Barta Kontho
নিবন্ধন নম্বর: ৪৬১রবিবার , ২২ ডিসেম্বর ২০১৯
  1. 1st Lead
  2. 2nd Lead
  3. অপরাধ
  4. আইটি বিশ্ব
  5. আইন ও আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. খেলাধুলা
  10. চাকুরি
  11. ছবি ঘর
  12. জাতীয়
  13. জেলার খবর
  14. ট্রাভেল
  15. নির্বাচন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ত্যাগের মনোভাব নিয়ে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Shahriar Hossain
ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো: ইদ্রিস আলী :=

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেশের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনারা যারা কঠোর প্রশিক্ষণের পর কাজে যোগ দেবেন তাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে, আত্মত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আপনারা দেশের মান-সম্মান আরও উজ্জ্বল করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী একাডেমিতে ‘মিডশিপম্যান-২০১৭ আলফা’ এবং ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার-২০১৯ ব্রাভো’ ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে বিদায়ী ক্যাডেটদের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ, ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী ক্যাডেটদের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌ দিবস উপলক্ষে ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জাতির পিতার প্রদত্ত ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন । আমাদের সমুদ্র সম্পদের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রসীমায় রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এই সমুদ্র সম্পদকে দেশের অর্থনীতিতে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোর্স সম্পন্ন করে কমিশন লাভকারী ৭২ জন নবীন কর্মকর্তার মধ্য থেকে কৃতিত্বের অধিকারী কর্মকর্তাদের মাঝে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করেন। পাসিং আউট কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০১৭/এ ব্যাচের ৬১ জন মিডশিপম্যান এবং ২০১৯/বি ব্যাচের ১১ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার রয়েছেন। যার মধ্যে ৭ জন মহিলা এবং ২ জন মালদ্বীপের কর্মকর্তা রয়েছেন।

মিডশিপম্যান ২০১৭/এ ব্যাচের রাইয়ান রহমান সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকষ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এছাড়া মিডশিপম্যান মো. সাইদিস সাকলাইন মিরান প্রশিক্ষণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ’ স্বর্ণ পদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৯/বি ব্যাচ থেকে এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. কামরুজ্জামান শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীর শ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাসির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মাদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নৌবাহিনীকে একটি যুগোপযোগী ও অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নৌবাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনবার সরকার গঠনের ফলে তার সরকারের উদ্যোগে এখন পর্যন্ত নৌবাহিনীতে মোট ২৭টি যুদ্ধ জাহাজ, দক্ষ কমান্ডো ও উদ্ধারকারী দল তথা ‘স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ কমান্ড’ এবং নৌবাহিনীর বৈমানিক দল বা অ্যাভিয়েশন উইং সৃষ্টি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ২০১৭ সালে নৌবহরে ২টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন সংযোজন করার ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি পূর্ণ ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, নৌবাহিনীতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের সরকার এ বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি সাধন করে যাচ্ছে।’

নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক পরিমণ্ডল ছাড়াও নারীর ক্ষমতায়ন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের আবাসন প্রকল্পসহ সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ইত্যাদি বহুমুখী কার্যক্রমে নৌবাহিনীর ভূমিকা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

মুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনসহ বীর নৌ কমান্ডোদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিবাহিনীর দুর্ধর্ষ নৌ-কমান্ডোগণ চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর এলাকায় হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি শত্রুবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর প্রায় শূন্য থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায় ২টি পেট্রল ক্র্যাফট নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু নৌবাহিনীর সকল প্রধান ঘাঁটিসমূহকে একযোগে কমিশন প্রদান করেন।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা তার দূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে ‘দা টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করেছিলেন, যার ফলে আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নৌবাহিনীকে বিশ্ব মানের করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একে তাই বিশ্ব মানের করে গড়ে তুলেছি।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদেরও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সুযোগ্য সন্তানেরা দেশ মাতৃকার সেবায় জীবনপন শপথ নিয়ে নৌবাহিনীতে অফিসার পদে কমিশন পেয়েছে। এই গৌরবময় ফলাফলের অংশীদার আপনারাও।’

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার । বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ বাস্তবায়ন শুরু করেছি। যাতে করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ এবং সুন্দর জীবন পেতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি ক্যাডেটদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা সমাপনী কেক কাটেন এবং নব্য কমিশন লাভকারী ক্যাডেটদের ‘অ্যাপলেট’ পরিধান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে ও অংশগ্রহণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী পরে দুরবিন দিয়ে নেভাল একাডেমির পাশে বঙ্গোপসাগরে নোঙর করে রাখা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় এ জাহাজ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
 
%d bloggers like this: