মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবশেষে অমিত সাহা গ্রেপ্তার

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ :

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আলোচিত নাম ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহুবব আলম বলেন, আজ ভোরে সবুজবাগ এলাকা থেকে অমিতকে আটক হয়। রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে তোলা হবে।

বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আবরারকে হত্যার আগে জেরাকারীদের মধ্যে অমিত সাহাও ছিলেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, অমিত সাহা আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাগিংয়ের নামে এই ছাত্রলীগ নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে আসছেন। ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তাকে কৌশলে এই মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একাধিক শিক্ষার্থী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে হামলাকারীদের নির্মম নির্যাতনের মুখে আবরার দুবার বমি করেন। সঙ্গে প্রস্রাবও করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এনিয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করল পুলিশ।

ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। তবে তার অভিযোগ, যার নেতৃত্বে আবরারকে নির্যাতন করা হয়েছে, এজাহার থেকে তার নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

অবশেষে অমিত সাহা গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ :

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আলোচিত নাম ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মাহুবব আলম বলেন, আজ ভোরে সবুজবাগ এলাকা থেকে অমিতকে আটক হয়। রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে তোলা হবে।

বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহাকে গ্রেপ্তার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আবরারকে হত্যার আগে জেরাকারীদের মধ্যে অমিত সাহাও ছিলেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, অমিত সাহা আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাগিংয়ের নামে এই ছাত্রলীগ নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে আসছেন। ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তাকে কৌশলে এই মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

একাধিক শিক্ষার্থী ও এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে হামলাকারীদের নির্মম নির্যাতনের মুখে আবরার দুবার বমি করেন। সঙ্গে প্রস্রাবও করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এনিয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করল পুলিশ।

ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। তবে তার অভিযোগ, যার নেতৃত্বে আবরারকে নির্যাতন করা হয়েছে, এজাহার থেকে তার নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।