Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১মঙ্গলবার , ৫ নভেম্বর ২০১৯
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন

জানুয়ারিতে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচনে নৌকা ধানের শীষের লড়াই

Shahriar Hossain
নভেম্বর ৫, ২০১৯ ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ :=

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক বছর পর জানুয়ারিতে ফের মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীষের জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

এক্ষেত্রে উত্তরের প্রার্থী নিরাপদ থাকলেও ঝুঁকিতে আছেন দক্ষিণের মেয়র। অপরদিকে দুই সিটিতেই তরুণ প্রার্থীকে প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি। উত্তরে গতবারের প্রার্থীই বহাল থাকলেও দক্ষিণে আসতে পারে নতুন মুখ।

দুই সিটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভোটারদের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় হাইকমান্ড। কেন্দ্রের নির্দেশ পেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করছেন কেউ কেউ।

জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে ১৮ নভেম্বরের পর যে কোনো দিন দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। রোববার কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে শুধু মেয়র নয়, কাউন্সিলর পদের জন্যও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলছে ভোটের প্রস্তুতি। কাউন্সিলর পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে দুই দল। যাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছে।হাইকমান্ডের এমন নির্দেশ পেয়ে ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা আশার আলো দেখছেন। দেরিতে হলেও এবার দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। দুই দলের বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র অনেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের জন্য আমরা ৫ বছর ধরেই কাজ করছি। আমাদের মেয়র কাউন্সিলররাও কাজ করেছে।কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তাদের আমরা কোনো ধরনের সমর্থন বা সহায়তা দেইনি। দলের গঠনতন্ত্র ও দেশের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থন দেয় না। আগামী দিনেও দেবে না।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষভাবে প্রার্থীদের সততা ও ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। আমার এটাও মনে হয়- যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বা যারা সন্দেহজনক, তারা অনেকে এবার আর মনোনয়ন চাইবেই না। তবে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে কারা নির্বাচন করবে, তাদের ব্যাপারেও আমরা খোঁজখবর রাখছি।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমরা সিটিসহ অন্যান্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছি। তবে প্রার্থীর ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রার্থীর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।আওয়ামী লীগ : ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে এবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে মনোনয়ন এবং কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা ও ব্যাকগ্রাউন্ড বিশেষভাবে যাচাই-বাছাই করবে ক্ষমতাসীনরা।এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ কয়েক নেতা প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও জনপ্রিয় নেতাদের বিশেষ নজরে রাখছেন তারা।

এবারের সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। দলটি নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট জমজমাট হবে, সেই সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হবে।এ কারণে আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রতিপক্ষ আটঘাট বেঁধে নির্বাচনে নামবে। ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক শক্তি আছে তাদের।এদিকে ঢাকার দুই সিটিতে যোগ্যদের প্রার্থী করতে চায় আওয়ামী লীগ। দক্ষিণে মেয়র সাঈদ খোকন আবারও মনোনয়ন চাইবেন। তবে নানা কারণে তার মনোনয়ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

ফলে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস বা ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন।অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। কারণ নিজের যোগ্যতা প্রমাণে খুব বেশি সময় পাননি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম। সে বিবেচনায় তাকে আরেকবার সুযোগ দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নাম আসে। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ছাড়াও চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগও ওঠেছে। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দুই কাউন্সিলরকে গ্রেফতারও করেছে র‌্যাব।এসব কারণে কাউন্সিলরদের ওপর ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ ধরনের বেশির ভাগ কাউন্সিলরের কপাল পুড়তে পারে এবার। অবশ্য অনেক নেতার ধারণা, এ ধরনের কাউন্সিলররা এবার মনোনয়নই চাইবে না।

বিএনপি : বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে সব ধরনের নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি। আগামী দিনে স্থানীয় সরকারসহ সব নির্বাচনেই অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।নীতিনির্ধারকদের এমন ঘোষণার পরপরই সিটি কর্পোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেন। সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে- এমনটা ধরে নিয়ে তারা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঢাকার দুই সিটিতেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন বাসাবাড়ি দোকানপাট, বিপণিবিতানে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে লিফলেট বিতরণ করেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ডেঙ্গুতে নিহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায়ও ছুটে যান তারা।বিগত নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল। জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। তবে দলের হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন।

দক্ষিণে মির্জা আব্বাসের চেয়ে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে মনোনয়ন দেয়ার পক্ষে দলের একটি অংশ। তাদের মতে, বিগত নির্বাচনে আব্বাসকে মনোনয়ন দেয়া হলেও তার অুনপস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন আফরোজা।

আব্বাস দম্পতি ছাড়া দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন খোকা। এর আগে সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বার্থে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নেননি।যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে আলাপকালে ইশরাক যুগান্তরকে বলেন, দল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে লড়ব। আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন। তাই বাবার অভিজ্ঞতাকেও আমি কাজে লাগাতে পারব।

দক্ষিণে মেয়র পদে আলোচনায় আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। তার ঘনিষ্ঠদের কাছে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। দলের নীতিনির্ধারকদের কারও কারও সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন সোহেল।সম্প্রতি মহানগর দক্ষিণের একাধিক সভায়ও নেতাকর্মীরা তাকে মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেন। তবে পুরো বিষয়টি হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান হাবিব উন নবী সোহেল।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা সিটি উত্তরের ভোটে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ওই নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে উত্তরের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন তিনি। বিএনপি শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জন করলেও তাবিথ আউয়াল কয়েক লাখ ভোট পান।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, দল নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা জানি না। অংশ নিলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেব। তবে দল নির্বাচনে অংশ নিলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে ভোট করার ইচ্ছা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারব বলে আশা করি।তাবিথ আউয়ালের পাশাপাশি উত্তরের মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। এরই মধ্যে তিনি প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময়ও করছেন।জানতে চাইলে সেলিমবলেন, আমি বর্তমানে এলডিপিতে থাকলেও আমার রাজনীতি শুরু হয় বিএনপির হাত ধরেই। জোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে বলে আশা করি।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
 
%d bloggers like this: