শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নতুন বইয়ে হাসবে সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী

রোকনুজ্জামান রিপন :=

নতুন বই আর নতুন আমেজে বছর শুরু করতে যাচ্ছে প্রায় সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী। বছরের প্রথম দিন তারা নতুন বইয়ের সোঁদা গন্ধে মাতোয়ারা হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নির্ধারিত দিনে বই পৌঁছে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতি বছরের মতো জানুয়ারির প্রথম দিনেই সারাদেশে প্রায় চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি নতুন বই বিতরণ করা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার বছরের শেষ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। পরদিন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে নতুন বই।

প্রতিবার আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এবার মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব হবে সাভারের অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। গত বছরের মতো এ বছরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পৃথকভাবে উৎসব পালন করা হবে দেশের প্রতিটি জেলায়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারো প্রাথমিক স্তরের দুই কোটি দুই লাখ ৮৪ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নয কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০টি পাঠ্যপুস্তক এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৮টি আমার বই ও ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৮টি অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৮ হাজার ৭৩৫ টি আমার বই ও ২৮ হাজার ৭৩৫টি অনুশীলন খাতা এবং প্রথম শ্রেণির ৭৪ হাজার ৮৪৭ টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৭৩ হাজার ৬৩৫ টি, তৃতীয় শ্রেণির ২৪ হাজার ১৫১টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। আপদকালীন জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা-থানা পর্যায়ে বাফার স্টকে ২ শতাংশ বই বরাদ্দ রাখা আছে।

এদিকে মাধ্যমিক স্তরে ও মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদ্রাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ তিন হাজার ৪১১টি বই। এইচএসসি বিএম ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ছয় হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫টি বই।

২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। এরপর ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে উৎসব করে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে।

বছরের শুরুর দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেয়া এই সরকারের একটি বড় সাফল্য। ২০১৪-১৫ সালে দেশে যখন রাজনৈতিক চরম অস্থিরতা ছিল তখনও এই ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটেনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

নতুন বইয়ে হাসবে সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী

প্রকাশের সময় : ১০:০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯
রোকনুজ্জামান রিপন :=

নতুন বই আর নতুন আমেজে বছর শুরু করতে যাচ্ছে প্রায় সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী। বছরের প্রথম দিন তারা নতুন বইয়ের সোঁদা গন্ধে মাতোয়ারা হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে নির্ধারিত দিনে বই পৌঁছে দেয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতি বছরের মতো জানুয়ারির প্রথম দিনেই সারাদেশে প্রায় চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি নতুন বই বিতরণ করা হবে।

আগামীকাল মঙ্গলবার বছরের শেষ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। পরদিন সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে নতুন বই।

প্রতিবার আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এবার মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব হবে সাভারের অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। গত বছরের মতো এ বছরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পৃথকভাবে উৎসব পালন করা হবে দেশের প্রতিটি জেলায়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চার কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই বিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারো প্রাথমিক স্তরের দুই কোটি দুই লাখ ৮৪ হাজার ৫১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নয কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০টি পাঠ্যপুস্তক এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৮টি আমার বই ও ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৮টি অনুশীলন খাতা বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৮ হাজার ৭৩৫ টি আমার বই ও ২৮ হাজার ৭৩৫টি অনুশীলন খাতা এবং প্রথম শ্রেণির ৭৪ হাজার ৮৪৭ টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৭৩ হাজার ৬৩৫ টি, তৃতীয় শ্রেণির ২৪ হাজার ১৫১টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। আপদকালীন জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা-থানা পর্যায়ে বাফার স্টকে ২ শতাংশ বই বরাদ্দ রাখা আছে।

এদিকে মাধ্যমিক স্তরে ও মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদ্রাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ তিন হাজার ৪১১টি বই। এইচএসসি বিএম ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ছয় হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫টি বই।

২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। এরপর ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে উৎসব করে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে।

বছরের শুরুর দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেয়া এই সরকারের একটি বড় সাফল্য। ২০১৪-১৫ সালে দেশে যখন রাজনৈতিক চরম অস্থিরতা ছিল তখনও এই ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটেনি।