Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১মঙ্গলবার , ২০ আগস্ট ২০১৯
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

সাতক্ষীরা শহরের পানি নিষ্কাশন এর পথে পথে বাঁধা

বার্তাকন্ঠ
আগস্ট ২০, ২০১৯ ৫:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাসুদ পারভেজ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পানি নিষ্কাশনে পথে পথে বাঁধার কারণে সাতক্ষীরা পৌর এলাকাসহ জেলার নিম্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। অধিকাংশ স্থানেই মৎস্য ঘেরের বাঁধগুলো পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার অনেক স্থানে সরকারি রাস্তার কালভার্টগুলো ঘের মালিকরা বন্ধ করে রাখায় পানি বের হতে পারছে না।  রবিবার শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
বাইপাস সড়কের দেবনগর মথুরাপুর এলাকায় ৫টি কালভার্টের সবকটিই ঘের মালিকরা বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩০০ বিঘা জমির সদ্য রোপা আমন তলিয়ে গেছে। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দেবনগর ও মথুরাপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর। ওই এলাকায় বসবাসকারী এড. রফিকুল ইসলাম জানান, ওমর বিলের খাতাপ মসজিদের পাশের কালভার্টটি বন্ধ করে রেখেছেন ঘের মালিক রবিউল ইসলাম। ওই রাস্তার পরের কালভার্টটি ঘেরমালিক নূর ইসলাম, তার পরেরটি সিরাজুল ইসলাম, তার পরেরটি আশরাফ আলী এবং মোহাম্মদ আলী বন্ধ করে রেখেছেন।
তিনি বলেন, কালভার্টগুলো খুলে দিলে এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতো।
এদিকে শহরের গড়েরকান্দা হাবুকুড় বিলের পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৎস্য ঘেরের বাঁধ। গড়েরমুখ সংলগ্ন মন্টু মিয়ার ইটেরভাটার সামনে পানি নিষ্কাশনে পথ বন্ধ করে সেখানে বাঁধ দেওয়ায় এলাকার অন্তত ২০টি পরিবার জলমগ্ন হয়ে রয়েছেন।
এদিকে গদাইবিল, শুলকোর বিল ও খেজুরডাঙি এলাকায় মাঠঘাট ও নিচু এলাকার বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে আছে।
শুলকোর বিলের রাস্তার কালভার্টগুলো বন্ধ দেখা যায়। মাগুরা এলাকার গ্রাম ডা. মুনসুর রহমান জানান, ঘের মালিকরা এগুলো বন্ধ করে রেখেছেন।
কাটিয়া মাঠপাড়া এলাকার আবু বক্কার (৬৫) জানান, বিলের ভিতর মৎস্য ঘেরের বাঁধগুলোর কারণে এলাকার পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। একই এলাকার রাবেয়া খাতুন (৭৫) বলেন, যতদিন ঘের ছিল না ততদিন কোন সমস্যা হয়নি। এখন ঘেরের কারণে এখন পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। শহরের কামালনগর, মধুমল্লারডাঙি, রসুলপুর, পলাশপোল, গড়েরকান্দা, ইটাগাছা, টাবরার ডাঙি, সুলতানপুর, রথখোলার বিল, ঘড্ডির ডাঙি, আলিয়ামাদ্রাসা পাড়া, বদ্দীপুর কলোনীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অসংখ্য বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। এমনকি সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্তর জলমগ্ন থাকায় প্রধান গেট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সেখানে শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিকল্প পথ হিসেবে জেলা জজ আদালতের গেট দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এদিকে রবিবার বিকেলে পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি ও কাউন্সিলররা ইটাগাছার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় এলাকাবাসি তাদের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা জলাবদ্ধতার জন্য ঘের মালিকদের দায়ী করেন। পৌর মেয়র এসময় তাদের কথা শুনে আজ সোমবার সকালের বাঁধ কেটে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। অন্যথায় জনসাধারণ জনস্বার্থে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। পৌর মেয়র আরও বলেন, পানি নেমে গেলে রাস্তাঘাট সংস্কার করা হবে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্ন অঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। উপজেলাগুলোতেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের ও বাঁধের কারণে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি সূত্রের।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।