বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চেসিস আমদানি হ্রাস, নিন্ম শুল্কহারের পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব কমেছে বেনাপোল কাস্টমসে

তানজীর মহসিন :=

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ক্রমেই কমছে রাজস্ব আহরণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কম হয়েছে। বিগত অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব আহরণ ছিল ১৭৪৬ কোটি । রাজস্ব হ্রাস ২৮.২৬ শতাংশ ।

সুত্র মারফত জানা যায়, নিন্ম শুল্কহার ও মূল্যের পণ্যের আমদানি বিপুল পরিমানে বেড়েছে । ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি ৪৫৮৭০৮ মেট্রিক টন । ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি বেড়েছে ৩৪৯৫৭৬ মেট্রিক টন । প্রবৃদ্ধি ৩২০ শতাংশ । মোট আমদানিকৃত পণ্যের ৪৮ শতাংশই ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার । জানা গেছে, নিন্ম শুল্কহারের ৬৮ শতাংশ পণ্যে রাজস্ব আদায় ৬ শতাংশ ।

প্রধান প্রধান রাজস্ব প্রদানকারী এবং বানিজ্যিক পণ্য যেমন রাবার টায়ার, শাড়ি, থ্রিপিস, অটোপার্টস, কসমেটিক্স, পারফিউম ইত্যাদি আমদানি কমেছে । ২৫% শুল্কহারের পণ্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি আমদানি কমেছে ৩৭ শতাংস । কাস্টমসের সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সমান আমদানি হলে বর্তমান অর্থবছরে ৫০৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় সম্ভব হতো । ফলে রাজস্ব আদায় হতো ১৭৫৭ কোটি টাকা ।

আবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি চেসিস আমদানি ১৯১৩৩ টি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে চেসিস আমদানি ৭৭৮৫ টি । কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ । চেসিস আমদানি হ্রাস বেনাপোলে রাজস্ব কমে যাওয়ার মূল কারন । জানা গেছে, শুধু মাত্র পাঁচ থেকে ২০ টনের ডিজেল ইঞ্জিনের চেসিস থেকে নভেম্বর অবদি সময়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব কমেছে ৩০৭ কোটি টাকা । বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো সুবিধার ঘাটতি কারণে রাজস্ব আদায়ে এ ঘাটতি।তবে এটি শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কাস্টমস কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই -নভেম্বর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪২৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৫৩ কোটি ৮০ লাখ, আগস্টে ৫০৬ কোটি ২৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ, অক্টোবরে ৪২৮ কোটি ৩১ লাখ ও নভেম্বরে ৫৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে গত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ২৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ফলে প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি থেকে গেছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ স্থলবন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা ।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ৯০ একর জমির ওপর বেনাপোল স্থলবন্দরের অবস্থান। ৫৯ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ বন্দরে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ পণ্য উঠানামা করে। দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১২টি বন্দরের অন্যতম বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য দেশে যতগুলো বন্দর রয়েছে, তার মধ্যে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় উন্নত। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থলবন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা জায়গায় পড়ে থেকে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ স্থলবন্দর থেকে বর্তমানে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে, তখন তার দ্বিগুণ আয় হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, অর্থনীতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিপুল অবদানের পাশাপাশি বেনাপোলের পারফরম্যান্সও অনেক ভালো। এরই মধ্যে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। জায়গা সংকটে বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও উন্নয়নকাজ চলছে। এ ছাড়া বেনাপোলকে আরো উন্নত করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি একনেকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদন হয়েছে। কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল হয়ে গেলে যানজট একেবারেই থাকবে না বলে আশা করছি। এর ফলে পণ্য পরিবহন বাড়বে। কাজ শেষ হলে বেনাপোল স্থলবন্দর একটি আধুনিক স্থলবন্দরে রূপান্তরিত হবে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ ঘাটতি পূরণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পণ্য চালান খালাসে আগের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে কাস্টম হাউজে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্য চালান কম আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আন্তরিক হয়ে কাজ করেছি। উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে পাথর ও মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ নিম্ন শুল্কহারের পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক শুল্কহারযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়েছে। প্রধান প্রধান রাজস্ব সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং বানিজ্যিক পণ্যের আমদানি আশংকাজনকভাবে পেয়েছে। কম মূল্যের পণ্য ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি বৃদ্ধিজনিত দীর্ঘ ট্রাকের সারির কারণে শুল্কযুক্ত পণ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্থ হয়। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আহরণ কমেছে কিন্তু আমদানিকারক ও সিএন্ডএফগণের সাথে কথা বলে এবং সাম্প্রতিক আমদানি পরিস্থিতি যাচাই করে দেখা যায়, নভ্বেম্বর মাসে চেসিসসহ প্রধান প্রধান রাজস্ব প্রদানকারী ও শিল্পশ্রেণীর পণ্যের আমদানি প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে, ফলে বর্তমান অর্থবছরের শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা বিদ্যমান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

চেসিস আমদানি হ্রাস, নিন্ম শুল্কহারের পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব কমেছে বেনাপোল কাস্টমসে

