সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অন্যায়ের প্রতিবাদে ভারতে হিন্দুদের মুসলিম হওয়ার ধুম!

আ্লহাজ্ব মতিয়ার রহমান :=

ভারতে অ’ন্যায় ও অ’বিচারের প্র’তিবাদে এবার দলে দলে ই’সলাম ধ’র্ম গ্রহণ করতে যাচ্ছেন হাজারো দ’লিত শ্রেণির নাগরিক।আগামী ৫ জানুয়ারি দেশটির তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাটুর শহরের একটি গ্রামে প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক দলিত জা’তিগত বৈ’ষম্যের অ’ভিযোগ তু’লে হি’ন্দু সম্প্রদায় ছেড়ে মু’সলিম হওয়ার সি’দ্ধান্ত নেন।

গণমাধ্যম ‘দ্য হি’ন্দুর’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) গোষ্ঠীটির নেতারা বেশ কয়েক দফায় বৈঠকের পর নিজেদের চাঞ্চল্যকর এ সি’দ্ধান্তটি জানান। ঘটনার সূত্রপাত, গত ২ ডিসেম্বর চেন্নাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী নাদুরে এলাকায় প্ৰবল বৃষ্টির কারণে একটি দেয়াল ভে’ঙে দ’লিতদের বাড়িতে পড়ে।

এতে ১৭ জন দ’লিতের মৃ’’ত্যু হয়। যাদের মধ্যে ১০ জন না’রী ও ২ শি’শু রয়েছেন। দ’লিতদের অ’ভিযোগ, ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে সেই ভে’ঙে পড়া দেয়ালটির মালিক শিব সুমব্র মানিয়মকে গ্রে’’ফতার করলেও পরবর্তীকালে তিনি জা’মিন লাভ করেন। স্থানীয়দের মতে, উচ্চবর্ণের হি’ন্দুদের থেকে দ’লিতদের পৃথক করে রাখার জন্যই দেয়ালটির নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা দেয়ালটি কোনো রকম পিলার ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল। যে কারণে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে এটি ভে’ঙে পড়ে।

দ’লিতদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইলাভেনিল বলেন, ‘অ’ভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে জা’মিনে মু’ক্তি দেওয়া হলো। যদিও গণতান্ত্রিক উপায়ে ন্যায় বি’চারের দাবি জানানোয় এই সংগঠনের সভাপতি নাগাই তিরুভল্লুয়ানকে এখনো জে’লে আ’টক করে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জা’তিগত বৈ’ষম্যের শি’কার প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক দ’লিত এসব কারণেই হি’ন্দু সম্প্রদায় ছেড়ে মু’সলিম হওয়ার সি’দ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের মন অনেক বড়, সব ধর্মের লোকেরই জায়গা দিই : সাবেক পাক অধিনায়ক ইনজামাম

পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো দানিশ কানেরিয়ার প্রতি দলের অন্য ক্রিকেটারদের ধর্ম বিদ্বেষ। যা সর্বপ্রথম গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন দেশটির সাবেক পেসার শোয়েব আখতার। পরে তার সঙ্গে সুর মেলান কানেরিয়া নিজেও। শোয়েব আখতারের দাবি, শুধুমাত্র হিন্দু বলে দলে সুযোগ পেতেন না কানেরিয়া। এমনকি তার সঙ্গে একত্রে খেতেও চাইতো না পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার।

শোয়েব গণমাধ্যমে এমন কথা বলার পর, কানেরিয়াও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেসব ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশ করে দেয়ার ব্যাপারে। এটি নিয়েই এখন তোলপাড় চলছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও তৎকালীন কোচ জাভেদ মিঁয়াদাদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন শোয়েব ও কানেরিয়ার উদ্দেশ্যে। এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তখনকার পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইনজামাম উল হকও। তার মতে, পাকিস্তান দলে কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা বিদ্বেষ ছিলো না।

এক ভিডিওবার্তায় ইনজামাম বলেন, ‘দানিশের ব্যাপারে একটা বিতর্ক চলছে এখন। শোনা যাচ্ছে, দানিশ যখন খেলতো তখন তাকে দলের কিছু খেলোয়াড় দেখতে পারতো না। কেউ কেউ ওর সাথে খাবার খেতে চাইতো না, কেউ কেউ ওর সাথে বাইরে যেতে চাইতো না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই।’

