শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইবি’র শহীদ মিনারে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হট্টগোল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় শহীদ মিনারের বেদিতেই হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা। বিশ^বিদ্যালয়ের নবগঠিত কর্মকর্তা সংগঠন ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘নির্বাচন কমিশন বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ নামে গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে গেলে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দীর্ঘক্ষণ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন স্থগিত থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, অমর একুশ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি শোকর‌্যালি বের করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো অংশ নেয়। পরে তারা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণে মিলিত হন। সেখানে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষ হলে একে একে অন্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। একইসময় পর্যায়ক্রমে ফুল দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদকে আহ্বান জানানো হয়। পরে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন’ ও ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’কে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে বলা হয়। এতেই বাধে হট্টগোল।

অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন ও অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু নির্বাচন কমিশন এবং আলমগীর হোসেন খানের নেতৃত্বে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন শ্রদ্ধা জানান। এসময় বঙ্গবন্ধু পরিষেদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন এবং কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহা, সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান তদের ফুল দেওয়ার জন্য তাদের নাম ঘোষণা করায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।

তারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নির্বাচিত সংগঠন নয় তারা কেন ফুল দিবে? এনিয়ে জানতে সঞ্চালকের কাছে যান তারা। এতে শহীদ মিনারের মূল বেদিতেই হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ এসে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও পরিস্থতি অপরিবর্তিত থাকে। এসময় তার সাথেও উচ্চ-বাচ্য করেন তারা। একপর্যায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কর্তৃপক্ষের। পরে দিকনির্দেশনা না মেনে ফুল দেওয়া, বেদীতে উঠা-নামা, ছবি ও সেলফি তুলতে যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এছাড়াও বেদীর উপর জুতা রেখে ফুল দিতে দেখা যায় অনেককে। এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য ও জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান এসে সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ করেন। পরে তার সাথেও উচ্চ-বাচ্য করেন উত্তেজিতরা। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ^াস দিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংগঠনকে বিতর্কিত করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশনের ব্যানারে ফুল দিতে আসলে আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছি।’

এবিষয়ে শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে তবে বেদীতে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে এরকম পরিস্থিতি না হওয়াই সমীচীন ছিলো।’

প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এটি। শহীদ মিনারে হট্টগোলের ঘটনা দুঃখজনক। আমি সবাইকে বিশৃঙ্খলা না করতে অনুরোধ করেছিলাম।’

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

ব্রায়ান লারার অপরাজিত ৪০০ রানের রেকর্ড, দু’দশক আজ

ইবি’র শহীদ মিনারে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হট্টগোল

প্রকাশের সময় : ১০:২৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের সময় শহীদ মিনারের বেদিতেই হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা। বিশ^বিদ্যালয়ের নবগঠিত কর্মকর্তা সংগঠন ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘নির্বাচন কমিশন বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ নামে গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে গেলে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দীর্ঘক্ষণ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন স্থগিত থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, অমর একুশ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি শোকর‌্যালি বের করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলো অংশ নেয়। পরে তারা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণে মিলিত হন। সেখানে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষ হলে একে একে অন্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। একইসময় পর্যায়ক্রমে ফুল দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদকে আহ্বান জানানো হয়। পরে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন’ ও ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’কে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে বলা হয়। এতেই বাধে হট্টগোল।

অধ্যাপক ড. কাজী আখতার হোসেন ও অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু নির্বাচন কমিশন এবং আলমগীর হোসেন খানের নেতৃত্বে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন শ্রদ্ধা জানান। এসময় বঙ্গবন্ধু পরিষেদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিন এবং কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামসুল ইসলাম জোহা, সম্পাদক মীর মোর্শেদুর রহমান তদের ফুল দেওয়ার জন্য তাদের নাম ঘোষণা করায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান।

তারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নির্বাচিত সংগঠন নয় তারা কেন ফুল দিবে? এনিয়ে জানতে সঞ্চালকের কাছে যান তারা। এতে শহীদ মিনারের মূল বেদিতেই হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ এসে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও পরিস্থতি অপরিবর্তিত থাকে। এসময় তার সাথেও উচ্চ-বাচ্য করেন তারা। একপর্যায়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরিবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কর্তৃপক্ষের। পরে দিকনির্দেশনা না মেনে ফুল দেওয়া, বেদীতে উঠা-নামা, ছবি ও সেলফি তুলতে যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এছাড়াও বেদীর উপর জুতা রেখে ফুল দিতে দেখা যায় অনেককে। এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য ও জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান এসে সবাইকে শান্ত হতে অনুরোধ করেন। পরে তার সাথেও উচ্চ-বাচ্য করেন উত্তেজিতরা। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ^াস দিতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সংগঠনকে বিতর্কিত করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশনের ব্যানারে ফুল দিতে আসলে আমরা আমাদের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছি।’

এবিষয়ে শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে তবে বেদীতে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে এরকম পরিস্থিতি না হওয়াই সমীচীন ছিলো।’

প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ এটি। শহীদ মিনারে হট্টগোলের ঘটনা দুঃখজনক। আমি সবাইকে বিশৃঙ্খলা না করতে অনুরোধ করেছিলাম।’