মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে স্ত্রীকে  পুড়িয়ে হত্যার চেস্টায় স্বামী গ্রেফতার

মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা : লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ=

লালমনিরহাট আদিতমারীতে যৌতুকের দাবিতে দুই সন্তানের জননী শিউলী বেগম (৩৪) গৃহবধূকে সারা শরীরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাষন্ড স্বামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর পুর্বে লালমনিরহাট সদর মিশন মোড় এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে শিউলী বেগমকে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়ী খাতাপাড়া বিসিক শিল্প নগরী এলাকার মৃত বক্তার আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম (৩৮) এর সাথে মোটা অংকের যৌতুক দিয়ে বিবাহ হয়। সংসার ভালই চলেছিল।কিছুদিন যাওয়ার পর সংসারের অভাবের তাড়নায় তার ম্বামী ও শশুড়ী আরও যৌতুকের জন্য শিউলীকে চাপ দিত এবং নানা সময়ে নির্যাতন করত।এদিকে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) শিউলী বাচ্চাকে ও তার ননদের বাচ্চার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় বাধা দিলে তখন ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘরের ভিতর দরজা বন্ধ করে তার পাষন্ড স্বামী খাইরুল,শশুড়ী রোকেয়া বেওয়া (৫৫), ননদ জরিনা বেগম (৩৫) সহ সকলে হত্যার উদ্দেশ্য তার পড়নের কাপড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। এ অবস্থায় তার পুরো গায়ে আগুন লেগে যায়। তার আতœচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে তার পারিবারিক লোকজনকে খবর দিলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধুকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।নির্যাতিত গৃহবধুর বড় ভাই মালেক জানান, নির্যাতনকারী স্বামী খাইরুল প্রায় সময় নেশা করত এবং সংসারের অভাব ও নেশার টাকার জন্য আমার বোনের উপর প্রায় সময় বোনের ম্বামী ও শশুড়ী মিলে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। ঘটনার দিন ছোট বোনকে হত্যার করার উদ্দেশ্যে শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে পুড়ে যায়। বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ৪ তলা ৬ নং কেবিনে মুমুর্ষ্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনায় গৃহবধুর বড় ভাই আব্দুল মালেক বাদী হয়ে পাষন্ড স্বামী খাইরুল ইসলাম (৩৫) শশুড়ী রোকেয়া বেওয়া (৫৫) ও ননদ জরিনা বেগম (৩৫) ৩ জনের নামে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুকৌশলে তার স্বামীকে রোববার (২২ ডিসেম্বর) গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনা বেগম বলেন, শিউলী বেগমের শরীরের গোপনাঙ্গ দুই পায়ের গোড়ালি ডান হাতের কন্জি হইতে বাহু পর্যন্ত পুড়িয়া জখম হয়েছে এবং ক্ষত স্থান হতে রক্ত হরন হচ্ছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।
আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকী আসাম গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণকাজ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে স্ত্রীকে  পুড়িয়ে হত্যার চেস্টায় স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফা : লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ=

লালমনিরহাট আদিতমারীতে যৌতুকের দাবিতে দুই সন্তানের জননী শিউলী বেগম (৩৪) গৃহবধূকে সারা শরীরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাষন্ড স্বামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ বছর পুর্বে লালমনিরহাট সদর মিশন মোড় এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে শিউলী বেগমকে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়ী খাতাপাড়া বিসিক শিল্প নগরী এলাকার মৃত বক্তার আলীর ছেলে খাইরুল ইসলাম (৩৮) এর সাথে মোটা অংকের যৌতুক দিয়ে বিবাহ হয়। সংসার ভালই চলেছিল।কিছুদিন যাওয়ার পর সংসারের অভাবের তাড়নায় তার ম্বামী ও শশুড়ী আরও যৌতুকের জন্য শিউলীকে চাপ দিত এবং নানা সময়ে নির্যাতন করত।এদিকে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) শিউলী বাচ্চাকে ও তার ননদের বাচ্চার সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় বাধা দিলে তখন ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘরের ভিতর দরজা বন্ধ করে তার পাষন্ড স্বামী খাইরুল,শশুড়ী রোকেয়া বেওয়া (৫৫), ননদ জরিনা বেগম (৩৫) সহ সকলে হত্যার উদ্দেশ্য তার পড়নের কাপড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। এ অবস্থায় তার পুরো গায়ে আগুন লেগে যায়। তার আতœচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে তার পারিবারিক লোকজনকে খবর দিলে নির্যাতনের শিকার গৃহবধুকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।নির্যাতিত গৃহবধুর বড় ভাই মালেক জানান, নির্যাতনকারী স্বামী খাইরুল প্রায় সময় নেশা করত এবং সংসারের অভাব ও নেশার টাকার জন্য আমার বোনের উপর প্রায় সময় বোনের ম্বামী ও শশুড়ী মিলে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। ঘটনার দিন ছোট বোনকে হত্যার করার উদ্দেশ্যে শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পর তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে পুড়ে যায়। বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ৪ তলা ৬ নং কেবিনে মুমুর্ষ্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনায় গৃহবধুর বড় ভাই আব্দুল মালেক বাদী হয়ে পাষন্ড স্বামী খাইরুল ইসলাম (৩৫) শশুড়ী রোকেয়া বেওয়া (৫৫) ও ননদ জরিনা বেগম (৩৫) ৩ জনের নামে আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে পুলিশ সুকৌশলে তার স্বামীকে রোববার (২২ ডিসেম্বর) গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনা বেগম বলেন, শিউলী বেগমের শরীরের গোপনাঙ্গ দুই পায়ের গোড়ালি ডান হাতের কন্জি হইতে বাহু পর্যন্ত পুড়িয়া জখম হয়েছে এবং ক্ষত স্থান হতে রক্ত হরন হচ্ছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।
আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকী আসাম গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।