তিনি যোগ করেন, ‘বেশ লম্বা সময় দানিশ যার অধিনায়কত্বে খেলেছে, সেটা হলাম আমি এবং কখনোই এটা মনে হয়নি যে আমাদের দলে কোনো খেলোয়াড় হিন্দু হওয়ার কারণে ওর সঙ্গে এমন ব্যবহার করে। আমাদের দলে এমন একজনও ছিলো বলে আমার মনে পড়ে না।’

এসময় দুইটি উদাহরণের মাধ্যমে এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝানোর চেষ্টা করেন ইনজামাম। তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন বলি, ইউসুফ ছিলো আমাদের দলে। সেও প্রথমে অমুসলিম ছিলো। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে ইউসুফ ইউহানা থেকে মোহাম্মদ ইউসুফ হলো। যদি সে আমাদের দলে ধর্ম বিদ্বেষ দেখত, তাহলে নিশ্চয়ই ধর্ম বদলাতো না।’

পাকিস্তানিদের মন অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি অনেক শুকরিয়া যে আমাদের দলে এমন কিছু ছিলো না। আমি এটা মানতে রাজি নই যে, আমাদের মন এত ছোট। যে কারণে আমরা এমন কিছু করবো এবং কাউকে নিজেদের সঙ্গে গ্রহণ করবো না।

আমার মতে, আমাদের পাকিস্তানিদের মন অনেক বড়। আমরা সব ধর্মের মানুষকেই মনে জায়গা করে দিতে পারি।’ এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় উদাহরণ দিয়ে ইনজামাম বলেন, ‘২০০৪ সালে ভারত ১৫ বছর পর আমাদের দেশে আসলো খেলতে। তখন এদেশের মানুষ ভারতের জন্য নিজেদের সবকিছু উজার করে দিয়েছিল। ভারতের খেলোয়াড়রা খেতে যাচ্ছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না।

শপিং করছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না। গাড়িতে উঠছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না। পরের বছর আমরা গেলাম ভারতে। তখনও একই চিত্র। তারা তো নিজেদের বাড়ি পর্যন্ত খুলে দিচ্ছিলো। বলছিলো যে, তোমরা আমাদের মেহমান। খাবার বানিয়ে খাওয়াচ্ছিলো, শপিংয়ের টাকা নিচ্ছিলো না, মাঠ ছেড়ে দিচ্ছিল তারা। দুইবারই আমি অধিনায়ক ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাই, আমরা তো জনসাধারণ পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে এমন ভালোবাসা আদান-প্রদান করে থাকি। আমার মনে হয় না কেউ দানিশের সঙ্গে এমন কিছু করতে পারে। আমার বিশ্বাস, আমাদের কেউ কারো প্রতি এতো বিরক্ত হয়ে যাবে যে এমন কিছু করবে। আমার মতে কেউ এমন কিছু বললে, সেটা আমাদের জন্য ঠিক নয়।’ ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

বিএনপির নেতাকর্মীদের কারাগারে প্রেরণ সরকারের প্রধান কর্মসূচি -মির্জা ফখরুল

অন্যায়ের প্রতিবাদে ভারতে হিন্দুদের মুসলিম হওয়ার ধুম!

প্রকাশের সময় : ১০:৩০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯
আ্লহাজ্ব মতিয়ার রহমান :=

ভারতে অ’ন্যায় ও অ’বিচারের প্র’তিবাদে এবার দলে দলে ই’সলাম ধ’র্ম গ্রহণ করতে যাচ্ছেন হাজারো দ’লিত শ্রেণির নাগরিক।আগামী ৫ জানুয়ারি দেশটির তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাটুর শহরের একটি গ্রামে প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক দলিত জা’তিগত বৈ’ষম্যের অ’ভিযোগ তু’লে হি’ন্দু সম্প্রদায় ছেড়ে মু’সলিম হওয়ার সি’দ্ধান্ত নেন।

গণমাধ্যম ‘দ্য হি’ন্দুর’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) গোষ্ঠীটির নেতারা বেশ কয়েক দফায় বৈঠকের পর নিজেদের চাঞ্চল্যকর এ সি’দ্ধান্তটি জানান। ঘটনার সূত্রপাত, গত ২ ডিসেম্বর চেন্নাই থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরবর্তী নাদুরে এলাকায় প্ৰবল বৃষ্টির কারণে একটি দেয়াল ভে’ঙে দ’লিতদের বাড়িতে পড়ে।