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯
তানজীর মহসিন :=

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউজে ক্রমেই কমছে রাজস্ব আহরণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা কম হয়েছে। বিগত অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব আহরণ ছিল ১৭৪৬ কোটি । রাজস্ব হ্রাস ২৮.২৬ শতাংশ ।

সুত্র মারফত জানা যায়, নিন্ম শুল্কহার ও মূল্যের পণ্যের আমদানি বিপুল পরিমানে বেড়েছে । ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি ৪৫৮৭০৮ মেট্রিক টন । ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি বেড়েছে ৩৪৯৫৭৬ মেট্রিক টন । প্রবৃদ্ধি ৩২০ শতাংশ । মোট আমদানিকৃত পণ্যের ৪৮ শতাংশই ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার । জানা গেছে, নিন্ম শুল্কহারের ৬৮ শতাংশ পণ্যে রাজস্ব আদায় ৬ শতাংশ ।

প্রধান প্রধান রাজস্ব প্রদানকারী এবং বানিজ্যিক পণ্য যেমন রাবার টায়ার, শাড়ি, থ্রিপিস, অটোপার্টস, কসমেটিক্স, পারফিউম ইত্যাদি আমদানি কমেছে । ২৫% শুল্কহারের পণ্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি আমদানি কমেছে ৩৭ শতাংস । কাস্টমসের সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সমান আমদানি হলে বর্তমান অর্থবছরে ৫০৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় সম্ভব হতো । ফলে রাজস্ব আদায় হতো ১৭৫৭ কোটি টাকা ।

আবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে নভেম্বর অবদি চেসিস আমদানি ১৯১৩৩ টি এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে চেসিস আমদানি ৭৭৮৫ টি । কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ । চেসিস আমদানি হ্রাস বেনাপোলে রাজস্ব কমে যাওয়ার মূল কারন । জানা গেছে, শুধু মাত্র পাঁচ থেকে ২০ টনের ডিজেল ইঞ্জিনের চেসিস থেকে নভেম্বর অবদি সময়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব কমেছে ৩০৭ কোটি টাকা । বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো সুবিধার ঘাটতি কারণে রাজস্ব আদায়ে এ ঘাটতি।তবে এটি শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী কাস্টমস কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই -নভেম্বর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪২৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৫৩ কোটি ৮০ লাখ, আগস্টে ৫০৬ কোটি ২৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ, অক্টোবরে ৪২৮ কোটি ৩১ লাখ ও নভেম্বরে ৫৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে গত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ২৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ফলে প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি থেকে গেছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ স্থলবন্দরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা ।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ৯০ একর জমির ওপর বেনাপোল স্থলবন্দরের অবস্থান। ৫৯ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ বন্দরে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ পণ্য উঠানামা করে। দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১২টি বন্দরের অন্যতম বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য দেশে যতগুলো বন্দর রয়েছে, তার মধ্যে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় উন্নত। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থলবন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে কমপক্ষে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে। খোলা জায়গায় পড়ে থেকে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে এ স্থলবন্দর থেকে বর্তমানে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে, তখন তার দ্বিগুণ আয় হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, অর্থনীতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিপুল অবদানের পাশাপাশি বেনাপোলের পারফরম্যান্সও অনেক ভালো। এরই মধ্যে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। জায়গা সংকটে বর্তমানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ ও উন্নয়নকাজ চলছে। এ ছাড়া বেনাপোলকে আরো উন্নত করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি একনেকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদন হয়েছে। কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল হয়ে গেলে যানজট একেবারেই থাকবে না বলে আশা করছি। এর ফলে পণ্য পরিবহন বাড়বে। কাজ শেষ হলে বেনাপোল স্থলবন্দর একটি আধুনিক স্থলবন্দরে রূপান্তরিত হবে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ ঘাটতি পূরণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পণ্য চালান খালাসে আগের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে কাস্টম হাউজে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে রাজস্ব বেশি আসে এমন পণ্য চালান কম আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব কিছুটা ঘাটতি হয়েছে। শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আন্তরিক হয়ে কাজ করেছি। উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে পাথর ও মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ নিম্ন শুল্কহারের পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক শুল্কহারযুক্ত পণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়েছে। প্রধান প্রধান রাজস্ব সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং বানিজ্যিক পণ্যের আমদানি আশংকাজনকভাবে পেয়েছে। কম মূল্যের পণ্য ব্রোকেন স্টোন ও বোল্ডার আমদানি বৃদ্ধিজনিত দীর্ঘ ট্রাকের সারির কারণে শুল্কযুক্ত পণ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্থ হয়। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটে রাজস্ব আহরণ কমেছে কিন্তু আমদানিকারক ও সিএন্ডএফগণের সাথে কথা বলে এবং সাম্প্রতিক আমদানি পরিস্থিতি যাচাই করে দেখা যায়, নভ্বেম্বর মাসে চেসিসসহ প্রধান প্রধান রাজস্ব প্রদানকারী ও শিল্পশ্রেণীর পণ্যের আমদানি প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে, ফলে বর্তমান অর্থবছরের শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা বিদ্যমান।