মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় ঋণে মোংলাবন্দরের উন্নয়নসহ ৯ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

রোকনুজ্জামান রিপন :=

ভারতীয় ঋণে মোংলাবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবতী,আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো.ফয়েজউল্লাহ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীসসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত। বিদেশিরা এ দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে। তবে পরিবেশ ও আমাদের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় ঘটলে আমরা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করব। এ ছাড়া যেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, সেখানে যেন আপদকালীন দ্রুত নৌচলাচল ব্যবস্থা থাকে সেটি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের যে সব স্থান দিয়ে মালামাল পরিবহন হয় সেখানে স্ক্যানার মেশিন বসাতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মোংলাবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি ২১ লাখ এবং ভারতীয় এলওসি থেকে ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এ ছাড়া নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্যয় ৪০৭ কোটি টাকা। শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা সড়ক উন্নয়ন, ব্যয় ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন, ব্যয় ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা, ব্যয় ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ব্যয় ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ব্যয় ১১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ভারতীয় ঋণে মোংলাবন্দরের উন্নয়নসহ ৯ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০
রোকনুজ্জামান রিপন :=

ভারতীয় ঋণে মোংলাবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড.শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবতী,আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো.ফয়েজউল্লাহ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গীসসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী চিন্তিত। বিদেশিরা এ দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইলে সহযোগিতা করা হবে। তবে পরিবেশ ও আমাদের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় ঘটলে আমরা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করব। এ ছাড়া যেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, সেখানে যেন আপদকালীন দ্রুত নৌচলাচল ব্যবস্থা থাকে সেটি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের যে সব স্থান দিয়ে মালামাল পরিবহন হয় সেখানে স্ক্যানার মেশিন বসাতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মোংলাবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫৫ কোটি ২১ লাখ এবং ভারতীয় এলওসি থেকে ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এ ছাড়া নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ব্যয় ৪০৭ কোটি টাকা। শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা সড়ক উন্নয়ন, ব্যয় ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন, ব্যয় ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা, ব্যয় ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ব্যয় ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। হাওরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, ব্যয় ১১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।