এতে ১৭ জন দ’লিতের মৃ’’ত্যু হয়। যাদের মধ্যে ১০ জন না’রী ও ২ শি’শু রয়েছেন। দ’লিতদের অ’ভিযোগ, ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে সেই ভে’ঙে পড়া দেয়ালটির মালিক শিব সুমব্র মানিয়মকে গ্রে’’ফতার করলেও পরবর্তীকালে তিনি জা’মিন লাভ করেন। স্থানীয়দের মতে, উচ্চবর্ণের হি’ন্দুদের থেকে দ’লিতদের পৃথক করে রাখার জন্যই দেয়ালটির নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা দেয়ালটি কোনো রকম পিলার ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল। যে কারণে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে এটি ভে’ঙে পড়ে।

দ’লিতদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইলাভেনিল বলেন, ‘অ’ভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে জা’মিনে মু’ক্তি দেওয়া হলো। যদিও গণতান্ত্রিক উপায়ে ন্যায় বি’চারের দাবি জানানোয় এই সংগঠনের সভাপতি নাগাই তিরুভল্লুয়ানকে এখনো জে’লে আ’টক করে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জা’তিগত বৈ’ষম্যের শি’কার প্রায় ৩ হাজারেরও অধিক দ’লিত এসব কারণেই হি’ন্দু সম্প্রদায় ছেড়ে মু’সলিম হওয়ার সি’দ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের মন অনেক বড়, সব ধর্মের লোকেরই জায়গা দিই : সাবেক পাক অধিনায়ক ইনজামাম

পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো দানিশ কানেরিয়ার প্রতি দলের অন্য ক্রিকেটারদের ধর্ম বিদ্বেষ। যা সর্বপ্রথম গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন দেশটির সাবেক পেসার শোয়েব আখতার। পরে তার সঙ্গে সুর মেলান কানেরিয়া নিজেও। শোয়েব আখতারের দাবি, শুধুমাত্র হিন্দু বলে দলে সুযোগ পেতেন না কানেরিয়া। এমনকি তার সঙ্গে একত্রে খেতেও চাইতো না পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার।

শোয়েব গণমাধ্যমে এমন কথা বলার পর, কানেরিয়াও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেসব ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশ করে দেয়ার ব্যাপারে। এটি নিয়েই এখন তোলপাড় চলছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও তৎকালীন কোচ জাভেদ মিঁয়াদাদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন শোয়েব ও কানেরিয়ার উদ্দেশ্যে। এবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তখনকার পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ইনজামাম উল হকও। তার মতে, পাকিস্তান দলে কখনোই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বা বিদ্বেষ ছিলো না।

এক ভিডিওবার্তায় ইনজামাম বলেন, ‘দানিশের ব্যাপারে একটা বিতর্ক চলছে এখন। শোনা যাচ্ছে, দানিশ যখন খেলতো তখন তাকে দলের কিছু খেলোয়াড় দেখতে পারতো না। কেউ কেউ ওর সাথে খাবার খেতে চাইতো না, কেউ কেউ ওর সাথে বাইরে যেতে চাইতো না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই।’

তিনি যোগ করেন, ‘বেশ লম্বা সময় দানিশ যার অধিনায়কত্বে খেলেছে, সেটা হলাম আমি এবং কখনোই এটা মনে হয়নি যে আমাদের দলে কোনো খেলোয়াড় হিন্দু হওয়ার কারণে ওর সঙ্গে এমন ব্যবহার করে। আমাদের দলে এমন একজনও ছিলো বলে আমার মনে পড়ে না।’

এসময় দুইটি উদাহরণের মাধ্যমে এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বুঝানোর চেষ্টা করেন ইনজামাম। তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন বলি, ইউসুফ ছিলো আমাদের দলে। সেও প্রথমে অমুসলিম ছিলো। পরে ধর্মান্তরিত হয়ে ইউসুফ ইউহানা থেকে মোহাম্মদ ইউসুফ হলো। যদি সে আমাদের দলে ধর্ম বিদ্বেষ দেখত, তাহলে নিশ্চয়ই ধর্ম বদলাতো না।’

পাকিস্তানিদের মন অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর প্রতি অনেক শুকরিয়া যে আমাদের দলে এমন কিছু ছিলো না। আমি এটা মানতে রাজি নই যে, আমাদের মন এত ছোট। যে কারণে আমরা এমন কিছু করবো এবং কাউকে নিজেদের সঙ্গে গ্রহণ করবো না।

আমার মতে, আমাদের পাকিস্তানিদের মন অনেক বড়। আমরা সব ধর্মের মানুষকেই মনে জায়গা করে দিতে পারি।’ এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় উদাহরণ দিয়ে ইনজামাম বলেন, ‘২০০৪ সালে ভারত ১৫ বছর পর আমাদের দেশে আসলো খেলতে। তখন এদেশের মানুষ ভারতের জন্য নিজেদের সবকিছু উজার করে দিয়েছিল। ভারতের খেলোয়াড়রা খেতে যাচ্ছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না।

