বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ মুসল্লি সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল : অনুদান প্রদান

কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা :=
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটি।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রধান ভোলার স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে প্রেরণ করা হবে। এর বাহিরে কিছু বলার নাই।
তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০ তারিখে তদন্ত কমিটি গঠনের পর আমরা দুই দিন সময় বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। তদন্ত শেষ করে আজ শনিবার তা জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেছি।
কমিটিতে আরও সদস্য ছিলেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিা আইসিটি আতাউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাসিনুল হাকিম।
উল্লেখ্যঃ গত ১৮ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আল্লাহ ও নবীজিকে গালাগালি করে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোরবার স্থানীয় মুসুল্লিরা বোরহানউদ্দিন ঈদগায়ের মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন। কিন্তু পুলিশ ঐ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি এবং মুসুল্লিদের সমাবেশ না করতে অনুরোধ করেন। পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত মুসুল্লিদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় সেখানে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বক্তব্য দিয়েছেন। মুসুল্লিরা সবাই তার বক্তব্য শুনেছে। যখন পুলিশ সুপার ষ্টেজ থেকে নেমে আসে তখন একদল উত্তেজিত জনতা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ও পাথর ছুড়ে মারে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি কক্ষে গিয়ে আশ্রায় নেয়। যখন উত্তেজিত জনতা ঐ কক্ষটির জানালা ভেঙ্গে ফেলে তখন পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাসশেল ও শর্টগানের ফাকা গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে গুলি চালায়। এসময় হাফেজ আবু রায়হান, শাহীন হোসাইন, হাফেজ মাহাফুজ পাটোয়ারী ও মিজানুর রহমান নামের ৪মুসুল্লি নিহত হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বোরহানউদ্দিন থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাত ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন হয়।
অপরদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ মুসল্লিা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ৪ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ৫ ল টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল নিহতদের পিতা-মাতার হাতে নগদ এই অর্থ তুলে দেন। ভোলা সদর আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর পে তিনি এই আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ উপলে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

অবশেষে জল্পনা সত্যি! মা হচ্ছেন দীপিকা

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ মুসল্লি সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল : অনুদান প্রদান

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৯
কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা :=
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত কমিটি।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রধান ভোলার স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে কাছে প্রেরণ করা হবে। এর বাহিরে কিছু বলার নাই।
তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০ তারিখে তদন্ত কমিটি গঠনের পর আমরা দুই দিন সময় বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। তদন্ত শেষ করে আজ শনিবার তা জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেছি।
কমিটিতে আরও সদস্য ছিলেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিা আইসিটি আতাউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাসিনুল হাকিম।
উল্লেখ্যঃ গত ১৮ অক্টোবর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক যুবকের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আল্লাহ ও নবীজিকে গালাগালি করে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোরবার স্থানীয় মুসুল্লিরা বোরহানউদ্দিন ঈদগায়ের মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করেন। কিন্তু পুলিশ ঐ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি এবং মুসুল্লিদের সমাবেশ না করতে অনুরোধ করেন। পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত মুসুল্লিদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় সেখানে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার বক্তব্য দিয়েছেন। মুসুল্লিরা সবাই তার বক্তব্য শুনেছে। যখন পুলিশ সুপার ষ্টেজ থেকে নেমে আসে তখন একদল উত্তেজিত জনতা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ও পাথর ছুড়ে মারে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি কক্ষে গিয়ে আশ্রায় নেয়। যখন উত্তেজিত জনতা ঐ কক্ষটির জানালা ভেঙ্গে ফেলে তখন পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাসশেল ও শর্টগানের ফাকা গুলি ছোড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে গুলি চালায়। এসময় হাফেজ আবু রায়হান, শাহীন হোসাইন, হাফেজ মাহাফুজ পাটোয়ারী ও মিজানুর রহমান নামের ৪মুসুল্লি নিহত হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বোরহানউদ্দিন থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাত ৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন হয়।
অপরদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ মুসল্লিা সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ৪ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ৫ ল টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল নিহতদের পিতা-মাতার হাতে নগদ এই অর্থ তুলে দেন। ভোলা সদর আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর পে তিনি এই আর্থিক অনুদান তুলে দেন। এ উপলে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে করেন।