সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১৭ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভে ভারতের পর্যটন শিল্পে ধস

সম্রাট আকবর :=

বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-প্রতিবাদে চরম আঘাত খেয়েছে ভারতের পর্যটন শিল্প। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে উঠে দেশটির বেশিরভাগ রাজ্যই। পুলিশের বাধায় প্রায়ই সহিংস হয়ে উঠছে বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৬ বিক্ষোভকারী। আহত হয়েছে অসংখ্য। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে অন্তত সাতটি দেশ।

ফলে পর্যটক খরায় মারাত্মক ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র উত্তেজনাকর অবস্থার প্রেক্ষিতে বিদেশিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যাও।

চলতি মাসের ১১ তারিখে বলতে গেলে রাতারাতি ৫৫ বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে (সিএএ) আইন পাস করে ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকার। এতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনটিকে মুসলিমবিরোধী ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে বিরোধীরা। নাগরিকত্ব আইন সংসদে উত্থাপন হওয়ার সময় থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়, সে বিক্ষোভ এখন চলছে।

বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। আটক হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি নতুন আইনটি নিয়ে বিরোধী দলগুলো গুজব ছড়িয়ে বিক্ষোভে উস্কানি দিচ্ছে।

বিক্ষোভ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতে অবস্থানরত কিংবা ভ্রমণেচ্ছুক নিজেদের নাগরিকদের ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইসরাইল, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও তাইওয়ান।

ভারতে ভ্রমণের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় দূতাবাসে খোঁজ নেয়ার নির্দেশও দিয়েছে দেশগুলো। ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভের কারণে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় ২ লাখ পর্যটক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্থাপত্য তাজমহল ভ্রমণ বাতিল কিংবা স্থগিত করেছেন।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটক ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকের প্রবেশ শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে। সংবাদ মাধ্যমটি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জরিপ চালায়।

এই স্থল বন্দর দিয়ে আগে কমপক্ষে ৮০০ বাংলাদেশি প্রতিদিন ভারতে প্রবেশ করতেন। কিন্তু ওই চেকপোস্টের সূত্রগুলো বলেছে, সেই সংখ্যা এখন কমে এসেছে ৩০০তে। ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে ট্রেন চলাচল বাতিল হয়েছে। তাজমহল ট্যুরিস্ট পুলিশ স্টেশনের পরিদর্শক দীনেশ কুমার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় এবার তাজমহলে পর্যটক কমেছে ৬০ শতাংশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দীর্ঘ ২৪ বছর পর একই মঞ্চে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী

রাহুল-আথিয়া সাত পাকে বাঁধা পড়লেন

বেনাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে বসবে দুই বাংলার ভাষা প্রেমীদের মিলন মেলা -শেখ আফিল উদ্দিন, এমপি

বিক্ষোভে ভারতের পর্যটন শিল্পে ধস

প্রকাশের সময় : ০৮:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯
সম্রাট আকবর :=

বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ-প্রতিবাদে চরম আঘাত খেয়েছে ভারতের পর্যটন শিল্প। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে উঠে দেশটির বেশিরভাগ রাজ্যই। পুলিশের বাধায় প্রায়ই সহিংস হয়ে উঠছে বিক্ষোভ। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৬ বিক্ষোভকারী। আহত হয়েছে অসংখ্য। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে অন্তত সাতটি দেশ।

ফলে পর্যটক খরায় মারাত্মক ধস নেমেছে পর্যটন খাতে। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে তীব্র উত্তেজনাকর অবস্থার প্রেক্ষিতে বিদেশিদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যাও।

চলতি মাসের ১১ তারিখে বলতে গেলে রাতারাতি ৫৫ বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে (সিএএ) আইন পাস করে ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকার। এতে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনটিকে মুসলিমবিরোধী ও বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়েছে বিরোধীরা। নাগরিকত্ব আইন সংসদে উত্থাপন হওয়ার সময় থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়, সে বিক্ষোভ এখন চলছে।

বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। আটক হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি নতুন আইনটি নিয়ে বিরোধী দলগুলো গুজব ছড়িয়ে বিক্ষোভে উস্কানি দিচ্ছে।

বিক্ষোভ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতে অবস্থানরত কিংবা ভ্রমণেচ্ছুক নিজেদের নাগরিকদের ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ইসরাইল, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও তাইওয়ান।

ভারতে ভ্রমণের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় দূতাবাসে খোঁজ নেয়ার নির্দেশও দিয়েছে দেশগুলো। ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, বিক্ষোভের কারণে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় ২ লাখ পর্যটক বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্থাপত্য তাজমহল ভ্রমণ বাতিল কিংবা স্থগিত করেছেন।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটক ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকের প্রবেশ শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে। সংবাদ মাধ্যমটি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জরিপ চালায়।

এই স্থল বন্দর দিয়ে আগে কমপক্ষে ৮০০ বাংলাদেশি প্রতিদিন ভারতে প্রবেশ করতেন। কিন্তু ওই চেকপোস্টের সূত্রগুলো বলেছে, সেই সংখ্যা এখন কমে এসেছে ৩০০তে। ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ বিক্ষোভের কারণে ট্রেন চলাচল বাতিল হয়েছে। তাজমহল ট্যুরিস্ট পুলিশ স্টেশনের পরিদর্শক দীনেশ কুমার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় এবার তাজমহলে পর্যটক কমেছে ৬০ শতাংশ।