রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রতিবেশী দেশ গুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ঢাকা ব্যুরো :=

প্রতিবেশী   দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের স্থলবন্দরগুলো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় বন্দরের সংখ্যা ২৪টি। এর মধ্যে ১২টি স্থলবন্দর চালু রয়েছে। এগুলো হলো বেনাপোল, সোনামসজিদ, হিলি, বুড়িমারী, আখাউড়া, বিবিরবাজার, বাংলাবান্ধা, টেকনাফ, ভোমরা, নাকুগাঁও, তামাবিল ও সোনাহাট স্থলবন্দর।

চালুকৃত বন্দরের মধ্যে পাঁচটি বেসরকারি অপারেটরদের পরিচালনায় এবং সাতটি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

ছয়টি স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে আছে সিলেটের শেওলা, খাগড়াছড়ির রামগড়, ফেনীর বিলোনিয়া, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া কড়ইতলী, জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর এবং হবিগঞ্জের বাল্লা। এর বাইরে ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামো বাড়ানোর কাজ চলছে। বাকি ছয়টি স্থলবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত অপেক্ষাধীন। এর মধ্যে আছে দর্শনা, জীবননগরের দৌলতগঞ্জ, নিলফামারীর চিলাহাটি, রাঙামাটির থেগামুখ, সিলেটের ভোলাগঞ্জ। তা ছাড়া প্রস্তাবিত দুটি স্থলবন্দর রয়েছে। এগুলো হলো মেহেরপুরের মুজিবনগর এবং কুষ্টিয়ার প্রাগপুর স্থলবন্দর।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১ : শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি টাকা। বেনাপোলে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণে ২৯০ কোটি টাকা, ঢাকায় শেরেবাংলানগরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ; যার ব্যয় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়ন ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়নে ব্যয় ৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়নে ব্যয় ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তা ছাড়া বেনাপোল ও বুড়িমারীতে এডিভি অর্থায়নে সাসেক প্রকল্প শেষ হয়েছে। ১৩০ কোটির টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইয়ার্ড, শেড, রাস্তা ও ট্রান্সশিপমেন্ট শেড।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বন্দর এবং মাসওয়ারি মাসুলের চিত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ক্রমেই রাজস্ব আয় বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয় এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয় বেড়ে হয় ২১১ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে স্থলবন্দরগুলোর আয় বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

১২টি স্থলবন্দর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই কোটি তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরে ২০১৭-১৮-তে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ৯ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। রপ্তানি ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

প্রতিবেশী দেশ গুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

প্রকাশের সময় : ১০:২১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯
ঢাকা ব্যুরো :=

প্রতিবেশী   দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের স্থলবন্দরগুলো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় বন্দরের সংখ্যা ২৪টি। এর মধ্যে ১২টি স্থলবন্দর চালু রয়েছে। এগুলো হলো বেনাপোল, সোনামসজিদ, হিলি, বুড়িমারী, আখাউড়া, বিবিরবাজার, বাংলাবান্ধা, টেকনাফ, ভোমরা, নাকুগাঁও, তামাবিল ও সোনাহাট স্থলবন্দর।

চালুকৃত বন্দরের মধ্যে পাঁচটি বেসরকারি অপারেটরদের পরিচালনায় এবং সাতটি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

ছয়টি স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে আছে সিলেটের শেওলা, খাগড়াছড়ির রামগড়, ফেনীর বিলোনিয়া, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া কড়ইতলী, জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর এবং হবিগঞ্জের বাল্লা। এর বাইরে ভোমরা স্থলবন্দরের অবকাঠামো বাড়ানোর কাজ চলছে। বাকি ছয়টি স্থলবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত অপেক্ষাধীন। এর মধ্যে আছে দর্শনা, জীবননগরের দৌলতগঞ্জ, নিলফামারীর চিলাহাটি, রাঙামাটির থেগামুখ, সিলেটের ভোলাগঞ্জ। তা ছাড়া প্রস্তাবিত দুটি স্থলবন্দর রয়েছে। এগুলো হলো মেহেরপুরের মুজিবনগর এবং কুষ্টিয়ার প্রাগপুর স্থলবন্দর।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি প্রজেক্ট-১ : শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দর এবং বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়ন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি টাকা। বেনাপোলে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণে ২৯০ কোটি টাকা, ঢাকায় শেরেবাংলানগরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ; যার ব্যয় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়ন ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা, বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়নে ব্যয় ৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়নে ব্যয় ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তা ছাড়া বেনাপোল ও বুড়িমারীতে এডিভি অর্থায়নে সাসেক প্রকল্প শেষ হয়েছে। ১৩০ কোটির টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইয়ার্ড, শেড, রাস্তা ও ট্রান্সশিপমেন্ট শেড।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের বন্দর এবং মাসওয়ারি মাসুলের চিত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ক্রমেই রাজস্ব আয় বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয় এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আয় বেড়ে হয় ২১১ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে স্থলবন্দরগুলোর আয় বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

১২টি স্থলবন্দর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই কোটি তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন। আগের অর্থবছরে ২০১৭-১৮-তে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ৯ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। রপ্তানি ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন।