যশোর ব্যুরো :=
স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় সরকারি এম এম কলেজের বাংলা প্রভাষক মারফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের ১৩ জুন থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ২৯ জানুয়ারি ২০২০ ভূতাপেক্ষা এ বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার বালিয়া ডাঙ্গা খানপুর গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লার ছেলে শিক্ষা ক্যাডার ও সরকারি এম এম কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মারফুজ্জামান ২০ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে একই উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের রবিউল ইসলামের কন্যা কেয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের ঘরে ৩ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে চাপ দিয়ে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেল, অন্য কলেজ থেকে বদলি হয়ে আসার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র নেন। এছাড়া তিনি বাড়ি নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। এই টাকার দাবিতে গত বছরের ৪ মার্চ সন্ধ্যায় স্ত্রীর ওপর শাররীক নির্যাতন চালান। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বদ্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখেন। সংবাদ পেয়ে মেয়ের পিতা রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন মেয়েকে আনার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে থানা পুলিশের সহায়তায় ১২ মার্চ মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। কিন্তু আসামি শিক্ষা ক্যাডার হওয়ায় থানায় মামলা না নিয়ে সন্ধ্যায় পিতার কাছে মেয়ে কেয়াকে তুলে দেয়। বাড়ি এসে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৩ মার্চ যশোর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ১৬ মার্চ হাসপাতাল থেকে বাড়ি এনে আপোশ মীমাংসার জন্য বার বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ১৮ মার্চ ২০১৯ মণিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২০। মামলাটির চার্জশিট আদালতে প্রদান করেছে পুলিশ। একই সাথে কেয়া খাতুন বাদী হয়ে যৌতুক বিরোধী আইনে ঢাকার সি এম এম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর সি আর ২২৪/২০১৯। বিজ্ঞ আদালত আসামিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেন। হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন ওই প্রভাষক। এদিকে স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলার আসামি প্রভাষক মারফুজ্জামানকে বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
মামলার আগে স্ত্রী কেয়া খাতুন সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপোশ মীমাংসার গত ১০ আগস্ট ২০১৯ সরকারি এমএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেন। অধ্যক্ষসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান চেষ্টা করে কোন সমাধানে আনতে পারেননি।মেয়ের পিতা রবিউল ইসলাম জানান, মেয়ে ও নাতনী মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রভাষক মারফুজ্জামান বলেন, মামলায় জামিনে আছি।সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন জানান, প্রভাষক মারফুজ্জামানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মহসিন মিলন
সম্পাদকীয় পরিষদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: নুরুজ্জামান লিটন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: রোকনুজ্জামান রিপন, নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুল লতিফ, যুগ্ন নির্বাহী সম্পাদক: আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান, সহকারী সম্পাদক: সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ, মামুন বাবু, বার্তা সম্পাদক: নজরুল ইসলাম
সম্পাদকীয় কার্যালয়
বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়: গাজীপুর আবাসিক এলাকা, বেনাপোল, যশোর। ইমেইল: mohsin.milon@gmail.com, bartakontho@gmail.com ফোন: ৭৫২৮৯, ৭৫৬৯৫ মোবা: ০১৭১১৮২০৩৯৪
All Rights Reserved © Barta Kontho