রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে আম আদমি পার্টির হ্যাটট্রিক জয়ে কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন মমতার

কলকাতা ব্যুরো :

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (আপ) হ্যাটট্রিক জয়ে দলটির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা, বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে যারা খেলে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে আপের এই ফল তাদের জন্য এক ধরনের জবাব।

এবারের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে দিল্লির মসনদে টানা তিন মেয়াদে বসছে আম আদমি পার্টি। এর ফলে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিল্লি শাসনের স্বপ্ন গত ২০ বছরের মতো অধরাই রয়ে গেল।

সামাজিকে যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় মমতা বলেন, ২০২০ সালের দিল্লি নির্বাচনে আম আদমি পার্টি আবারও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাওয়ায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন। যেসব নেতা ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এবং বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্বাস নিয়ে খেলে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যারা কাজ করেন তারা পুরস্কৃত হন।

এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দলটিকে আবারও বেছে নিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএসকে দেয়া স্বাক্ষাৎকারে তৃণমূলের এই প্রধান বলেন, ‘দিল্লিতে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। দেশের সর্বত্র সব নির্বাচনে বিজেপি হারছে। মানুষ বিভাজনের রাজনীতি চায় না।’

গত শনিবার দিল্লির ৭০ আসনের বিধানসভার ভোটগ্রহণ শেষ হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ৬৩ আসনে জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। ভোটগণনার শুরুর দিকে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে আম আদমি পার্টির সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে।

বিজেপি ৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভরাডুবির মধ্যে বিজেপির একমাত্র সান্ত্বনা, গতবারের নির্বাচনে মাত্র ৩টি আসন পেলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে সাতটি। ২০১৫ সালের ওই নির্বাচনে আম আদমি পার্টিও ৬৭ আসনে জয় পেয়েছিল।

দিল্লির গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে সাতটি আসনের সবগুলোতে জয় পাওয়ায় বিধানসভায় জয়ের ব্যাপারে বিজেপির আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশচুম্বী। কেন্দ্রীয় ৭০ জন মন্ত্রী, দিল্লির লোকসভার ২৭০ এমপি ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এই নির্বাচনে বিজেপির হয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেছেন।

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেজরিওয়ালের বেশ কয়েক বছরের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর দেশটির সাধারণ নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একইভাবে কলকাতার পুলিশ প্রধান রাজিব কুমার ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে বিপরীতমুখী অবস্থানে মমতার প্রতি সমর্থন জানান দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রী।

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে টানা বিক্ষোভের মাঝেই শনিবার নয়াদিল্লি বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক চাপের মুখে থাকা বিজেপি দিল্লির নির্বাচনে সুবিধা করতে পারবে না বলে বিশ্লেষকরা আগে থেকেই আভাষ দিয়েছেন।

২০১৩ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় আম আদমি পার্টি। নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ২৮টি জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এএপির। ভারতীয় জনতা পার্টি এই নির্বাচনে ৩১টি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৮টি আসন জয় পায়। ৩টি আসনে জয়ী হয় অন্যান্য দল।

ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর আম আদমি পার্টি দিল্লি বিধানসভায় সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে। সরকার গঠনে কংগ্রেস কেজরিওয়ালের এই দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। ফলে বিজেপিকে হারিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

দিল্লিতে আম আদমি পার্টির হ্যাটট্রিক জয়ে কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন মমতার

প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

কলকাতা ব্যুরো :

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (আপ) হ্যাটট্রিক জয়ে দলটির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা, বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে যারা খেলে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে আপের এই ফল তাদের জন্য এক ধরনের জবাব।

এবারের নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে দিল্লির মসনদে টানা তিন মেয়াদে বসছে আম আদমি পার্টি। এর ফলে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিল্লি শাসনের স্বপ্ন গত ২০ বছরের মতো অধরাই রয়ে গেল।

সামাজিকে যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় মমতা বলেন, ২০২০ সালের দিল্লি নির্বাচনে আম আদমি পার্টি আবারও ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাওয়ায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন। যেসব নেতা ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এবং বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে বিশ্বাস নিয়ে খেলে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যারা কাজ করেন তারা পুরস্কৃত হন।

এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লির ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দলটিকে আবারও বেছে নিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএসকে দেয়া স্বাক্ষাৎকারে তৃণমূলের এই প্রধান বলেন, ‘দিল্লিতে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। দেশের সর্বত্র সব নির্বাচনে বিজেপি হারছে। মানুষ বিভাজনের রাজনীতি চায় না।’

গত শনিবার দিল্লির ৭০ আসনের বিধানসভার ভোটগ্রহণ শেষ হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ৬৩ আসনে জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। ভোটগণনার শুরুর দিকে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে আম আদমি পার্টির সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে।

বিজেপি ৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভরাডুবির মধ্যে বিজেপির একমাত্র সান্ত্বনা, গতবারের নির্বাচনে মাত্র ৩টি আসন পেলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে সাতটি। ২০১৫ সালের ওই নির্বাচনে আম আদমি পার্টিও ৬৭ আসনে জয় পেয়েছিল।

দিল্লির গত বছরের লোকসভা নির্বাচনে সাতটি আসনের সবগুলোতে জয় পাওয়ায় বিধানসভায় জয়ের ব্যাপারে বিজেপির আত্মবিশ্বাস ছিল আকাশচুম্বী। কেন্দ্রীয় ৭০ জন মন্ত্রী, দিল্লির লোকসভার ২৭০ এমপি ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এই নির্বাচনে বিজেপির হয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেছেন।

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেজরিওয়ালের বেশ কয়েক বছরের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর দেশটির সাধারণ নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একইভাবে কলকাতার পুলিশ প্রধান রাজিব কুমার ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে বিপরীতমুখী অবস্থানে মমতার প্রতি সমর্থন জানান দিল্লির এই মুখ্যমন্ত্রী।

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে টানা বিক্ষোভের মাঝেই শনিবার নয়াদিল্লি বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নতুন এই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক চাপের মুখে থাকা বিজেপি দিল্লির নির্বাচনে সুবিধা করতে পারবে না বলে বিশ্লেষকরা আগে থেকেই আভাষ দিয়েছেন।

২০১৩ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় আম আদমি পার্টি। নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ২৮টি জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে এএপির। ভারতীয় জনতা পার্টি এই নির্বাচনে ৩১টি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৮টি আসন জয় পায়। ৩টি আসনে জয়ী হয় অন্যান্য দল।

ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর আম আদমি পার্টি দিল্লি বিধানসভায় সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে। সরকার গঠনে কংগ্রেস কেজরিওয়ালের এই দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। ফলে বিজেপিকে হারিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।