শপিং করছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না। গাড়িতে উঠছে, কেউ টাকা নিচ্ছে না। পরের বছর আমরা গেলাম ভারতে। তখনও একই চিত্র। তারা তো নিজেদের বাড়ি পর্যন্ত খুলে দিচ্ছিলো। বলছিলো যে, তোমরা আমাদের মেহমান। খাবার বানিয়ে খাওয়াচ্ছিলো, শপিংয়ের টাকা নিচ্ছিলো না, মাঠ ছেড়ে দিচ্ছিল তারা। দুইবারই আমি অধিনায়ক ছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাই, আমরা তো জনসাধারণ পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে এমন ভালোবাসা আদান-প্রদান করে থাকি। আমার মনে হয় না কেউ দানিশের সঙ্গে এমন কিছু করতে পারে। আমার বিশ্বাস, আমাদের কেউ কারো প্রতি এতো বিরক্ত হয়ে যাবে যে এমন কিছু করবে। আমার মতে কেউ এমন কিছু বললে, সেটা আমাদের জন্য ঠিক নয়।’ ধর্মের পথে বদলে গিয়েছে যে ৫ ক্রিকেটারের জীবন

ধর্ম হচ্ছে এমন এক দর্শন ও বিশ্বাস যা মানুষকে আলোর পথের সন্ধান দেয়। হৃদয়ের অন্ধকারকে দূরে ঠেলে জ্যোতির্ময় করে তোলে মনপ্রাণ। পৃথিবীতে ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষ নিজ নিজ ধর্মের প্রতি অনুগত। আবার অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় রিচ্যুয়েলস অর্থায় আচার-আচরণ, বিধিবিধান ও রীতিনীতি পালনে সদা তৎপর। তারা জীবনকে ধর্মের আলোকে চালিত করে।

ধর্মীয় অনুশা’সন দ্বারা হয় চালিত। আমরা এমন অনেককেই চিনি এবং জানি যারা একেকজন বড় বড় কিংবদন্তি, সুপারস্টার। কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা কম। অথচ এই তারকারা ধর্মের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফলতার চর’ম শিখরে আরোহন করেছিলেন।

ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৫ মুসলিম ক্রিকেটারকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। যারা কিনা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে করেছেন সমুজ্জল। ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছেন নিজেদেরও। শুধুমাত্র ধর্মের পথে চলে ক্রিকেট মাঠের গজে একেকজন বনে গেছেন মহাতারকা।

১. সাইদ আনোয়ার : সাঈদ আনোয়ারকে শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের আদর্শ ভাবা হয়। মেয়ের মৃত্যুর পর শোকে মুহ্যমান এই এই ক্রিকেটার জীবনে প্রথমবার ধর্মের পথে শান্তির সন্ধান পেয়েছিলেন। তার পর থেকেই তাবলিগে জামাতের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসারে কাজ শুরু করেন। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছরই নিয়ম করে হাজির হন এই আইডল ব্যাটসম্যান।

২. মুহাম্মদ ইউসুফ : বোলারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোনও ছা’ড় দেয়নি তার ব্যাট। যদিও পাকিস্তানের সবচেয়ে ভদ্র ও বিনয়ী ক্রিকেটার বলা হয় তাকে। খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী ইউসুফ ইউহানা একসময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ সময় পার করেছেন। অবসর নেয়ার পর থেকে সক্রিয়ভাবে ধর্মপ্রচারের কাজে যুক্ত আছেন।

৩. হাশিম আমলা : তার মুখের সদা মৃদ্যু হাসিটা যেন ক্রিকেট বিশ্বের চোখে লেগে থাকে। আউট হলেও এতটুকু রেগে যান না। হেরে গেলেও না। হালের ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা। তাকে বলা হয় প্রোটিয়াদের রানমেশিন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কখনো রমজান মাসে খেলতে হলে রোজা রেখেই মাঠে নামেন তিনি। শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর ‘ক্যাসেল’ (মাদক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান) কোম্পানির লোগো গায়ে টি-শার্ট পরেন না।

৪. ইনজামাম-উল-হক : পাকিস্তান ক্রিকেটে তাকে বলা হয় ‘খুঁটি ব্যাটসম্যান’। একবার সেট হলে যার সামনে বাঘা বাঘা বোলাররাও হার মানতো। মুলতানের সুলতান খ্যাত পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান এখন তাবলিগ জামাতের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ইসলাম প্রচারে রত।