মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বুলেট দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আটকানো যায় না: মমতা

আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ:=

ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের নয়া নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে ফের পথে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রতিবাদ মিছিলের শেষে স্বভাবসূলভ ভঙ্গিমায় বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। বলেন, আমরা হিংসা চাই না বলে পথে নেমেছি। এক হাজার বুলেটের যা দাম, দশটা মানুষ পথে নেমে কথা বললে তার দাম বেশি। বুলেট দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আটকানো যায় না।

এনডিটিভি জানায়, সিএবি সংসদে পাশ হওয়ার পরেই মমতা ঘোষণা করেন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা এবং হাওড়াজড়ে তিন দিন মহামিছিল করবে তৃণমূল। কথা মতো সোমবার শহরের রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল।

মঙ্গলবারও দুপুর ১টা নাগাদ যাদবপুরের ৮-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার পর্যন্ত যান। হাজার হাজার মানুষের সামনে সেখানেই তিনি বার্তা দেন- ‘পশ্চিমবঙ্গে নয়া নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে দেব না’। একই স্লোগান নিয়ে বুধবার দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো পথে নামেন তিনি। এদিন হাওড়া ময়দান শুরু হয়ে ব্রেবোর্ন রোড, টি-বোর্ড হয়ে মিছিলের গন্তব্য ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় রানি রাসমণি রোডে এবং শুক্রবার দুপুর তিনটায় পার্ক সার্কাসে নয়া নাগরিক আইন বিরোধি সভা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

প্রতিবাদ মিছিলের তৃতীয় দিন ছিল হাওড়া ময়দান। তৃণমূল নেত্রী হিসেবে তার এই মিছিল হবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা। মানুষের পাশে থেকে নতুন করে আরও একবার দেশজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন মমতা।

হাওড়া ময়দানের প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একদল বাউলশিল্পীও। তারা নাগরিকত্ব আইন বিরোধি গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। একইসঙ্গে মিছিল শুরুর আগে আগের দু দিনের মত এদিনও শপথবাক্য পাঠ করান তৃণমূল নেত্রী। এদিন শপথের মূল বক্তব্যই ছিল সর্বধর্মসমন্বয় আমাদের আদর্শ। কাউকে বাংলা ছাড়তে হবে না। কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

বুলেট দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আটকানো যায় না: মমতা

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯
আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ:=

ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের নয়া নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) বিরুদ্ধে ফের পথে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রতিবাদ মিছিলের শেষে স্বভাবসূলভ ভঙ্গিমায় বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। বলেন, আমরা হিংসা চাই না বলে পথে নেমেছি। এক হাজার বুলেটের যা দাম, দশটা মানুষ পথে নেমে কথা বললে তার দাম বেশি। বুলেট দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আটকানো যায় না।

এনডিটিভি জানায়, সিএবি সংসদে পাশ হওয়ার পরেই মমতা ঘোষণা করেন উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা এবং হাওড়াজড়ে তিন দিন মহামিছিল করবে তৃণমূল। কথা মতো সোমবার শহরের রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল।

মঙ্গলবারও দুপুর ১টা নাগাদ যাদবপুরের ৮-বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজার পর্যন্ত যান। হাজার হাজার মানুষের সামনে সেখানেই তিনি বার্তা দেন- ‘পশ্চিমবঙ্গে নয়া নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে দেব না’। একই স্লোগান নিয়ে বুধবার দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় দিনের মতো পথে নামেন তিনি। এদিন হাওড়া ময়দান শুরু হয়ে ব্রেবোর্ন রোড, টি-বোর্ড হয়ে মিছিলের গন্তব্য ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় রানি রাসমণি রোডে এবং শুক্রবার দুপুর তিনটায় পার্ক সার্কাসে নয়া নাগরিক আইন বিরোধি সভা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মমতা।

প্রতিবাদ মিছিলের তৃতীয় দিন ছিল হাওড়া ময়দান। তৃণমূল নেত্রী হিসেবে তার এই মিছিল হবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা। মানুষের পাশে থেকে নতুন করে আরও একবার দেশজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন মমতা।

হাওড়া ময়দানের প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একদল বাউলশিল্পীও। তারা নাগরিকত্ব আইন বিরোধি গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। একইসঙ্গে মিছিল শুরুর আগে আগের দু দিনের মত এদিনও শপথবাক্য পাঠ করান তৃণমূল নেত্রী। এদিন শপথের মূল বক্তব্যই ছিল সর্বধর্মসমন্বয় আমাদের আদর্শ। কাউকে বাংলা ছাড়তে হবে না। কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না।