শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রেম বিরহে ভারতের শিল্পপতি টাটা আর বিয়ে করলেন না

মো: ইদ্রিস আলী :=

প্রেম সবার জীবনে কম-বেশি এক-আধবার উঁকিঝুঁকি দেয়। বাদ ছিলেন না ভারতের অন্যতম শিল্পপতি চিরকুমার রতন টাটা।তবে তাঁর জীবনেও প্রেম এসেছিল। বিয়েটাও প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। দাদির অসুস্থতা ও ইন্দো-চিন যুদ্ধের কারণে টাটার সম্পর্কের ইতি টানতে হয়েছিল।বিশ্বজুড়েই শিল্পপতি রতন টাটার নাম প্রায় সবারই জানা।  ফেসবুক পেজ হিউম্যানস অব বম্বেতে সে গল্পই বলেছেন রতন টাটা।হিউম্যানস অব বম্বেতে নিজের জীবনের তিন অধ্যায়ের গল্প বলেছেন রতন টাটা। এনডিটিভিতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে এই পোস্টে। তিন হাজারের বেশি শেয়ার হয়। মন্তব্য আসে ১৬০০।

রতন টাটা স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সে সময়টা খুব ভালো ছিল। আবহাওয়া ছিল সুন্দর। আমার নিজের একটি গাড়ি ছিল। চাকরিটা করতেও খুব ভালো লাগত।’পড়াশুনা শেষে লস অ্যাঞ্জেলসে চাকরি নেন রতন টাটা। সেখানে তিনি দুই বছর চাকরি করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসেই এক নারীর প্রেমে পড়েন রতন টাটা। বিয়েটাও প্রায় হয়ে যাচ্ছিল। সে সময়ই দাদির অসুস্থতার জন্য টাটাকে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি ভেবেছিলেন, যে নারীকে তিনি ভালোবাসেন তিনিও তাঁর সঙ্গে ভারতে যাবেন। ১৯৬২ সালে ইন্দো-চীন যুদ্ধের কারণে ওই নারীর মা-বাবা তা চাননি। টাটার সঙ্গে সেই নারীর সম্পর্কের সেখানেই শেষ।

হিউম্যানস অব বম্বেতে রতন টাটা (৮২) তাঁর জীবনের অনেক গল্পই বলেছেন। এর মধ্যে আছে, মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবনটা কেমন ছিল, কীভাবে দাদির সঙ্গে শৈশব কেটেছে, দাদি তাঁকে জীবনে কী শিখিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জীবন, সে সময়ে প্রেমে পড়ার গল্প।রতন টাটা বলেছেন, তাঁর শৈশব ছিল খুব আনন্দের। যদিও মা-বাবার বিচ্ছেদের প্রভাব তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের ওপর পড়েছিল।

১০ বছর বয়সে রতন টাটার মা নাভাল ও বাবা সোনি টাটার বিচ্ছেদ হয়। দাদি নাভাজবাই টাটার কাছেই বড় হন রতন টাটা।রতন টাটা বলেন, ‘এখনো মনে পড়ে, দাদি আমাকে ও আমার ভাইকে গরমের ছুটিতে লন্ডন নিয়ে যেতেন। দাদি আমাদের জীবনের বিভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে জ্ঞান দিতেন। শেখাতেন কোন কথা বলতে হয় না, কোন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে হয়।’

বাবার সঙ্গে বেশ দূরত্ব ছিল রতন টাটার। বলেছেন, ‘আমি বেহালা বাজানো শিখতে চাইতাম। কিন্তু বাবা আমাকে পিয়ানো শেখাতে চাইতেন। আমি যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়তে চাইতাম। কিন্তু তিনি চাইতেন আমি যুক্তরাজ্যে পড়ি। আমি স্থপতি হতে চেয়েছিলাম। বাবা আমাকে প্রকৌশলী বানাতে চেয়েছিলেন।’হিউম্যানস অব বম্বে পেজযুক্তরাষ্ট্রে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন রতন টাটা। সে জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান দাদিকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

