটছিলেন। হাতের কাছে থাকা মাত্র দুই আটি বিচালি থাকতেই কাজ শেষ করেন তিনি। তবে বিচালি কাটার সময় পাশে স্ত্রী সাথী খাতুন বসেছিলেন। মিনারুল বিচালি কাটা শেষে বাথরুম সেরে নিজেই কোথায় চলে যান। বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখুজি করে সন্থান না পেয়ে পরিবারের অন্যদের জানান। গভীর রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে দু’শ’ গজ দুরে ইসমাইল হোসেনের বাগানে ঝোপের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় নিহতের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
অবশ্য ঘটনার দিনই পুলিশ সন্দেহমূলকভাবে মিনারুলের বন্ধু একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাবুকে আটক করে। গত পাঁচদিন পার হলেও তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।
এরপর গত রোববার রাতে হত্যার মোটিভ ঘুরতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। কারণ পুলিশ ওই রাতে নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুনকেও আটক করেছে। শুধু তাই নয় তার সাথে একই গ্রামের জোহর আলীর ছেলে ফজলুর রহমান এবং আব্দুল গণির ছেলে আলাউদ্দিনকেও আটক করেছে। চারজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফলে ঘটনার পাঁচদিন পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করায় নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরকীয়ার জের থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত কিছুই বলতে চাইছেনা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশকে সোনার বাংলা করা -শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি

যশোরে কৃষক মনিরুলের খুনের পেছনে স্ত্রীর পরকীয়া

প্রকাশের সময় : ০৭:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯
যশোর ব্যুরো ।।

যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামের মনিরুল ইসলাম মোল্যা ওরফে মিনারুল হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পাঁচদিন পর তার স্ত্রীকে আটক করায় নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরকীয়ার জের থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত কিছুই বলতে চাইছেনা।
যশোর সদর উপজেলার সালতা গ্রামের মৃত সদর আলী মোল্যার ছোট ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনারুলের বড় ভাইয়েরা থাকতেন পুরোনো বাড়িতে। আর মাকে নিয়ে নতুন বাড়িতে থাকতেন মিনারুল। মিনারুল কৃষি কাজ করতেন। মাঠেই কাটে তার সারাটা দিন। স্ত্রী সাথী খাতুন পৌনে তিন বছর বয়সের মেয়ে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। আর এ সুযোগে মিনারুলের বন্ধু একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাবু মাঝে মধ্যে মিনারুলের বাড়িতে যাতায়াত করতো। এতেই সাথীর সাথে বাবুর সু-সম্পর্কের সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা মনে করে। মিনারুল বিষয়টি নজরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে স্ত্রী সাথী খাতুনের তার উপরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিনারুল গরুর জন্য বিচালি কাটছিলেন। হাতের কাছে থাকা মাত্র দুই আটি বিচালি থাকতেই কাজ শেষ করেন তিনি। তবে বিচালি কাটার সময় পাশে স্ত্রী সাথী খাতুন বসেছিলেন। মিনারুল বিচালি কাটা শেষে বাথরুম সেরে নিজেই কোথায় চলে যান। বিভিন্ন স্থানে খুঁজাখুজি করে সন্থান না পেয়ে পরিবারের অন্যদের জানান। গভীর রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে দু’শ’ গজ দুরে ইসমাইল হোসেনের বাগানে ঝোপের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এঘটনায় নিহতের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে পরদিন কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
অবশ্য ঘটনার দিনই পুলিশ সন্দেহমূলকভাবে মিনারুলের বন্ধু একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে বাবুকে আটক করে। গত পাঁচদিন পার হলেও তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়নি।
এরপর গত রোববার রাতে হত্যার মোটিভ ঘুরতে শুরু করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। কারণ পুলিশ ওই রাতে নিহতের স্ত্রী সাথী খাতুনকেও আটক করেছে। শুধু তাই নয় তার সাথে একই গ্রামের জোহর আলীর ছেলে ফজলুর রহমান এবং আব্দুল গণির ছেলে আলাউদ্দিনকেও আটক করেছে। চারজনকেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ফলে ঘটনার পাঁচদিন পর নিহতের স্ত্রীকে আটক করায় নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পরকীয়ার জের থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত কিছুই বলতে চাইছেনা।