প্রেম বিরহে ভারতের শিল্পপতি টাটা আর বিয়ে করলেন না

প্রকাশের সময় : ০৭:৪২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০
মো: ইদ্রিস আলী :=

প্রেম সবার জীবনে কম-বেশি এক-আধবার উঁকিঝুঁকি দেয়। বাদ ছিলেন না ভারতের অন্যতম শিল্পপতি চিরকুমার রতন টাটা।তবে তাঁর জীবনেও প্রেম এসেছিল। বিয়েটাও প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। দাদির অসুস্থতা ও ইন্দো-চিন যুদ্ধের কারণে টাটার সম্পর্কের ইতি টানতে হয়েছিল।বিশ্বজুড়েই শিল্পপতি রতন টাটার নাম প্রায় সবারই জানা।  ফেসবুক পেজ হিউম্যানস অব বম্বেতে সে গল্পই বলেছেন রতন টাটা।হিউম্যানস অব বম্বেতে নিজের জীবনের তিন অধ্যায়ের গল্প বলেছেন রতন টাটা। এনডিটিভিতে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়ে এই পোস্টে। তিন হাজারের বেশি শেয়ার হয়। মন্তব্য আসে ১৬০০।

রতন টাটা স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সে সময়টা খুব ভালো ছিল। আবহাওয়া ছিল সুন্দর। আমার নিজের একটি গাড়ি ছিল। চাকরিটা করতেও খুব ভালো লাগত।’পড়াশুনা শেষে লস অ্যাঞ্জেলসে চাকরি নেন রতন টাটা। সেখানে তিনি দুই বছর চাকরি করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসেই এক নারীর প্রেমে পড়েন রতন টাটা। বিয়েটাও প্রায় হয়ে যাচ্ছিল। সে সময়ই দাদির অসুস্থতার জন্য টাটাকে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি ভেবেছিলেন, যে নারীকে তিনি ভালোবাসেন তিনিও তাঁর সঙ্গে ভারতে যাবেন। ১৯৬২ সালে ইন্দো-চীন যুদ্ধের কারণে ওই নারীর মা-বাবা তা চাননি। টাটার সঙ্গে সেই নারীর সম্পর্কের সেখানেই শেষ।

হিউম্যানস অব বম্বেতে রতন টাটা (৮২) তাঁর জীবনের অনেক গল্পই বলেছেন। এর মধ্যে আছে, মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবনটা কেমন ছিল, কীভাবে দাদির সঙ্গে শৈশব কেটেছে, দাদি তাঁকে জীবনে কী শিখিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জীবন, সে সময়ে প্রেমে পড়ার গল্প।রতন টাটা বলেছেন, তাঁর শৈশব ছিল খুব আনন্দের। যদিও মা-বাবার বিচ্ছেদের প্রভাব তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের ওপর পড়েছিল।

১০ বছর বয়সে রতন টাটার মা নাভাল ও বাবা সোনি টাটার বিচ্ছেদ হয়। দাদি নাভাজবাই টাটার কাছেই বড় হন রতন টাটা।রতন টাটা বলেন, ‘এখনো মনে পড়ে, দাদি আমাকে ও আমার ভাইকে গরমের ছুটিতে লন্ডন নিয়ে যেতেন। দাদি আমাদের জীবনের বিভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়ে জ্ঞান দিতেন। শেখাতেন কোন কথা বলতে হয় না, কোন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকতে হয়।’

বাবার সঙ্গে বেশ দূরত্ব ছিল রতন টাটার। বলেছেন, ‘আমি বেহালা বাজানো শিখতে চাইতাম। কিন্তু বাবা আমাকে পিয়ানো শেখাতে চাইতেন। আমি যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়তে চাইতাম। কিন্তু তিনি চাইতেন আমি যুক্তরাজ্যে পড়ি। আমি স্থপতি হতে চেয়েছিলাম। বাবা আমাকে প্রকৌশলী বানাতে চেয়েছিলেন।’হিউম্যানস অব বম্বে পেজযুক্তরাষ্ট্রে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন রতন টাটা। সে জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান দাদিকে।